খুলনা | মঙ্গলবার | ১২ মে ২০২৬ | ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩

সুন্দরবনে অস্ত্র ও গুলিসহ বনদস্যু ‘মেজ জাহাঙ্গীর’ আটক

মোংলা প্রতিনিধি |
০২:৩৭ পি.এম | ১২ মে ২০২৬


সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে এবং উপকূলীয় জেলে ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। বনের ত্রাস হিসেবে পরিচিত কুখ্যাত বনদস্যু ‘মেজ জাহাঙ্গীর বাহিনী’র প্রধান মোঃ জাহিদুল ইসলাম ওরফে মেজ জাহাঙ্গীরকে (৫৬) আটক করা হয়েছে। এ সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র ও তাজা গোলাবারুদ। কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান।

কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের সদর দপ্তর সূত্রে জানায়, সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা নির্মূলে বর্তমানে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান চলমান রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ১২ মে মঙ্গলবার মধ্যরাত ১টার দিকে বিসিজিএস তৌহিদ-এর নির্বাহী কর্মকর্তা লেঃ ইকরা মোহাম্মদ নাসিফের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল সুন্দরবনের শিবসা নদীর আদাচাই ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন কালীর খাল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এই অভিযানে বনদস্যু বাহিনীর প্রধান মেজ জাহাঙ্গীরকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বনের আস্তানা থেকে ২টি একনলা বন্দুক ও ৫ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করেন কোস্ট গার্ড সদস্যরা। আটককৃত জাহিদুল ইসলাম নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে নিজের বাহিনী গঠন করে দস্যুতা, সাধারণ জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়, জেলেদের জিম্মি এবং জেলেদের আহরিত মৎস্য সম্পদ লুণ্ঠন করে আসছিলেন।

বিসিজিএস তৌহিদ-এর নির্বাহী কর্মকর্তা লেঃ ইকরা মোহাম্মদ নাসিফ জানায়, গত ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর থেকেই সুন্দরবনের বন জলদস্যু নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। পরে কোস্ট গার্ডসহ বিভিন্ন বাহিনীর অভিযান তৎপরতার কারণে কিছুটা কমে আসলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল সুন্দরবনে পুনরায় দস্যু তৎপরতা শুরুর চেষ্টা করছিল। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় কোস্ট গার্ড এখন অপরাধীদের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি গ্রহণ করেছে। গত কয়েক মাসে করিম শরীফ, ছোট সুমন, ছোট জাহাঙ্গীর, বড় জাহাঙ্গীর, নানা ভাই ও আসাবুর ও আলিফ বাহিনীর মতো একাধিক দস্যু দলকেও এই অভিযানের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। তারপরেও যতগুলো বাহিনী বর্তমানে সুন্দরবনে জেলেদের জিম্মি ও মুক্তিপনসহ অপরাধ মুলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে তাদেরকেও নির্মুল করা হবে।

জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আটককৃত ডাকাতকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তররের প্রক্রিয়া চলছে। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের সমূলে নির্মূল না করা পর্যন্ত সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে এই বিশেষ অভিযান এবং টহল অব্যাহত থাকবে। 
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ