খুলনা | মঙ্গলবার | ১২ মে ২০২৬ | ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩

পাকিস্তানের বিপক্ষে ‘হ্যাটট্রিক’ টেস্ট জয় বাংলাদেশের

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
০৫:০৬ পি.এম | ১২ মে ২০২৬


‘যদি তারা যথেষ্ট সাহসী হয় এটা করার জন্য, ৭০ ওভারে ২৬০ রানের লক্ষ্য দেয়, আমরা তাহলে তা তাড়া করব। কিন্তু আমার মনে হয় না তারা তা করবে।’ চতুর্থ দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ জানানোর পাশাপাশি ছোটখাটো হুমকিও দিয়ে রেখেছিলেন সালমান আলী আঘা। পাকিস্তানের ব্যাটার একটা মাইন্ড গেম খেলতে চেয়েছিলেন, সেটা পেরেছেনও। সালমানের সেই চ্যালেঞ্জ লুফে নিতে একটুও সময় নেননি নাজমুল হোসেন শান্ত। লাঞ্চের তখনো কয়েক মিনিট বাকি।

বাংলাদেশের লিড তখন ২৬৭ রান। নাহিদ রানাকে ব্যাটিংয়ে না পাঠিয়ে ইনিংস ঘোষণা করলেন শান্ত। সালমান যা চেয়েছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক তাই দিলেন। তবে নিজের চ্যালেঞ্জে নিজে উতরে যেতে পারলেন না সালমান। ডানহাতি ব্যাটার আউট হয়েছেন মাত্র ২৬ রানে। বাকি সতীর্থদের ভেতরে আব্দুল্লাহ ফজল হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। তবুও দুই সেশনে জয় বের করতে পারেনি পাকিস্তান। উল্টো শেষ বিকেলে ড্রয়ের জন্য জান-প্রাণ দিয়ে খেলেও ম্যাচ হারে পাকিস্তান।

নাহিদ রানার আগুনঝরা বোলিংয়ে মাত্র ১৬৩ রানে অলআউট করে ১০৪ রানের বড় জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা। তাতেই দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল নাজমুল হাসান শান্ত বাহিনী।

পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট ম্যাচ জয়ের জন্য ২০ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। এই দুই দশকে টানা ১১টি ম্যাচে হেরেছে টাইগাররা। অবশেষে ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে গিয়ে মিলেছে প্রথম জয়ের দেখা। দুই ম্যাচের ওই সিরিজে ২-০ ব্যবধানেই জিতেছিল বাংলাদেশ। আর এবার মিরপুর টেস্টেও পাকিস্তানকে হারালেন শান্তরা।

২৬৮ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই পাকিস্তানি ওপেনার ইমাম-উল হককে সাজঘরে ফেরান তাসকিন আহমেদ। তার করা বলে কটবিহাইন্ড হন ইমাম। আউট হওয়ার আগে করেন ৫ বলে ২ রান। আরেক ওপেনার আজান আওয়াইস করেন ৩৩ বলে ১৫ রান। আর দলনেতা নেতা শান মাসুমের ব্যাট থেকে আসে মাত্র ২ রান।

৬৮ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপেই পড়েছিল পাকিস্তান। চতুর্থ উইকেটে জুটি গড়ে দলকে চাপমুক্ত করেন আব্দুল্লাহ ফজল ও সালমান আগা। এই জুটিতে আসে ৫১ রান। ফিফটির দেখা পাওয়া ফজলকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন টাইগার স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ১১৩ বলে ১১টি চারের সাহায্যে ৬৬ রান করেন ফজল। পরের ওভারেই সালমান আগাকে পরাস্থ করেন তাসকিন আহমেদ। সালমান করেন ৩৯ বলে ২৬ রান।

৫ উইকেট হারিয়ে আরও একবার চাপে পড়ে সফরকারীরা। ষষ্ঠ উইকেটে দলকে শঙ্কামুক্ত করার চেষ্টা চালান উইকেটরক্ষক ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সৌধ শাকিল। কিন্তু তাদের ক্রিজে থিতু দেননি টাইগার পেসার নাহিদ রানা। নিজের করা টানা দুই ওভারে শাকিল ও রিজওয়ানকে সাজঘরে পাঠান তিনি। এই দুই ব্যাটারই করেন ১৫ করে রান।

এরপর ১ রান করে হাসান আলিকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তাইজুল ইসলাম।

এর আগে, প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১৫২ রান করেছিল বাংলাদেশ। ৭ উইকেট হাতে নিয়ে ১৭৯ রানে এগিয়ে ছিল টাইগাররা। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৫৮ ও মুশফিকুর রহিম ১৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। পঞ্চম দিন শান্ত ৮৭, মুশফিক ২২, লিটন দাস ১১, মেহেদি হাসান মিরাজ ২৪, তাইজুল ইসলাম ৩, তাসকিন আহমেদ ১১ রানে আউট হন। ৪ রানে অপরাজিত থাকেন এবাদত হোসেন। এ ছাড়া আগের দিন মাহমুদুল হাসান জয় ৫, সাদমান ইসলাম ১০ ও মুমিনুল হক ৫৬ রানে আউট হন।

এরপর ১ রান করে হাসান আলিকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তাইজুল ইসলাম। পাকিস্তানের শেষ দুই উইকেট নেন নাহিদ। তাতেই ইনিংসে নিজের ফাইফার তুলে নেন এই ডানহাতি পেসার। মাত্র ৪০ রানের খরচায় পাঁচটি উইকেট নেন তিনি।

এছাড়া দুটি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলাম। আর একটি উইকেট পেয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসের ব্যাট করতে নেমে শান্তর সেঞ্চুরি ও মুমিনুল-মুশফিকের ফিফটিতে ৪১৩ রান করেছিল বাংলাদেশ। জবাবে আজান আওয়াইসের সেঞ্চুরি পাকিস্তান তোলে ৩৮৬ রান। ২৮ রানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ২৭ রানে এগিয়ে থেকে ৯ উইকেটে ২৪০ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। ফলে টার্গেট দাঁড়ায় ২৬৮ রান।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ