খুলনা | বুধবার | ১৩ মে ২০২৬ | ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতিবেদনে এস আলম বেক্সিমকো, ওরিয়ন ও নাসা গ্র“প

ব্যাংক খাতের লুটপাটে দায়ী ৬ ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠী

খবর প্রতিবেদন |
০২:০৪ এ.এম | ১৩ মে ২০২৬


আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২৮টি ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পিছনে ৬ ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠীকে দায়ী করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে এস আলম, বেক্সিমকো, ওরিয়ন ও নাসা গ্র“পের নাম। বাধ্য হয়েই এসব গ্র“পকে অনৈতিক সুবিধা দেয়ার কথা স্বীকার করে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, পাচার করা অর্থ ফেরাতে কাজ চলছে। আর বিশ্লেষকদের দাবি, যত দ্রুত সম্ভব দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
ব্যাংকিং খাতে ঋণের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। যার বড় একটি অংশ পাচার হয়েছে বলে শ্বেতপত্রে ওঠে এসেছে। ব্যাংকিং খাতের এমন দুর্দশার জন্য ৬টি শিল্পগোষ্ঠীকে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে দায়ী করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, সাবেক ভ‚মিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, বেক্সিমকো, ওরিয়ন, এস আলম, সিকদার ও নাসা গ্র“পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ও অগ্রণী ব্যাংক। এছাড়াও আছে শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংক, এসআইবিএল, ফার্স্ট সিকিউরিটি ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক। বেসরকারি খাতের ইউসিবি, আইএফআইসি, ন্যাশনাল ব্যাংকও বাদ যায়নি এসব ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর লুটপাট থেকে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পাচারের টাকা ফিরিয়ে এনে ব্যাংক লুটেরাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যে-সব কর্মকর্তা অনিয়মে জড়িত, আইনের আওতায় আনতে হবে তাদেরও।
বিআইবিএম এর সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী জানান, একজন বরোয়ার কতটুকু পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে, কতদিনের জন্য ঋণ নিতে পারবে কীভাবে ঋণ নিবে এগুলো সবকিছু নীতিমালা আছে। এখন বাংলাদেশ ব্যাংক জেনে শুনেও যদি এদেরকে ওয়েভার দিয়ে থাকে তাহলে তো বাংলাদেশ ব্যাংকেরও রেসপন্সিবল হতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকেরও রেসপন্সিবিলিটি নিতে হবে। কারণ এগুলো তো বাংলাদেশ ব্যাংকের কাজ, শুধু মাত্রই বড় শিল্পগোষ্ঠী বা বিভিন্ন ব্যাংকের উপরে দায়িত্ব ছেড়ে দিতে পারে না। কারণ এই সমস্ত জিনিসগুলো নিয়ন্ত্রণ করার জন্য তো বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাজ কী?
এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, নানা চাপের কারণেই বিগণ সরকারের সময় লুটেরাদের সুবিধা দিতে বাধ্য হয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন পাচারের টাকা ফেরাতে কাজ চলছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, কোন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা এই কাজের সঙ্গে শরিক হলো বা শরিক হতে বাধ্য হলো। কিছু এক্সটারনাল ফোর্সেস ছিল এবং কোন কোন ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বিভিন্ন ইস্যুতে। যেগুলো ইগনোর করার মতো সক্ষমতা অন্যান্য রেগুলেটর বডির মতো বাংলাদেশ ব্যাংকেরও ছিল না। যদিও খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দোষীদের বিচার নিশ্চিত না হলে আস্থা হারাবে দেশের ব্যাংকিং খাত।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ