খুলনা | বুধবার | ১৩ মে ২০২৬ | ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

অভিযান পরিচালনার দাবি স্বাস্থ্য সেবা গ্রহিতাদের

নগরীতে কথিত দন্ত চিকিৎসকের ছড়াছড়ি, অপচিকিৎসার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০২:০৬ এ.এম | ১৩ মে ২০২৬


নগরীর দৌলতপুর থানার মহেশ^রপাশা কালীবাড়ী এলাকার বাসিন্দা সোহাগ (৪৬), পেশায় ইজিবাইক চালক। গত ২৩ এপ্রিল তিনি দাঁতের যন্ত্রণায় কাতর হয়ে ফুলবাড়ীগেট দারোগার বাজার এলাকার এস এস ডেন্টাল কেয়ার নামের একটি বেসরকারি দন্ত চিকিৎসালয়ে যান। শেখ সুলতান মাহামুদ গালিব নামে একজন ডেন্টাল টেকনিশিয়ান তার চিকিৎসা শুরু করেন। তিনি একটি ব্যবস্থাপত্র দেন। ২ মে সন্ধ্যায় রোগী ওই ক্লিনিকে গেলে তার দাঁতে পুটিং করা হয়। দুইদিন পর ওই দাঁতে তীব্র যন্ত্রণার প্রেক্ষাপটে ৪ মে সন্ধ্যায় রোগী আবারও সেখানে যান। তখন কথিত ওই ডাক্তার তার পুটিং তুলে ফেলেন এবং দাঁত উঠানোর জন্য প্রস্তুতি নেন। কয়েক দফায় অবস করা ইনজেকশেন দেবার পর তিনি দাঁত তোলার কাজ শুরু করেন। রোগী তখন ব্যথায় কাতরাচ্ছেন, ছট-ফট করছেন। এভাবে কেটে যায় অন্তত তিন ঘন্টা। এক পর্যায়ে টেকনিশিয়ান গালিব ব্যর্থ হয়ে তাকে একই এলাকার শেখ সুপার মার্কেট সংলগ্ন ছোবহান ডেন্টাল কেয়ার নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যান। সেখানেও চিকিৎসা দিচ্ছেন মোঃ শাহ জামাল নামে আরেকজন দন্ত টেকনিশিয়ান। তিনি রোগীর দাঁতের অর্ধাংশ তুলে ফেলেন। প্রেসক্রিপশনে কিছু ওষুধ লিখে দেন। পরবর্তীতে তার দাঁতের ব্যথা এবং ফোলা আরও বেড়ে যায়।
ভুক্তভোগী সোহাগ জানান, পরিস্থিতি সহ্য করতে না পেরে তিনি খুলনা জেনারেল হাসপাতালে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে একটি এক্সরে রিপোর্ট করতে দেন। যা দেখে তিনি বলেন-দাঁতটির টিসু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে সেটি তোলা যাবে না। তিনি একটি ব্যবস্থাপত্র দেন। প্রেসক্রিপশনের ওষুধ সেবন করে রোগী কিছুটা সুস্থতা অনুভব করছেন। 
সোহাগের মত আরো অনেকে কথিত অথবা ভুয়া দন্ত চিকিৎসকের কবলে পড়ে ভুল চিকিৎসার শিকার হচ্ছেন, খেসারত দিচ্ছেন আর জীবনের ঝুঁকিতে পড়ছেন চিকিৎসা সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ। 
স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জন ডিগ্রি অর্জনের পর বিএমডিসি কর্তৃপক্ষের রেজিস্ট্রার্ড ডাক্তারগণই শুধুমাত্র দাঁতের চিকিৎসা করতে পারবেন। দন্ড চিকিৎসা দেবার অনুমতি নেই টেকনিশিয়ান, ডাক্তারের সহযোগীদের। এক্ষেত্রে কেউ জড়িত থাকলে শাস্তির আওতায় আসবেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
সূত্রমতে, নগরীতে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল খুলনা (ডেন্টাল ক্লিনিক) এবং সোনাডাঙ্গা এলাকার আলী হোসেন সড়ক সংলগ্ন পালপ ডেন্টাল হাসপাতাল নামে শুধুমাত্র দু’টি বেসরকারি ডেন্টাল ক্লিনিকের লাইসেন্স আছে। এছাড়া সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, গাজী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ও আদদ্বীন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রয়েছে ডেন্টাল ইউনিট। তবে, বিভিন্ন স্থানে বিএমডিসির রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসকগণ চেম্বার পরিচালনা করছেন। তাদের লাইসেন্স গ্রহণের প্রয়োজন নেই, তারা সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে চিকিৎসা কাজ চালাতে পারবেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে জানান, নগরীর সাতরাস্তার মোড়, সিমেট্রি রোড, ফুলবাড়ীগেট, দৌলতপুর, খালিশপুর, গল্লামারীসহ বিভিন্ন স্থানে চক-চকে ছবি সম্বলিত সাইন বোর্ড ঝুঁলিয়ে দন্ত টেকনিশিয়ান অথবা চিকিৎসকদের সহকারীরা দাঁতের চিকিৎসালয় খুলে ব্যবসা করছেন। তাদের কাছে যাওয়া অনেক রোগী সুচিকিৎসা বঞ্চিত হচ্ছেন। ওই সব চিকিৎসকদের সহকারীদের অনেকের প্যাডে দন্ত অথবা ডেন্টাল টেকনিশিয়ান উল্লেখ আছে। 
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ মোঃ মুজিবুর রহমান সময়ের খবর-কে বলেন, অভিযোগ পেলে সিভিল সার্জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে ওইসব কথিত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনবেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ