খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৪ মে ২০২৬ | ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩

১০ বছর পর ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় সফর

লালগালিচা সংবর্ধনা ট্রাম্পকে, স্বাগত জানালেন ভাইস প্রেসিডেন্ট

খবর প্রতিবেদন |
০২:০৯ এ.এম | ১৪ মে ২০২৬


দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর পর এক ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে তাকে বহনকারী বিশেষ বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বেইজিংয়ে অবতরণ করে। সন্ধ্যায় বেইজিংয়ে পৌঁছালে তাঁকে ঘিরে আয়োজন করা হয় লালগালিচা সংবর্ধনা। দুই দিনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের জন্য চীনে গেছেন ট্রাম্প। এই সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে তাঁর বাণিজ্য, কৌশলগত প্রতিযোগিতা ও বৈশ্বিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে প্রথম মেয়াদে ২০১৭ সালে তিনি এশিয়ার এই পরাশক্তি দেশটি সফর করেছিলেন। বেইজিং বিমানবন্দরে অবতরণের পর ট্রাম্পকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয় এবং তিনি উপস্থিত অভ্যর্থনাকারীদের উদ্দেশ্যে অভিবাদন জানান।
সিএনএন জানায়, ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’ থেকে নামার সময় ট্রাম্পকে স্বাগত জানান চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং। সি চিন পিংয়ের ঘনিষ্ঠ প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত হান ঝেং কূটনৈতিক নানা অনুষ্ঠানে চীনের প্রতিনিধিত্ব করেন। গত বছর ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠানেও তিনি উপস্থিত ছিলেন।
বেইজিং বিমানবন্দরে ট্রাম্পকে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিল প্রায় ৩০০ চীনা শিশু-কিশোর। নীল-সাদা ইউনিফর্ম পরিহিত দলটি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পতাকা নাড়িয়ে ট্রাম্পকে স্বাগত জানায়। মান্দারিন ভাষায় তারা স্লোগান দেয় ‘স্বাগতম, আন্তরিক স্বাগতম’।
ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন তাঁর ছেলে এরিক ট্রাম্প ও পুত্রবধূ লারা ট্রাম্প। লালগালিচা ধরে হান ঝেংয়ের সঙ্গে হাঁটার সময় ট্রাম্পকে হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায়। পরে তিনি বহরের গাড়িতে ওঠার আগে মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে শুভেচ্ছা জানান।
চীনের পক্ষ থেকে এই জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনকে ট্রাম্পের সফরের গুরুত্বের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিমানবন্দরে আরও ছিলেন চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ, যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রাষ্ট্রদূত শিয়ে ফেং ও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মা ঝাওসু।
ট্রাম্প ও সি চিন পিংয়ের আনুষ্ঠানিক বৈঠক আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের বর্তমান টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাণিজ্য শুল্ক, প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা, তাইওয়ান ইস্যু ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে দুই নেতার আলোচনায় আন্তর্জাতিক মহলের নজর থাকবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এবারের সফরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো তার সফরসঙ্গীদের তালিকা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর একঝাঁক শীর্ষ নির্বাহী এই সফরে তার সঙ্গী হয়েছেন। এই তালিকায় রয়েছেন অ্যাপলের টিম কুক, টেসলা ও স্পেসএক্সের কর্ণধার ইলন মাস্ক এবং ব্ল্যাকরকের ল্যারি ফিঙ্ক। 
হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, ডজন খানেকেরও বেশি মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানির প্রধানরা এই সফরে অংশ নিচ্ছেন, যা দুই দেশের বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। সফরসূচি অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এই সফরকে ঘিরে বেইজিং তাদের কঠোর অবস্থানের কথা পুনরুল্লেখ করেছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেইজিং চারটি ‘রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছে, যা কোনোভাবেই চ্যালেঞ্জ করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত চীনা দূতাবাস প্রকাশিত এই তালিকার প্রথম ও প্রধান ইস্যুটি হলো তাইওয়ান। এছাড়া গণতন্ত্র ও মানবাধিকার, চীনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং দেশটির উন্নয়নের অধিকারকে বাকি তিনটি রেড লাইন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বেইজিং স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং তাইওয়ানের ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ সরকারকে সমর্থন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর আগে ২০২৪ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে বৈঠকের সময় প্রথম এই চারটি সীমারেখার কথা উল্লেখ করেছিলেন। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি স্থিতিশীল ও গঠনমূলক চীন-মার্কিন সম্পর্ক গড়ে তোলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা উচিত, তবে তা অবশ্যই চীনের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে। বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই চীন সফর এবং বড় বড় টেক জায়ান্টদের উপস্থিতি দুই দেশের ভবিষ্যতের কৌশলগত সম্পর্কের নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ