খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৪ মে ২০২৬ | ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩

ব্যক্তিগত জ্যোতিষীকে সহযোগী নিয়োগ, সমালোচনার মুখে বাতিল করলেন বিজয়

খবর প্রতিবেদন |
০২:১১ এ.এম | ১৪ মে ২০২৬


তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় তাঁর ঘনিষ্ঠ জ্যোতিষী রাধান পন্ডিতকে বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তবে আজ বুধবার সমালোচনার মুখে তাঁর নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় আজ বুধবার তাঁর জ্যোতিষী রাধান পন্ডিতকে বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি (ওএসডি) পদে নিয়োগ বাতিল করেছেন। বিরোধী দল ও মিত্রদের সমালোচনার এক দিন পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নিলেন। নিয়োগের পর থেকে বিজয়কে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল।
আজ তামিলনাড়ু বিধানসভায় বিজয় আস্থা ভোটের মুখোমুখি হন। তবে বিজয় নিজের কাছে থাকা সমর্থনের চেয়েও বেশি ভোট পেয়ে এই যাত্রায় উতরে গেছেন। ফ্লোর টেস্টের কিছুক্ষণ পর সরকার একটি সার্কুলার প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, ‘মুখ্যমন্ত্রীর (রাজনৈতিক) অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি (ওএসডি) হিসেবে থিরু রিকি রাধান পন্ডিত ভেট্রিভেলের নিয়োগ সংক্রান্ত দ্বিতীয় রেফারেন্সে জারি করা আদেশ তাৎক্ষণিক ভাবে প্রত্যাহার করা হলো।’
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিজয়ের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলেছিল, ব্যক্তিগত বিশ্বাস কখনোই শাসন ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে না। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বিজয় তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী, জ্যোতিষী এবং দলীয় মুখপাত্র রিকি রাধান পন্ডিত ভেট্রিভেলকে মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি হিসেবে নিয়োগ দেন। মঙ্গলবার সরকারের মুখ্য সচিবের জারি করা এক সরকারি আদেশের মাধ্যমে এই নিয়োগ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।
সরকারি সার্কুলারে বলা হয়েছিল, ভেট্রিভেল মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের রাজনৈতিক সমন্বয় ও পরামর্শ-সংক্রান্ত কাজে সহায়তা করবেন।
রিকি রাধান পন্ডিত ভেট্রিভেল রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম মহলে মূলত একজন জ্যোতিষী হিসেবে পরিচিত। মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলেও তিনি পরিচিত। গণ কয়েক বছরে অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা বিজয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে তাঁকে পাশে দেখা গেছে।
তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) গঠনের পর ভেট্রিভেলকে দলের অন্যতম মুখপাত্র করা হয়। পরে তিনি টেলিভিশন বিতর্ক ও জনপরিসরে দলের অবস্থান ব্যাখ্যা ও রক্ষায় সক্রিয় ভ‚মিকা পালন করেন। তাঁকে বিজয়ের বিশ্বস্ত অভ্যন্তরীণ বলয়ের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দল গঠনের পর থেকে তিনি রাজনৈতিক যোগাযোগ ও সমন্বয়ের কাজেও ভ‚মিকা রেখে আসছেন।
আস্থা ভোটেও জয়ী মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় : আস্থাভোটে জয়ী হয়ে দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করেছেন থালাপতি বিজয়। বুধবার রাজ্য বিধানসভায় অনুষ্ঠিত আস্থা ভোটে ১৪৪ আইন প্রণেতা তাকে ভোট দেন। বিপক্ষে ভোট পড়ে ২২টি, আর পাঁচজন ভোটদানে বিরত থাকেন।
গণ মাসের নির্বাচনে বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম (টিভিকে) ঐতিহাসিক জয় পেয়ে রাজ্যের দীর্ঘদিনের দুই প্রধান শক্তি ডিএমকে ও এআইএডিএমকের ৬২ বছরের রাজনৈতিক আধিপত্য ভেঙে দেয়।
আস্থা ভোটের ফল ঘোষণার পর বিজয় বলেন, ‘হুইসেল ইতিহাস বদলে দিয়েছে।’ টিভিকের নির্বাচনী প্রতীক ছিল ‘হুইসেল’।
তিনি আরও বলেন, আমরা নিজেদের সংখ্যালঘু সরকার বলব। আমরা এমন এক সরকার, যা সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা করবে।
ভোটাভুটির আগে ডিএমকে তাদের ৫৯ জন বিধায়ক নিয়ে ওয়াকআউট করে। অন্যদিকে এআইএডিএমকের নেতৃত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
তবে বড় চমক আসে এআইএডিএমকের ভেতর থেকেই। দলটির ২৪ জন বিধায়ক দলীয় প্রধান ইডাপ্পাদি কে পালানিস্বামীর নির্দেশ অমান্য করে বিজয়ের পক্ষে ভোট দেন। এতে দলটির অভ্যন্তরীণ বিভক্তি প্রকাশ্যে চলে আসে।
এই বিদ্রোহের নেতৃত্বে ছিলেন দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা সি ভি শানমুগাম ও এস পি ভেলুমানি। গত সপ্তাহ থেকেই তাদের নেতৃত্বে একটি অংশ বিজয়কে সমর্থনের দাবি জানিয়ে চাপ সৃষ্টি করছিল।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, দলটির কয়েকজন বিধায়ক পুদুচেরির একটি রিসোর্টে অবস্থান নিয়ে নেতৃত্ব পরিবর্তন ও টিভিকেকে সমর্থনের বিষয়ে আলোচনা চালান।
শানমুগাম সাংবাদিকদের বলেন, তিনবার ডিএমকের কাছে ও সর্বশেষ টিভিকের কাছে টানা চারটি নির্বাচনী পরাজয় দলের বর্তমান অবস্থাকে সংকটময় করে তুলেছে।
তিনি দাবি করেন, দল ভাঙার কোনো ইচ্ছা তার নেই। তবে এই অবস্থান এখন এআইএডিএমকের ভেতরে নতুন ক্ষমতার লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে বিদ্রোহী নেতাদের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এআইএডিএমকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে দলটি অভিযোগ করেছে, শানমুগাম, ভেলুমানি ও আরেক বিদ্রোহী নেতা টিভিকের কাছে মন্ত্রীত্বের পদ চেয়েছিলেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ