খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৪ মে ২০২৬ | ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩

মোংলায় ট্রলার থেকে নদীতে পড়ে যুবক নিখোঁজ

মোংলা প্রতিনিধি |
০৪:২০ পি.এম | ১৪ মে ২০২৬


মোংলায় পশুর নদীতে ট্রলার থেকে ছিটকে পড়ে হোসেন মোড়ল (৪৫) নামের এক মাছ ব্যবসায়ী নিখোঁজ হয়েছেন। তাকে উদ্ধারে কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় ডুবুরি দল যৌথ অভিযান চালাচ্ছে। তবে ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ হোসেন মোড়ল খুলনার দাকোপ উপজেলার চালনা এলাকার ইউনুচ মোড়লের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও মোংলা ফায়ার সার্ভিস জানায়, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ভোরে খুলনার চালনা থেকে একটি ট্রলারে মাছ বোঝাই করে বিক্রির উদ্দেশ্যে মোংলা বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন হোসেন মোড়ল। ট্রলারে তার সঙ্গে স্ত্রী ও ৬ বছর বয়সী এক সন্তানও ছিল। ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে ট্রলারটি মোংলা বাজার ঘাটে এসে পৌঁছায় এবং নোঙর করার প্রস্তুতি নেয়। এ সময় হোসেন ট্রলারের পেছনের অংশে গেলে পা পিছলে তীব্র স্রোতের মোংলা নদীতে ছিটকে পড়েন।

স্বামীকে তলিয়ে যেতে দেখে তার স্ত্রী চিৎকার শুরু করলে ট্রলারের মাঝি তাৎক্ষণিকভাবে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালান। কিন্তু নদীর প্রবল জোয়ার ও তীব্র স্রোতের কারণে মুহূর্তের মধ্যেই হোসেন নদীর পানিতে তলিয়ে যান।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মোংলা ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় ডুবুড়ি দলের দুটি ইউনিট। পরবর্তীতে উদ্ধার কাজের সাথে যুক্ত হয় বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডর ডুবুরি দল। ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের মোট ৪টি ইউনিট সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে তল্লাশি চালায়।

মোংলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার মো: দেলোয়ার হোসেন জানান, সকাল থেকে নদীজুড়ে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে মোংলা নদীর ওই পয়েন্টে গভীরতা ও পানির টান বেশি থাকায় উদ্ধার কাজে বেগ পেতে হচ্ছে। দুপুর পর্যন্ত নিখোঁজ হোসেন মোড়লের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর ডুবুরি দল এখনো উদ্ধার কাজ অব্যাহত রেখেছে।

এদিকে চোখের সামনে স্বামীকে নদীতে তলিয়ে যেতে দেখে মোংলা বাজার ঘাটে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন হোসেনের স্ত্রী ও স্বজনরা। তাদের আহাজারিতে ওই এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। বর্তমানে মোংলা নদীতে প্রবল স্রোতের কারণে এই স্থানের গভীরতা প্রায় ৩০ ফুট। যার ফলে সম্প্রতি পৌরসভার নদী পারাপার ঘাটটি নদীতে বিলীন হয়ে যায়।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ