খুলনা | শুক্রবার | ১৫ মে ২০২৬ | ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

উত্তর প্রদেশে ভয়াবহ ঝড়ের তান্ডব নিহত শতাধিক, লন্ডভন্ড জনপদ

খবর প্রতিবেদন |
০২:১৩ এ.এম | ১৫ মে ২০২৬


ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশে ভয়াবহ শক্তিশালী ঝড়ে অন্তত ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ের কবলে পড়ে ঘরবাড়ি ধসে, গাছ উপড়ে এবং বজ্রপাতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ৫০ জনেরও বেশি মানুষ। রাজ্যের অন্তত ১২টি জেলায় ঝড়টি ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের তীব্রতায় শত শত গাছ ও বিলবোর্ড উপড়ে পড়েছে।  ভেঙে পড়েছে অসংখ্য কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি। উত্তর প্রদেশের হিন্দু তীর্থ নগরী হিসেবে পরিচিত প্রয়াগরাজ (এলাহাবাদ) জেলাটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সরকারি সূত্রের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, বুধবারের এ দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি হয়েছে প্রয়াগরাজ জেলায়, সেখানে কমপক্ষে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ভাদোহীতে ১৮ জন, মির্জাপুরে ১৫ জন, ফতেহপুরে ১০ জন, উন্নাও ও বদায়ু জেলায় ছয়জন করে মারা গেছেন। প্রতাপগড় এবং বেরেলিতে চারটি এবং সীতাপুর, রায়বরেলি এবং চান্দৌলি, কানপুর দেহাত, হারদোই এবং সম্বল থেকেও বহু মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রবল ঝড়ে কাঁচা ঘরবাড়ি ধসে, গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে এবং বজ্রপাতে এসব প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই আঘাতে জানমালের পাশাপাশি ক্ষেতের ফসল ও গবাদি পশুরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। 
টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গেছে, প্রবল বাতাসের তোড়ে বিশাল বিশাল গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে রাস্তায় পড়ে আছে। অনেক জায়গায় রেললাইনের ওপর গাছ পড়ে ট্রেন চলাচল বিঘিœত হয়েছে।
প্রয়াগরাজের বাসিন্দা রাম কিশোর সংবাদ সংস্থা এপি- কে বলেন, হঠাৎ করেই ঝড়টা শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়। বাতাসের তোড়ে টিনের চাল উড়ে যাচ্ছিল আর মানুষ দিগ্বিদিক ছুটছিল। সারা সন্ধ্যা শুধু গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ শোনা গেছে।
দুর্যোগের খবর পেয়েই মাঠে নেমেছে পুলিশ এবং দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ)। রাস্তা ও রেললাইন থেকে গাছ এবং ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে তারা চেইনসো এবং ক্রেন ব্যবহার করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় অনেক জেলা বর্তমানে অন্ধকারে নিমজ্জিত। প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধার কাজ শেষ হলে এবং ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব পেলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 
জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় উত্তর প্রদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটে এবং তীব্র বেগে বাতাস শুরু হয়। এতে বিভিন্ন জেলোয় রাস্তার ধারের বড় বড় বিলবোর্ড ও টিনের চালা এবং গাছপালা উপড়ে যানবাহনের ওপরে পড়ে। এতে বেশ কয়েকটি রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। 
রাজ্যজুড়ে ঝড়ের ভয়াবহতা তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসংখ্য ভিডিও শেয়ার করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বারেলির বামিয়ানা গ্রামের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রবল বাতাসে এক ব্যক্তি একটি টিনের চালাসহ শূন্যে ছিটকে ৫০ ফুট দূরে একটি মাঠে গিয়ে পড়ছেন।
এদিকে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারী বৃষ্টি, ঝড় ও বজ্রপাতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের কাছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ত্রাণ ও সহায়তা পৌঁছে দিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত উদ্ধার কাজ পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন।
এ ছাড়া ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে রাজস্ব ও কৃষি বিভাগসহ বিমা কোম্পানিগুলোকে দ্রুত জরিপ করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 
সূত্রঃ এনডিটিভি ও স্কাই নিউজ।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ