খুলনা | শনিবার | ১৬ মে ২০২৬ | ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

হিন্দুরাই পূজা-অর্চনা করতে পারবেন, নামাজ পড়তে পারবেন না মুসল্লিরা

ভারতে বিতর্কিত ‘ভোজশালা’ প্রাঙ্গণকে মসজিদ নয় মন্দির হিসাবেই স্বীকৃতি মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের

খবর প্রতিবেদন |
০১:১৩ এ.এম | ১৬ মে ২০২৬


মধ্যপ্রদেশের ধার জেলায় ‘ভোজশালা’ নামক ঐতিহাসিক স্থাপনা, যেটিকে মুসলমানরা কামাল মওলা মসজিদ হিসাবে মেনে আসছে, শুক্রবার মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চ সেটিকে সরস্বতী মন্দিরের স্বীকৃতি দিয়েছে। আদালতের নির্দেশ, ওই স্থানে শুধুমাত্র হিন্দুরাই পূজা-অর্চনা করতে পারবেন। মুসলিম স¤প্রদায়ের নামাজ পড়ার অধিকার থাকবে না।
মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ ওই মামলায় হিন্দু স¤প্রদায়ের পক্ষে রায় দিয়েছে এবং ভোজশালাকে ‘দেবী সরস্বতী বা বাগদেবীর মন্দির’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। মুসলিম পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে স্থানটিকে ‘কামাল মওলা মসজিদ’ হিসেবে মান্য করে আসছে।
শুক্রবার মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চের বিচারপতি বিজয়কুমার শুক্ল ও বিচারপতি অলোক অবস্থির ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছেন, ভোজশালার রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থাকবে ভারতীয় পুরাতত্ত¡ সংরক্ষণ বিভাগ (এএসআই)-এর হাতেই। তবে উপাসনার অধিকার শুধু হিন্দুদের। এ ডিভিশন বেঞ্চ পাঁচটি আবেদন এবং তিনটি ইন্টারভেনশনের উপর শুনানি শেষে এই রায় প্রকাশ করে।
হিন্দুদের দাবি, রাজা ভোজ (১০১০-১০৫৫) আমলে এখানে সরস্বতী মন্দির ও সংস্কৃত শিক্ষালয় ছিল। অন্যদিকে মুসলিমদের দাবি, এটি কামাল মাওলা দরগা ও মসজিদ। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া বলছে, চতুর্দশ শতকে সুফি সাধক কামালউদ্দিনের সমাধির ওপর মসজিদ গড়ে ওঠে।
আদালত আরও বলেছে, মুসলিম স¤প্রদায় যদি নতুন মসজিদ নির্মাণের জন্য অন্য কোনো জমি চেয়ে রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করেন, তাহলে সরকারকে সেটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে।
রায়ের পর ধার ও ইন্দোর প্রশাসন চূড়ান্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে। তারা উভয় পক্ষকে শান্তি বজায় রাখার জন্য আবেদন জানিয়েছে।
মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট জানিয়েছে যে, ভোজশালা চত্বর এবং কামাল মওলা মসজিদের বিতর্কিত এলাকাটি “ভোজশালা ও দেবী সরস্বতীর মন্দির” হিসেবে ধর্মীয় মর্যাদাসম্পন্ন।
আদালত আরও বলেছে, “তীর্থযাত্রীদের মৌলিক সুবিধা প্রদান, যথাযথ আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দেবীর পবিত্রতা ও আদি রূপ রক্ষা করা একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, সময়ের সাথে সাথে এই স্থানে হিন্দু পূজা-অর্চনার ধারাবাহিকতা কখনও বন্ধ হয়নি।” “ঐতিহাসিক লিপিতে বিতর্কিত এলাকাটি সংস্কৃত শিক্ষার কেন্দ্র বলে দাবি করা হয়। ঐতিহাসিক সাহিত্য ও প্রতœতাত্তি¡ক তথ্যও দেবী সরস্বতীকে উৎসর্গীকৃত একটি মন্দিরের অস্তিত্বের দিকে ইঙ্গিত করে।”
আদালত জানায় যে, তারা প্রতœতাত্তি¡ক ও ঐতিহাসিক তথ্য এবং অযোধ্যা মামলায় সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত নীতির উপর ভিত্তি করে ভোজশালা নিয়ে তাদের সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে।
আদালত আরও জানায়, “ভারত সরকার এবং এএসআই ধার জেলায় অবস্থিত ভোজশালা মন্দিরের প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য এবং সংস্কৃত শিক্ষা সম্পর্কিত বিষয়গুলির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। এএসআই ১৯৫৮ সালের আইনের বিধান অনুযায়ী সম্পত্তিটির প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা চালিয়ে যাবে।”
আদালত আরও বলেছে, “লন্ডন মিউজিয়াম থেকে ‘দেবী সরস্বতীর’ মূর্তি ফিরিয়ে আনা এবং ভোজশালা চত্বরে তা পুনঃস্থাপনের দাবির বিষয়ে আবেদনকারীরা ইতিমধ্যে ভারত সরকারের কাছে একাধিকবার আবেদন করেছেন। “লন্ডন মিউজিয়াম থেকে দেবী সরস্বতীর মূর্তি ফিরিয়ে আনা এবং এই চত্বরে তা পুনঃস্থাপনের বিষয়ে ভারত সরকার এই আবেদনগুলো বিবেচনা করতে পারে।”
আদালত আরও বলেছে, “মুসলিম স¤প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকার রক্ষা করতে এবং পক্ষগুলোর মধ্যে পূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য, যদি মুসলিম পক্ষ ধার জেলায় মসজিদ বা উপাসনালয় নির্মাণের জন্য উপযুক্ত জমি বরাদ্দের আবেদন জমা দেয়, তবে রাজ্য সরকার আইন অনুযায়ী সেই আবেদনটি বিবেচনা করতে পারে এবং ধার জেলার মুসলিম স¤প্রদায়কে উপযুক্ত ও স্থায়ী জমি বরাদ্দ করতে পারে।”
ধরে চলা মামলায় এএসআই-এর বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা ও ঐতিহাসিক প্রমাণ খতিয়ে দেখে হাইকোর্ট এই রায় দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, ওই স্থানে হিন্দুরা নিরবচ্ছিন্নভাবে উপাসনা করে আসছেন এবং ঐতিহাসিক সাহিত্যেও এটিকে সংস্কৃত শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতদিন প্রশাসনের অনুমতি অনুযায়ী প্রতি মঙ্গলবার হিন্দুরা পূজা এবং প্রতি শুক্রবার মুসলিমরা নামাজ পড়তেন। বসন্ত পঞ্চমীতে সরস্বতী পূজারও অনুমতি ছিল। নতুন রায়ের ফলে মুসলিমদের নামাজের অনুমতি বাতিল হলো।
হাইকোর্ট রাজ্য সরকারকে ওই এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া লন্ডনের জাদুঘরে থাকা সরস্বতী মূর্তি ভোজশালায় ফিরিয়ে আনা যায় কি না, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।
এই রায়ের পর মুসলিম পক্ষ সুপ্রিম কোর্টে যাবে কি না, সেদিকে সবার নজর। এখন পর্যন্ত ভোজশালা ১৯৫৮ সালের আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত স্থাপত্য হিসেবেই থাকবে এবং এএসআই-ই এর দেখভাল করবে।
তবে এই রায় ও সমীক্ষার প্রতিবেদনকে রিপোর্টকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে অভিযোগ করেছে মুসলিম পক্ষ। 
ভোজশালা নিয়ে বিতর্ক কেন? : ধার-এ অবস্থিত ভোজশালা হলো ভারতীয় পুরাতত্ব সর্বেক্ষণ বিভাগ বা এএসআই-এর সুরক্ষাধীন একটি ঐতিহাসিক চত্বর। হিন্দু পক্ষ এটিকে দেবী সরস্বতী বা বাগদেবীর মন্দির এবং একটি প্রাচীন শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করে, অন্যদিকে মুসলিম পক্ষ এটিকে কামাল মওলা মসজিদ বলে। বর্তমান মামলায় উভয় পক্ষই অধিকার দাবি করছে।
২০০৩ সাল থেকে প্রচলিত ব্যবস্থা অনুযায়ী, হিন্দু স¤প্রদায়কে মঙ্গলবার পূজা করার এবং মুসলিম স¤প্রদায়কে শুক্রবার নামাজ আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়। সপ্তাহের অন্যান্য দিন চত্বরটি পর্যটকদের জন্য খোলা থাকে।
২০২২ সালে এই বিবাদটি আদালতে একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করে, যখন হিন্দু ফ্রন্ট ফর জাস্টিস এবং অন্যান্য আবেদনকারীরা হাইকোর্টে একটি পিটিশন দাখিল করেন।
পিটিশনটিতে ভোজশালার ধর্মীয় প্রকৃতি নির্ধারণ, হিন্দু স¤প্রদায়কে নিয়মিত পূজা করার অধিকার প্রদান এবং চত্বরটিতে নামাজ নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়। পরবর্তীতে হাইকোর্ট চত্বরটির একটি বৈজ্ঞানিক জরিপের আদেশ দেয়। ২০২৪ সালে, এএসআই ৯৮ দিন ধরে কমপ্লেক্সটি জরিপ করে।
মুসলিম পক্ষের সহযোগী সংগঠন মাওলানা কামালউদ্দিন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি এই জরিপকে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করে। সুপ্রিম কোর্ট জরিপের ওপর স্থগিতাদেশ না দিলেও, প্রতিবেদনটি উন্মুক্ত রাখার, পক্ষগুলোকে এর অনুলিপি সরবরাহ করার এবং চূড়ান্ত শুনানিতে আপত্তিগুলো বিবেচনা করার নির্দেশ দেয়।
সা¤প্রতিক শুনানির সময়, আদালত ১৯৩৫ সালের সেই প্রশাসনিক আদেশ নিয়েও আলোচনা করে, যার অধীনে তৎকালীন ধার রাজ্য মুসলিম স¤প্রদায়কে কমপ্লেক্সের ভেতরে নামাজ পড়ার অনুমতি দিয়েছিল।
মুসলিম পক্ষ আরও যুক্তি দেয় যে, কমপ্লেক্সটি দীর্ঘদিন ধরে কামাল মওলা মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং এর ধর্মীয় চরিত্র নির্ধারণ করার ক্ষমতা দেওয়ানি আদালতের রয়েছে।
অন্যদিকে, হিন্দু পক্ষ শিলালিপি, স্থাপত্যের ধ্বংসাবশেষ, ঐতিহাসিক দলিল এবং বসন্ত পঞ্চমীতে পূজা করার ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে এটিকে একটি মন্দির বলে দাবি করে।
এই মামলায় জৈন পক্ষও আদালতের দ্বারস্থ হয়। জৈন স¤প্রদায়ের আবেদনকারীরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে, কমপ্লেক্সটির স্থাপত্যশৈলী রাজস্থানের দিলওয়ারা জৈন মন্দিরগুলোর অনুরূপ।
উকিলরা কী যুক্তি দিলেন? : আদালতের সিদ্ধান্তের পর, হিন্দুপক্ষের আইনজীবী মনীশ গুপ্তা জানান যে, মাননীয় আদালতে টানা ২৪ দিন ধরে মামলাটির নিয়মিত শুনানি হয়েছে।
তিনি বলেন, “হিন্দু ও মুসলিম উভয় পক্ষই তাদের যুক্তি ও প্রমাণ উপস্থাপন করেছে। উভয় পক্ষের যুক্তি শোনার পর, আদালত ভারতীয় পুরাতত্ব সর্বক্ষণ বিভাগ (এএসআই)-এর প্রতিবেদন, ঐতিহাসিক গেজেটিয়ার, হিন্দু পক্ষের উপস্থাপিত প্রতœতাত্তি¡ক প্রমাণ এবং ভবনটির গঠন সম্পর্কিত তথ্য বিবেচনা করে আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছে।”
মনীশ গুপ্তা আরও বলেন, “আমরা আদালতের সামনে এ-ও যুক্তি দিয়েছি যে, ভবনটির গঠনে মন্দির ও মসজিদের বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে এবং এটি যে কীভাবে একটি মন্দিরের কাঠামো, তা দেখানোর জন্য আমরা প্রমাণও দিয়েছি।”
মুসলিম পক্ষের আইনজীবী আশহার ওয়ারসি বলেন, তারা এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নন। তিনি বলেন, “আদালত পূর্বে মসজিদ হিসেবে বিবেচিত স্থানটিকে মন্দির হিসেবে ঘোষণা করেছে। আমাদের বলা হয়েছে যে অন্যত্র জমি দেওয়া হবে। আমরা সম্পূর্ণ সিদ্ধান্তটি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখব এবং যদি আমাদের দাবিগুলো সন্তোষজনকভাবে সমাধান না করা হয়, তাহলে আমরা অবশ্যই সুপ্রিম কোর্টে যাব।”
আশহার ওয়ারসি আরও বলেন, “আদালত বর্তমানে এটিকে মন্দির হিসেবে ঘোষণা করেছে, তাই সেখানে প্রার্থনা করা হবে না। আদালত মূলত এএসআই রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে তার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কিন্তু আমরা এই রিপোর্টকেও চ্যালেঞ্জ করব। আমাদের যুক্তি হলো, জরিপটি ভুলভাবে পরিচালিত হয়েছিল এবং আমাদের তথ্যগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের দাবি হলো, এই সম্পত্তিটি প্রায় ৭০০ বছর ধরে মুসলিম স¤প্রদায়ের মালিকানাধীন। এই দাবিটি আর্কাইভড রাষ্ট্রীয় গেজেট এবং এএসআই-এর আদেশের উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।”
তৎকালীন ধার রাজ্য প্রশাসনের তরফে একটি ব্যবস্থা চালু করা হয়, যার মাধ্যমে মুসলিম স¤প্রদায়কে প্রাঙ্গণের ভেতরে নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়। বর্তমান শুনানিতে এই ব্যবস্থার বৈধতা নিয়েও বিতর্ক হয়েছিল।
১৯৯৫ : ভোজশালা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিবাদের জেরে, প্রশাসন মঙ্গলবারে পূজা এবং শুক্রবারে নামাজের অনুমতি দিয়ে একটি ব্যবস্থা চালু করে।
১৯৯৭ : তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী দিগ্িবজয় সিংয়ের আমলে, জনসাধারণের প্রবেশ সাময়িকভাবে সীমিত করা হয়েছিল এবং মঙ্গলবারের পূজাও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে, হিন্দু স¤প্রদায়কে বসন্ত পঞ্চমীতে এবং মুসলিম স¤প্রদায়কে শুক্রবারে নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়।
১৯৯৮ : আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রাঙ্গণে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে।
২০০৩ : মঙ্গলবারে পুনরায় পূজার অনুমতি দেওয়া হয়। এএসআই-এর বর্তমান ব্যবস্থা অনুযায়ী, হিন্দু স¤প্রদায়কে মঙ্গলবার ও বসন্ত পঞ্চমীতে পূজা করার এবং মুসলিম স¤প্রদায়কে শুক্রবারে নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কমপ্লেক্সটি পর্যটকদের জন্যও খুলে দেওয়া হয়েছিল।
২০১৩ : বসন্ত পঞ্চমী ও শুক্রবার একই দিনে পড়ায় ধার-এ উত্তেজনা দেখা দেয়। পুলিশকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করতে হয়েছিল।
২০১৬ : বসন্ত পঞ্চমী শুক্রবারে হওয়ায় আবারও একই রকম পরিস্থিতি তৈরি হয়। এলাকায় উত্তেজনা বেড়ে যায় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আবারও বাড়ানো হয়।
২০২২ : হিন্দু ফ্রন্ট ফর জাস্টিস এবং অন্যান্য আবেদনকারীরা ভোজশালার ধর্মীয় প্রকৃতি নির্ধারণ এবং হিন্দু স¤প্রদায়কে পূর্ণাঙ্গ পূজার অধিকার প্রদানের দাবিতে হাইকোর্টে একটি আবেদন দাখিল করে।
২০২৪ : হাইকোর্টের নির্দেশে, এএসআই ৯৮ দিন ধরে ভোজশালা কমপ্লেক্সের একটি বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা পরিচালনা করে।
২০২৬ : সুপ্রিম কোর্ট হিন্দু পক্ষকে বসন্ত পঞ্চমীতে সারা দিন ধরে পূজা করার অনুমতি দেয়। পরবর্তীকালে, হাইকোর্ট এপ্রিল ও মে মাসে ১৯৩৫ সালের আদেশ, এএসআই-এর সমীক্ষা প্রতিবেদন এবং ধর্মীয় দাবিগুলো নিয়ে ধারাবাহিক শুনানি করে। ১২ই মে শুনানি শেষ হওয়ার পর হাইকোর্ট তার সিদ্ধান্ত সংরক্ষিত রাখে।
ভোজশালাকে ঘিরে প্রশাসনিক ও সা¤প্রদায়িক উত্তেজনার একটি ইতিহাস রয়েছে। ২০০৩, ২০১৩ এবং ২০১৬ সালে, যখন বসন্ত পঞ্চমী এবং শুক্রবার একই দিনে পড়েছিল, তখন ধার-এ উত্তেজনা দেখা দেয়, যা দুই পক্ষের মধ্যে সহিংসতার রূপ নেয়। সেই সময়, স্থানীয় প্রশাসনকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হয়েছিল। 
সূত্র : বিবিসি, ইন্ডিয়া টুডে, এনডিটিভি, আনন্দবাজার অনলাইন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ