খুলনা | শনিবার | ১৬ মে ২০২৬ | ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পরিস্থিতি অবনতি হলে হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দুই মাসে হাম ও উপসর্গে প্রাণ গেল ৪৫১ শিশুর

খবর প্রতিবেদন |
০১:১৫ এ.এম | ১৬ মে ২০২৬


হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা) দেশে আরও ১২ শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে চার শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছিল। হামের উপসর্গ ছিল ৮ শিশুর। এ সময়ে সারা দেশে আরও ১ হাজার ১৯২ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১১১ শিশুর শরীরে। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
মৃত্যুর এই ক্রমবর্ধমান সংখ্যা নিয়ে জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে শুক্রবার রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত ডিএনসিসি পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন। এসময় চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়ানোর ঘোষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে হাম শনাক্ত হয়ে মারা যাওয়া চার শিশুর দু’জন ঢাকা বিভাগের আর একজন করে রয়েছে চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে। হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া আট শিশুর তিনজন ঢাকা বিভাগের, তিনজন চট্টগ্রাম বিভাগের আর একজন করে রয়েছে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৩৭৭ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৭৪ শিশু। মোট ৪৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৫৫ হাজার ৬১১ শিশুর। এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪০ হাজার ১৭৬ শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরেছে ৩৬ হাজার ৫৫ শিশু। গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে ৭ হাজার ৪১৬ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী : সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব আরও অবনতি হলে হাসপাতালের চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন। 
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত ডিএনসিসি হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই আশ্বাস দেন। মন্ত্রী বলেন, দেশে হামে আক্রান্ত রোগীদের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সকল ধরনের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং সরকার এই সংকট মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে হামের টিকার ব্যবস্থা করতে সক্ষম হয়েছে। তবে টিকার কার্যকারিতা ও এর সুফল পেতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। 
প্রতিক‚ল পরিস্থিতির কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, স্বল্প সময়ে নানামুখী চ্যালেঞ্জের কারণে সব ক্ষেত্রে শতভাগ সফলতা তৎক্ষণাৎ দৃশ্যমান না হলেও চিকিৎসা ব্যবস্থায় কোনো ত্র“টি রাখা হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক মানের বাইরে কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি এখানে প্রয়োগ করা হচ্ছে না বলেও তিনি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী তার বক্তব্যে আরও জানান, মাঠ পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে এবং হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল ও ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার আহŸান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পরিস্থিতির নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে এবং যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ