খুলনা | শনিবার | ১৬ মে ২০২৬ | ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মোদির সংক্ষিপ্ত আমিরাত সফর থেকে বড় প্রাপ্তি

প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও বাণিজ্য খাতে চুক্তি

খবর প্রতিবেদন |
০১:২৬ এ.এম | ১৬ মে ২০২৬


মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের মধ্যেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারিভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করছেন। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সময়েই অনুষ্ঠিত এই সফরে ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব এবং বাণিজ্য বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। 
আবুধাবিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জনগণের সাথে জনগণের সম্পর্ক বৃদ্ধিসহ সহযোগিতার মূল ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। উভয় নেতা দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের রূপরেখা, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহ ও কৌশলগত পেট্রোলিয়াম সংরক্ষণাগার এবং ভারতের অবকাঠামোসহ ‘আরবিএল ব্যাংক’ ও ‘সম্মান ক্যাপিটালে’ ৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন।
ভারতের গুজরাটে দ্বারকা জেলার ভাদিনারে একটি জাহাজ মেরামত ক্লাস্টার স্থাপনের জন্যও একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তিগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের অন্যতম প্রধান অংশীদার আবুধাবির সঙ্গে নয়াদিল্লির কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করবে।
হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে মোদির আহবান : আবুধাবিতে প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘ভারত প্রতিটি পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের জন্য ভারত সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করবে।’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর ইরানি হামলারও নিন্দা জানান তিনি। মোদি বলেন, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকা গুরুত্বপূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক আইনকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে।
ভারত-সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্বকে শক্তিশালী করার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি উল্লেখ করেন, গত জানুয়ারিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের ভারত সফরের সময় উভয় পক্ষ সম্পর্ককে গুণগতভাবে উন্নত করতে সম্মত হয়েছিল এবং অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যেই এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব বিশ্বজুড়ে অনুভূত হচ্ছে এবং সমস্যা সমাধানের জন্য সংলাপ ও কূটনীতিই সর্বোত্তম পথ।
ভারত-সংযুক্ত আরব আমিরাত সম্পর্ক : সংযুক্ত আরব আমিরাত ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার এবং গত ২৫ বছরের হিসেবে সপ্তম বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশ। দেশটিতে ৪৫ লাখেরও বেশি ভারতীয় বসবাস করেন, তাই এই সফরটি তাদের কল্যাণের বিষয়ে আলোচনারও একটি সুযোগ ছিল। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতার মধ্যেও সংযুক্ত আরব আমিরাত ভারতের অন্যতম নির্ভরযোগ্য জ্বালানি অংশীদার হিসেবে রয়ে গেছে। দীর্ঘমেয়াদী সরবরাহ চুক্তির ফলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও সুসংহত হবে।
নরেন্দ্র মোদি আরও চারটি ইউরোপীয় দেশ সফর করবেন : ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পশ্চিম) সিবি জর্জ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেদারল্যান্ডস সফর করবেন। সেখান থেকে তিনি সুইডেনের গথেনবার্গে যাবেন এবং সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসনের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। দুই প্রধানমন্ত্রী ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েনের সঙ্গে ব্যবসায়িক নেতাদের ফোরাম ‘ইউরোপীয় রাউন্ড টেবিল ফর ইন্ডাস্ট্রি’-তে ভাষণ দেবেন।
এরপর প্রধানমন্ত্রী মোদি সোমবার নরওয়ে সফর করবেন ৩য় ভারত-নর্ডিক শীর্ষ সম্মেলন ও দ্বিপাক্ষিক কর্মসূচির জন্য। সফরের শেষ পর্যায়ে মঙ্গলবার তিনি ইতালিতে থাকবেন। সেখানে তিনি প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাতারেলার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন এবং প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে বৈঠক করবেন। 
সূত্র : এনডিটিভির।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ