খুলনা | রবিবার | ১৭ মে ২০২৬ | ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

লিটনের লড়াকু সেঞ্চুরির পর উইকেটশুন্য পাকিস্তান

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
০৫:৫৫ পি.এম | ১৬ মে ২০২৬

 

দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণের মুখে শুরু থেকেই চাপে ছিল বাংলাদেশ। তবে সেই ধসের মাঝেই এক প্রান্ত আগলে রেখে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন লিটন কুমার দাস। তার ১২৬ রানের ইনিংসে ভর করে অল আউট হওয়ার আগে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৭৮ রানে। পাকিস্তান নিজেদের প্রথম ইনিংসে ছয় ওভারে বিনা উইকেটে ২১ রান করে দিন শেষ করেছে। এখনো ২৫৭ রানে পিছিয়ে আছে স্বাগতিকরা।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠান পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ। শুরুটা অবশ্য একেবারেই ভালো হয়নি স্বাগতিকদের। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই মোহাম্মদ আব্বাসের শিকার হয়ে শূন্য রানে ফেরেন মাহমুদুল হাসান জয়। এরপর অভিষেক টেস্ট খেলতে নামা তানজিদ হাসান তামিম কিছুটা আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ২৬ রান করে আব্বাসের বলেই ক্যাচ তুলে দেন তিনি।

এরপর মুমিনুল হকও সেট হয়েও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন। খুররম শাহজাদের দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড হওয়ার আগে ২২ রান করেন তিনি। তিন উইকেটে ১০১ রান নিয়ে লাঞ্চে যাওয়া বাংলাদেশ বিরতির পর দ্রুত হারায় নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজের উইকেট। শান্ত করেন ২৯ রান, মুশফিক ফেরেন ২৩ রানে আর মিরাজের ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৪ রান।

১০৬ রানে চার উইকেট হারানোর পর উইকেটে এসে ইনিংসের হাল ধরেন লিটন। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়লেও এক প্রান্তে দৃঢ় ছিলেন তিনি। ধৈর্য ও নিয়ন্ত্রিত আক্রমণের মিশেলে গড়ে তোলেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। খুররম শাহজাদকে চার মেরে পৌঁছে যান তিন অঙ্কে। পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি তার টানা দ্বিতীয় ও সবমিলিয়ে তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি।

১৬টি চার ও দুই ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসে লিটন গুরুত্বপূর্ণ দুটি জুটিও গড়েন। তাইজুল ইসলামের সঙ্গে সপ্তম উইকেটে যোগ করেন ৬০ রান। তবে তাইজুল ১৬ রান করে সাজিদ খানের বলে বোল্ড হলে ১৭৬ রানেই সপ্তম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর তাসকিন আহমেদও বেশি সময় টিকতে পারেননি। খুররম শাহজাদের বলে স্লিপে সালমান আলী আগার হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে করেন ৭ রান।

নবম উইকেটে শরিফুল ইসলামের সঙ্গে আরও ৬৪ রান যোগ করে বাংলাদেশের সংগ্রহকে আড়াইশ ছাড়ান লিটন। শেষ পর্যন্ত হাসান আলীর বলে পুল করতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন তিনি। তার বিদায়ে ২৭৮ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস। শরিফুল ১২ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ ব্যাটার হিসেবে নাহিদ রানা শূন্য রানে আউট হন।

পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন খুররম শাহজাদ। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহ গড়তে দেননি তিনি। মোহাম্মদ আব্বাসও নতুন বলে দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন। তবে দিনের শেষে আলোটা ছড়িয়েছেন লিটনই, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল এক ইনিংস খেলে দলকে লড়াইয়ে রেখেছেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার।

পাকিস্তানের হয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করবেন আজান আওয়াইস এবং ওপেনিংয়ে প্রোমোশন পাওয়া আব্দুল্লাহ ফজল। আজান ২০ বলে ১৩ এবং ফজল ১৬ বলে আট রানে অপরাজিত আছেন। এই টেস্টে ইমাম উল হকের বদলে বাবর আজম খেলার সুযোগ পেয়েছেন। আর তাই ওপেনিংয়ে প্রথম টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান আজানের সঙ্গে নামবেন ফজল।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ