খুলনা | সোমবার | ১৮ মে ২০২৬ | ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ডুমুরিয়ার মাদারতলা ফাঁড়ির দুই পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

হরিণের মাংসসহ একজনকে আটকের পর ৭০ হাজার টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ

ডুমুরিয়া প্রতিনিধি |
০১:৫২ এ.এম | ১৮ মে ২০২৬


ডুমুরিয়ার মাদারতলায় ১৫ কেজি হরিণের মাংসসহ সুফল মন্ডল (২৮) নামে এক ব্যক্তিকে আটকের পর ৭০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগে ডুমুরিয়ার মাদারতলা ফাঁড়ি পুলিশের দুই সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। রোববার দুপুরে খুলনা জেলা পুলিশ সুপার তাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেরিত বার্তায় এ তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়। সাথে সাথে অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যকে শিরোমনি খুলনা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত হতে বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত গত ১২ মে মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে ডুমুরিয়ার মাদারতলা এলাকার পরিতোষ মন্ডলের ছেলে সুফল মন্ডলকে মাদারতলা ফাঁড়ির অদূরে টাওয়ার এলাকায় ১৫ কেজি হরিণের মাংসসহ আটক করে ফাঁড়ির দুই পুলিশ সদস্য। তারা হলেন-কং নম্বর ৮৩৯ মোঃ মাইনুল ইসলাম ও কং নম্বর ৫৪২ মোঃ মুছাব্বির হোসেন। কোন অফিসার ব্যতিরেকে তারা মামলার ভয় দেখিয়ে আটক সুফলের কাছ থেকে নগদ ৭০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ ও মাংস ভাগবাটোয়ারা করে নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠে। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা ঝড় ওঠে। তোপের মুখে পড়ে যায় পুলিশের দুই সদস্য। এক পর্যায়ে গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সুফলের কাছ থেকে নেয়া ঘুষের ৭০ হাজার টাকা হতে ৪০ হাজার টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন পুলিশের ওই দুই কনেস্টবল। আরও ১০ হাজার টাকা গত শনিবার রাতে ফেরত দেয়ার কথা ছিল বলে জানিয়েছেন সুফলের কাকা প্রকাশ মন্ডল। 
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফাঁড়িতে কর্মরত অধিকাংশ পুলিশ সদস্য ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তারা বলেন ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষ বিষয়টি জানতে চাইলে তারা প্রত্যক্ষ স্বাক্ষ্য দিবেন। এ বিষয়ে মাদারতলা ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই নাজির হোসেন বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমার কোন কিছু জানা ছিল না। পরে বিষয়টি শুনেছন এবং থানার তদন্ত ওসিকে অবগত করেছেন। খবর পেয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) ওসি তদন্ত আছের আলি শনিবার রাতে ক্যাম্প পরিদর্শনে যান এবং ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন অপরাধ তো অপরাধই। এ বিষয়ে খুলনা জেলা পুলিশ সুপার তাজুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ