খুলনা | বুধবার | ০৫ অগাস্ট ২০২৬ | ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন

চুরির ১২ ঘণ্টার মাথায় ডিজিটাল হাজিরা মেশিন উদ্ধার, খুমেকের পিয়ন কাউসার বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০১:৩৬ এ.এম | ১৯ মে ২০২৬


খুলনা মেডিকেল কলেজ-এর শিক্ষক হাজিরায় ব্যবহৃত ডিজিটাল ফেস ডিটেকটর হাজিরা মেশিন চুরির ১২ ঘণ্টার মাথায় উদ্ধার হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত হওয়া চোর প্রতিষ্ঠানটির এমএলএসএস কাউসারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কলেজ প্রশাসন। ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কয়েকজন শিক্ষক এবং কলেজের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রোববার সন্ধ্যায় কলেজের নৈশপ্রহরীরা দায়িত্ব পালনের জন্য আসলে নিচতলায় ডিজিটাল হাজিরার ফেস ডিটেকটর মেশিন দেখতে না পাওয়ায় অধ্যক্ষকে জানায়।
সোমবার সকালে কলেজে অধ্যক্ষ কক্ষে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এমএলএসএস কাউসার বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে ঐ কক্ষে প্রবেশ করে এবং ৩টা ৯ মিনিটে মেশিনটি হাতে নিয়ে বের হয়ে যায়। এ ঘটনায় পুরো কলেজ জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। পরে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ এসে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে কাউসার ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং মেশিন ফেরত দেয়।
এ ঘটনায় একজন শিক্ষক ও বিভাগীয় প্রধানের জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়ায় পুরো কলেজ জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। পরে ঘটনা তদন্তে উপধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ সৈয়দ আমানুল হাসানকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়। আগামী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সাথে সাময়িক ভাবে বহিষ্কার করা হয় অভিযুক্ত এমএলএসএস কাউসারকে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ-এর অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ মোঃ গোলাম মাসুদ সময়ের খবরকে বলেন, কয়েকজন শিক্ষক সকালে মেশিনটিতে আঙ্গুলের ছাপ দিতে যেয়ে সেটা দেখতে না পেয়ে তার কক্ষে যেয়ে বিষয়টি অবহিত করেন। এরপর অন্য শিক্ষকদের সাথে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরবর্তীতে কলেজের এক কর্মচারীর কক্ষ হতে মেশিনটি উদ্ধার করা হয়।
অধ্যক্ষ আরও বলেন ঘটনাটিকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বে সাথে বিবেচনা করেছি। তদন্তের স্বার্থে কোন তথ্যই এখন আপনাদের দেওয়া যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য নিয়ে তদন্ত চলছে। খুব শিগগিরই আমরা বিস্তারিত জানাবো।
এদিকে দায়িত্বশীল একটি সূত্র দৈনিক সময়ের খবর’কে জানান, কলেজের প্রশাসনিক ভবনের পাঁচ তালার ৪০৪ নম্বর রুম থেকে ফিঙ্গার মেশিনটি উদ্ধার হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম কাউসার আলী (৫২), তিনি অফিস সহায়ক পদে কর্মরত। সিসি টিভির ফুটেজ দেখে তার কক্ষ হতে মেশিনটি উদ্ধার করা হয়। জনৈক চিকিৎসকের নির্দেশে তিনি ওই মেশিনটি খুলে নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি জানান, চিকিৎসকদের একটি অংশের মধ্যে গ্র“পিং রয়েছে। ইদার্নিং তাদের মধ্যে শীতল উত্তেজনা বিরাজ করছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ