খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২১ মে ২০২৬ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নিহতের পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে ড. ফরিদুল

গুলিতে নিহত জেলে আমিনুর গাজীর পরিবারের দায়িত্ব নিলেন বিএনপি নেতা ড. মনিরুজ্জামান

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
০২:০৬ এ.এম | ২০ মে ২০২৬


সুন্দরবনের অভয়ারণ্য এলাকায় কাঁকড়া শিকারের সময় বন বিভাগের স্মার্ট পেট্রোল টিমের সদস্যদের গুলিতে নিহত জেলে আমিনুর রহমান গাজীর পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক ড. মনিরুজ্জামান। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহŸায়ক ড. মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে শ্যামনগর উপজেলা বিএনপি’র অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা গ্রামে নিহত মৎস্যজীবী আমিনুরের বাড়িতে যান।
এ সময় ড. মনিরুজ্জামান স্থানীয় গ্রামবাসী ও  নিহতের পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, বনকর্মীদের গুলিতে বনজীবী আমিনুর রহমান নিহত হওয়ার ঘটনা জানার পর আমি জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল আমাদের জেলে -বাওয়ালি ও মৌয়ালরা বারবার বিভিন্ন ভাবে আক্রান্ত হচ্ছে। এসব ঘটনার জের ধরে একজনের জীবন দিতে হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। 
তিনি বলেন, বনদস্যু ও বন বিভাগের দুর্বৃত্তপনা নিরসনের জন্য আমি কাজ করবো। সংশ্লিষ্ট বিভাগের লোকদের নিয়ে আমাদের এলাকার বনজীবীদের সামনে বসার ব্যবস্থা করা হবে। জেলে-বাওয়ালিদের জন্য সুন্দরবন যাতে একটি নিরাপদ স্থান হয় সেই ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনের সংশ্লি¬ষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে এ ব্যাপারে সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান তিনি। 
সুন্দরবনে গুলিতে নিহত বনজীবী আমিনুর রহমানের পাঁচটি সন্তান সহপরিবারের পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বিএনপি নেতা ড. মনিরুজ্জামান বলেন, তাদের বসবাসের জন্য একটি ঘর তৈরি করে দেয়া হবে। পরিবারটি যাতে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয় সেই ব্যবস্থা করা হবে। আমিনুর হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত-পূর্বক দোষী ব্যক্তির উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেয়া হবে। একই সাথে বন বিভাগের লোকদের হাতে আটক শ্যামনগরের জেলে-বাওয়ালিদের নৌকাগুলো দ্রুত ফেরত আনার ব্যবস্থা করা হবে। এ সময় ড. মনিরুজ্জামান নিহতের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। 
গ্রামবাসীদের সাথে কথা বলার এক পর্যায়ে  ড. মনিরুজ্জামানের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে নিহত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং সান্ত্বনা দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।
এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে জেলে নিহতের এই ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয় বিদারক। সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একটি সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে এবং প্রকৃত দোষীদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
এদিকে, দুপুর ১২টার দিকে নিহতের পরিবারকে সান্ত্বনা ও সহায়তা দিতে আসে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দল। শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুর রহমান নিহতের পরিবারের হাতে আর্থিক সহযোগিতা তুলে দেন।
মাওলানা আব্দুর রহমান বলেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে এই পরিবারটি আজ দিশাহারা। জামায়াতে ইসলামী সব সময় মজলুমের পাশে থাকে। আমরা এই অসহায় পরিবারটিকে আর্থিক সহযোগিতা করেছি এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এই ৫ এতিম সন্তানের দায়িত্ব নিয়ে সব সময় পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্র“তি দিচ্ছি।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ মে সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন থেকে পাস নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিলেন আমিনুরসহ ৪ জেলে। সোমবার সকাল ৭টার দিকে খুলনা রেঞ্জের নলিয়ান স্টেশনের পাটকোস্টা হেলাবাসী অভয়ারণ্য এলাকায় কাঁকড়া আহরণের সময় বন বিভাগের ‘স্মার্ট পেট্রোল টিম’-এর সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে জেলে আমিনুর রহমান গাজী ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
এ ঘটনার পর সোমবার (১৮ মে) বিকেলে নিহত জেলে আমিনুর রহমানের মরদেহ নিয়ে শত শত বিক্ষুব্ধ বনজীবী ও স্থানীয় বাসিন্দা শ্যামনগরের  বুড়িগোয়ালিনীস্থ বন বিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জ অফিস ও পাশের স্টেশন অফিসে চড়াও হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা অফিস ভবনসহ ভেতরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। হামলায় বনকর্মী তপন, মেজবাহ, ফারুক, এখলাছুর ও ফায়জুর মারাত্মক জখম হন। 
খবর পেয়ে বিজিবি ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত বনকর্মীদের উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্সে ভর্তি করে।এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ  (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, সুন্দরবনে গুলিতে জেলে নিহত এবং পরবর্তীতে বন বিভাগের অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ