খুলনা | সোমবার | ১৫ জুন ২০২৬ | ১ আষাঢ় ১৪৩৩

কাঁচা পাট রপ্তানিতে শর্ত আরোপ : প্রতিবাদে খুলনায় শ্রমিক বিক্ষোভ-অবরোধ বিজেএ ভবন ভাঙচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০২:১২ এ.এম | ২০ মে ২০২৬


কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং বকেয়া  বেতনের দাবিতে খুলনায় উত্তাল বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন পাটকল শ্রমিকরা। আন্দোলন চলাকালে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বাংলাদেশ জুট এ্যাসোসিয়েশন (বিজেএ) ভবনে ভাঙচুর চালান। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রায় দেড় ঘণ্টা দৌলতপুর বিজেএ ভবনের সামনে  পুরাতন খুলনা-যশোর সড়ক অবরোধ করে রাখা হয়। এতে সড়কের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার পর নগরীর দৌলতপুর থানার রেলিগেট মোড় থেকে শত শত শ্রমিক একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বাংলাদেশ জুট এ্যাসোসিয়েশন (বিজেএ) ভবনের সামনে গিয়ে সড়ক অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে বিজেএ ভবনের জানালা ভাঙচুর করেন এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। এ সময় তারা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছ ফেলে অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে পুরাতন খুলনা-যশোর সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও শ্রমিক নেতারা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরবর্তীতে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হলে দুপুর ১২টার পর শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।
এদিকে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার পর দুপুরে বাংলাদেশ জুট এ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএ) নেতৃবৃন্দ তাদের নিজস্ব ভবনে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন। 
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ জানান, গত ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর কাঁচা পাট রপ্তানির উপর সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এর ফলে গত ৯ মাস ধরে হাজার হাজার শ্রমিক সম্পূর্ণ কর্মহীন অবস্থায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন। কাঁচাপাট রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধু শ্রমিকরাই নন, দেশের পাট ব্যবসায়ীরাও দেউলিয়া হওয়ার পথে এবং বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
একাধিক শ্রমিক জানান, “নয় মাস ধরে ঘরে চাল নাই, পোলাপানের মুখে খাবার দিতে পারি না। বকেয়া বেতনও পাচ্ছি না। আমরা বাঁচবো কীভাবে? অবিলম্বে পাট রপ্তানি চালু করা হোক।” “ব্যবসায়ীরা বলে পাট রপ্তানি বন্ধ তাই বেতন দিতে পারছে না। সরকারের এই  বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত আমরা মানি না।”বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের অভিযোগ, অন্তর্বতী সরকারের সাবেক পাট ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থে কাঁচা পাটকে শর্তযুক্ত রপ্তানি পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। এর ফলে প্রায় ৯ মাস ধরে দেশের প্রায় ৪০টি জুট প্রেস বন্ধ রয়েছে। এতে লক্ষাধিক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
তাঁরা অবিলম্বে কাঁচা পাটকে শর্তযুক্ত রপ্তানি পণ্যের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে সাবেক পাট উপদেষ্টার গ্রেফতার এবং বর্তমান পাটমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন শ্রমিকেরা।
দৌলতপুর জুট প্রেস এন্ড বেলিং ওয়ার্কার্স-এর সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম মিঠু বলেন, সাবেক এক উপদেষ্টার ব্যক্তিগত মদদে এবং কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহলের চক্রান্তে এই কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধ করা হয়েছে। এর ফলে দেশের সোনালী আঁশ আজ ধ্বংসের মুখে। অবিলম্বে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে রপ্তানি চালু করা না হলে আগামীতে আরও কঠোর ও রাজপথ কাঁপানো কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বাংলাদেশ জুট এ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএ) চেয়ারম্যান খন্দকার আলমগীর কবির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অযৌক্তিক শর্ত আরোপের মাধ্যমে কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধ করার এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে যদি কাঁচা পাট রপ্তানি পুনরায় চালু করা না হয়, তবে দেশের হাজার হাজার শ্রমিক চিরতরে কর্মহীন হয়ে পড়বেন। একই সাথে দেশের ঐতিহ্যবাহী পাট শিল্প সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে পড়বে। আমরা সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ