খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২১ মে ২০২৬ | ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

১০৪ বছরের বৃদ্ধ বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দিলেন ছেলে

খবর প্রতিবেদন |
০৩:৩২ পি.এম | ২০ মে ২০২৬


নিজে না খেয়ে সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন, কষ্ট করে মানুষ করেছেন একমাত্র ছেলেকে। অথচ সেই সন্তানই ১০৪ বছরের বৃদ্ধ বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। এখন অন্যের বাড়িতে আশ্রিত হয়ে মানবেতর জীবন কাটছে পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার তসীমউদ্দীন প্রামানিকের।

তসীমউদ্দীন প্রামানিকের বাড়ি পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের ষাটগাছা গ্রামে। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর একমাত্র সন্তানকে নিয়েই ছিল তার ছোট সংসার। দীর্ঘ ৫৫ বছর মুয়াজ্জিনের কাজ করে সংসার চালিয়েছেন তিনি। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এই বৃদ্ধ এখন আশ্রয়হীন।

তসীমউদ্দীন প্রামানিক বলেন, ৫৫ বছর মুয়াজ্জিনের কাজ করে সংসার চালিয়েছি। এখন ছেলে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। লেপ-কম্বল আর কিছু আসবাব নিয়ে ৩০০ টাকা গাড়িভাড়া করে প্রথমে যেখানে মুয়াজ্জিনের কাজ করেছি, সেখানে যাই। কিন্তু সেখানেও জায়গা হয়নি। পরে এই বাড়িতে এসে উঠেছি। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত এখানেই থাকতে চাই।

কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বলেন, তোমরা দয়া করে আমাকে বাঁচাও। ছেলে বলে দিয়েছে, এই সীমানার মধ্যে যেন আমাকে না দেখে।

এমন পরিস্থিতিতে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন মালিগাছা ইউনিয়নের খন্দকারপাড়ার রেজাউল ও তার স্ত্রী আকলিমা খাতুন চায়না। নিজেদের ছোট্ট ঘরেই আশ্রয় দিয়েছেন বৃদ্ধ তসীমউদ্দীনকে।

আকলিমা খাতুন বলেন, আজ থেকে সাত-আট মাস আগে তার ছেলে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এরপর থেকে তিনি আমাদের বাড়িতে আছেন। যতটুকু পারছি সেবা-যত্ন করছি। শেষ সময় পর্যন্ত যদি এখানে থাকেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ যত্ন করে রাখব।

স্থানীয় ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, একজন বাবা সারাজীবন সন্তানদের জন্য উৎসর্গ করেন। শেষ বয়সে তার এমন পরিণতি খুবই মর্মান্তিক। এ ঘটনায় ছেলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

প্রতিবেশী রমজান আলী বলেন, ভালো থাকা অবস্থায় বাবা দরকার ছিল। এখন বৃদ্ধ হয়ে যাওয়ায় ছেলে তাকে তাড়িয়ে দিয়েছে। এই বয়সে তিনি কোথায় যাবেন?

স্থানীয় যুবক আকমল হোসেন বলেন, সরকারিভাবে তাকে সহায়তা দেওয়া হলে বাকি জীবনটা ভালোভাবে কাটাতে পারবেন। পাশাপাশি তার ছেলের বিরুদ্ধে ভরণপোষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ছেলে নয়নের হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পাবনা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আবদুল কাদের বলেন, অসহায় বৃদ্ধ তসীমউদ্দীনের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ