খুলনা | শুক্রবার | ২২ মে ২০২৬ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ঈদযাত্রায় যানজটের শঙ্কা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন

|
১২:৩৩ এ.এম | ২২ মে ২০২৬


পবিত্র ঈদুল আযহার আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। চলছে বাড়ি যাওয়ার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কিন্তু আশঙ্কা করা হচ্ছে, এবারও ঈদযাত্রায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হবে। মহাসড়কে অব্যবস্থাপনা, কোথাও খানাখন্দ, আবার কোথাও উন্নয়নকাজের জন্য রাস্তার করুণ দশা। এছাড়া ঈদুল- আযহায় পথে পথে পশুর হাটও যান চলাচলে বড় বাধা হয়। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এবারও দুর্ভোগ পিছু ছাড়বে না।
খবরে বলা হয়, ধারণা করা হচ্ছে, আসন্ন ঈদে প্রায় এক কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়বে। তাদের ৮৫ শতাংশই সড়কপথ ব্যবহার করবে। দেশের সাতটি মহাসড়কে কমপক্ষে ৯৪টি যানজটের হটস্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। ঈদযাত্রায় তা কতটা অসহনীয় হতে পারে, তা অনুমেয়।
যানজটের জন্য দায়ী অন্যান্য সমস্যার মধ্যে রয়েছে ফিটনেসবিহীন গাড়ি বিকল হয়ে পড়া, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, মহাসড়কেও অটোরিকশার দৌরাত্ম্য ইত্যাদি। হতাশার কথা হলো, বছরের পর বছর ধরে চলে আসা এসব সমস্যার যেন কোনো সমাধানই নেই।
জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অন্তত ২৫টি স্থান যানজটপ্রবণ। কোথাও ভাঙাচোরা, কোথাও চলছে সংস্কারকাজ। শুধু সীতাকুণ্ডেই সাতটি যানজটের হটস্পট। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এলেঙ্গায় নির্মীয়মাণ ফ্লাইওভার এবার যাত্রীদের মাত্রাতিরিক্ত ভোগাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে কমপক্ষে সাতটি স্থানে যানজটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দূরবস্থার কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। স্বাভাবিক সময়েই এই সড়কে এক ঘণ্টার পথে কয়েক ঘণ্টা লেগে যায়, ঈদযাত্রায় কত ঘণ্টা লাগবে, তা হিসাব করা কঠিন।
প্রতিবছরই ঈদযাত্রার আগে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বৈঠক করা হয়। যাত্রী ভোগান্তি কমাতে নানা সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে যেন সবকিছু ভেঙে পড়ে। চিরচেনা যানজট, লঞ্চ ও ট্রেনের ছাদে অগণিত মানুষের ছবি আমাদের সামনে আসে। এবারও সরকারের তরফ থেকে নানা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের তরফ থেকে বলা হয়েছে, যানজটপ্রবণ এলাকায় সিসিটিভির সহায়তা নেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে সেসব কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখন দেখার বিষয়।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে আসন্ন ঈদযাত্রা বেশ কঠিন হবে। কাজেই মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সরকারকে এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং যানজট নিরসনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে কঠোর হতে হবে। রাস্তার ওপর যেন কোনো পশুর হাট না বসে, তার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। আমরা চাই, আসন্ন ঈদযাত্রা নির্বিঘœ হোক, এটিই কাম্য।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ