খুলনা | রবিবার | ২৪ মে ২০২৬ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইরানেই থাকবে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম : নির্দেশ মুজতাবা খামেনির

খবর প্রতিবেদন |
০১:৩৩ এ.এম | ২২ মে ২০২৬


ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতাবা খামেনি এক নির্দেশ জারি করে জানিয়েছেন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি উপযোগী সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোনওভাবেই দেশের বাইরে পাঠানো যাবে না।

বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স ইরানের দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা র বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। এমন নির্দেশ দেওয়ার মাধ্যমে মূলত শান্তি প্রস্তাবে ইউরেনিয়াম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান শর্তের বিষয়ে ইরান নিজেদের অবস্থান কঠোর করল।

মুজতাবা খামেনির এই নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে আরও হতাশ করতে পারে এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শেষ করার আলোচনা জটিল করে তুলতে পারে।

ওদিকে, বৃহস্পতিবারই হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের ট্রাম্প প্রতিজ্ঞা করে বলেছেন, ইরানকে কোনোভাবেই উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত রাখতে দেবে না যুক্তরাষ্ট্র।

তিনি বলেন, “আমরা এটি নিয়ে নেব। আমাদের এটার প্রয়োজন বা চাওয়া নেই। পাওয়ার পর সম্ভবত আমরা এটি ধ্বংস করে দেব, কিন্তু তাদের কাছে এটি রাখতে দেব না।”

রয়টার্সকে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প ইসরায়েলকে আশ্বস্ত করেছেন যে, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত অবশ্যই দেশটির বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে এবং যে কোনও শান্তি চুক্তিতে এই ধারা অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও বলেছেন, ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ, দেশটির ছায়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর সমর্থন বন্ধ এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত তিনি যুদ্ধ শেষ বলে বিবেচনা করবেন না।

ওদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনা এবং এস্টাবলিশমেন্ট বা শাসনব্যবস্থার ভেতরের ঐকমত্য হল, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কোনোভাবেই দেশ ছাড়বে না।”

ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ধারণা, এই খনিজ উপাদান বাইরে পাঠিয়ে দিলে দেশ ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণের মুখে আরও বেশি অরক্ষিত হয়ে পড়বে। উল্লেখ্য, ইরানের যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে সর্বোচ্চ নেতার কথাই চূড়ান্ত।

শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে গভীর সন্দেহ
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধে বর্তমানে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি চলছে।

তবে শান্তি প্রচেষ্টায় বড় কোনও অগ্রগতি হয়নি। মার্কিন নৌ অবরোধ এবং বিশ্ব তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি তে তেহরানের শক্ত অবস্থানের কারণে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলা আলোচনা বেশ জটিল রূপ নিয়েছে।

ইরানের দুজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশটির ভেতরে গভীর সন্দেহ রয়েছে যে, এই যুদ্ধবিরতি মূলত ওয়াশিংটনের একটি কৌশলগত প্রতারণা, যাতে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করার আগে একটি সাময়িক নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা যায়।

বুধবার ইরানের প্রধান শান্তি মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেন, “শত্রুর দৃশ্যমান ও গোপন তৎপরতা” প্রমাণ করে যে মার্কিনিরা নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

যদিও দুই পক্ষ কিছু বিষয়ে দূরত্ব কমিয়ে এনেছে, তবে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভাগ্য এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে তেহরানের অধিকারের স্বীকৃতির মতো মৌলিক বিষয়ে গভীর মতভেদ রয়েই গেছে।

ইরানি কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, তেহরানের প্রধান অগ্রাধিকার হল যুদ্ধের স্থায়ী অবসান এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আর কোনও হামলা চালাবে না, এমন নির্ভরযোগ্য গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা পাওয়া।

এই নিশ্চয়তা পাওয়ার পরেই কেবল ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় বসতে রাজি হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ