খুলনা | শুক্রবার | ২২ মে ২০২৬ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

ইসি খুবই নিরপেক্ষ ছিল, তাদের উন্নতি দেখেছি : আনফ্রেল

খবর প্রতিবেদন |
০২:০৬ এ.এম | ২২ মে ২০২৬


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঋণ খেলাপিদের অংশ নিতে দেওয়ার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ না করলেও নির্বাচন কমিশন (ইসি) খুবই নিরপেক্ষ ছিল এবং তাদের কাজের উন্নতি দৃশ্যমান হয়েছে বলে মনে করে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (আনফ্রেল)। তবে নির্বাচন শতভাগ ত্র“টিমুক্ত ছিল না এবং এখনো অনেক ক্ষেত্রে উন্নতির সুযোগ রয়েছে বলে মত আন্তর্জাতিক এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থাটির। বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে আনফ্রেলের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। 
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আনফ্রেলের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ দলের প্রধান রোহানা হেত্তিয়ারাচ্চি, নির্বাহী পরিচালক ব্রিজা রোজালেস, নির্বাচন বিশ্লেষক কার্লো আফ্রিকা এবং সিনিয়র প্রোগ্রাম ডিরেক্টর থারিন্দু আভেয়রাথনা। এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ও ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
বিগত নির্বাচনে ঋণ খেলাপিদের অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ব্রিজা রোজালেস বলেন, কোনো ঋণগ্রস্তকে সুযোগ দেওয়া বা কাউকে না দেওয়ার বিষয়টি তারা আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করেননি। তবে সামগ্রিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে নির্বাচন কমিশন খুবই নিরপেক্ষ ছিল এবং তাদের কাজের উন্নতি হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি এই চ্যালেঞ্জ ও উদ্বেগের বিষয়টি নোট করে সেখানে উপস্থিত ইসি সদস্যদের এটি সরাসরি সমাধানের আশা প্রকাশ করেন।
বিষয়টি নিয়ে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন জানান, সর্বোচ্চ আদালতে দু’টি মামলা বিচারাধীন থাকায় তিনি এ নিয়ে কোনো বক্তব্য দেবেন না, তবে কমিশন কারও প্রতি কোনো দয়া দেখায়নি। সংবাদ সম্মেলনের সমাপনীতে রোহানা হেত্তিয়ারাচ্চি বলেন, অন্তর্বতী সরকারের অধীনে দীর্ঘ সময় পর ইসি একটি ভালো নির্বাচনের জন্য প্রতিশ্র“তিবদ্ধ ছিল। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পর বোঝা গেছে যে, আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনসহ যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত রয়েছে এবং কমিশনের ওপর তাদের যথেষ্ট আশা আছে।
আনফ্রেলের প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, নির্বাচনের একটি স্থায়ী সংকট হচ্ছে জবাবদিহিতা। নির্বাচনী অনিয়মের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে মানুষের আস্থা সীমিত ছিল, বিশেষ করে অর্থের প্রভাব ও অনানুষ্ঠানিক নির্বাচনী অর্থায়নের বিষয়টি এখানে ফুটে উঠেছে। প্রচারণার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের অতিরিক্ত ব্যয়ের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে এবং পোস্টার সংক্রান্ত বিধিমালার প্রয়োগেও স্পষ্ট অসামঞ্জস্য ছিল, যা কমিশনের নিজস্ব বিধি কার্যকর করার ক্ষমতা নিয়ে জনমনে আস্থা হ্রাস করেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নির্বাচনের দিনে অর্থের প্রভাব সংক্রান্ত একটি সুনির্দিষ্ট দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়েছে, যা ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি করেছিল। রাজনৈতিক দলের দেওয়া ভোটার স্লিপ কিছু ভোটার ভোটকক্ষে প্রবেশের সময় পোলিং এজেন্টদের সামনে প্রদর্শন করছিলেন, যা ভোট কেনাবেচা বা প্রলোভনমূলক চুক্তির যাচাইকরণ পদ্ধতি হিসেবে কাজ করে থাকতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আনফ্রেল। এছাড়া নির্বাচন পূর্ব ও প্রচারের সময় স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে সূ² চাপ প্রয়োগ ও পেশিশক্তির ব্যবহার দেখা গেছে।
ভোটদান ও গণনা প্রক্রিয়া সাধারণত সুশৃঙ্খল হলেও কিছু ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ স্বচ্ছতামূলক সুরক্ষা ব্যবস্থা সমানভাবে প্রয়োগ করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। কোনো কোনো স্থানে ব্যালট বাক্স খোলার সময় মূল যাচাইকরণ পদক্ষেপগুলো ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করা না হলেও, তা ভোটের ফলাফল পরিবর্তন করেছে এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে এটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনে আস্থা হ্রাস করার ঝুঁকি তৈরি করে। এছাড়া পর্যবেক্ষক পরিচয়পত্র ভোটের অল্প কিছুদিন আগে দেওয়ায় ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ সম্ভব হয়নি বলেও জানানো হয়।
রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও সর্বজনীন অংশগ্রহণের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে গণভোটের ফলাফল জুলাই সনদের অধীনে সংস্কার বাস্তবায়নের বিশ্বাসযোগ্য অগ্রগতির প্রত্যাশাকে জোরদার করেছে। 
আনফ্রেলের মতে, বাংলাদেশে নির্বাচন দিনের আস্থার ইতিবাচক অগ্রগতি তখনই টেকসই হবে, যখন নির্বাচন-পরবর্তী শাসন ব্যবস্থা নিয়মভিত্তিক জবাবদিহিতার ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে নির্বাচনী অর্থ ব্যয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, অভিযোগ করার স্পষ্ট সুযোগ এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো ও ভয়ভীতি দেখানোর মতো বিষয়গুলো বন্ধ করতে সংস্কারমূলক পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ