খুলনা | রবিবার | ২৪ মে ২০২৬ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ-হামলা, ছাত্রদল নেতাসহ ৮ জনের নামে মামলা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি |
১০:৫৭ পি.এম | ২২ মে ২০২৬


‎ঝিনাইদহ শহরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর হামলা, মারপিট ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় ছাত্রদলের ৮ নেতার নামসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১১০ থেকে ১১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। ‎‎শুক্রবার রাতে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সদস্য সচিব তারেকুল ইসলাম তারেক রেজা।
‎আসামিরা হলেন ইসলামী ইউনিভার্সিটি শাখা ছাত্রদলের আহŸায়ক শাহেদ আহম্মেদ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন, সাবেক সভাপতি এস এম সমিনুজ্জামান সমিন, সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেল, সাবেক সহ-সভাপতি নয়ন হাওলাদার, পৌর ছাত্রদলের সভাপতি মোবারেক হোসেন ইমন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক হাদুসহ ৮ জনকে।
‎‎এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট জামে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। ‎‎এ সময় হামলাকারীরা ঘুষি, ইটপাটকেল, জিআই পাইপ, বেসবল ব্যাট ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করে বলে অভিযোগ করা হয়। ‎‎হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, তানাইম, আসিফ, আলামিন, হাসিবুর রহমান, নাহিয়ান খান নিয়াজ ও অয়ন রহমান খানসহ কয়েকজন আহত হন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ‎এছাড়া হামলার সময় একটি ডিএসএলআর ক্যামেরা, কয়েকটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগও আনা হয়েছে। ছিনতাই হওয়া মালামালের মধ্যে একটি সনি আলফা এ৬৪০০ ক্যামেরা, ট্যামরন লেন্স ও মেমোরি কার্ড রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।
‎মামলায় আরও বলা হয়, স্থানীয় এনসিপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। যাওয়ার সময় হামলাকারীরা এনসিপির নেতাকর্মীদের হত্যার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহŸায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিভিন্ন জেলায় সফরে গিয়ে বিএনপি’র সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে নিয়ে নানা কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিচ্ছেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঝিনাইদহ সফরে এলে আমি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য না দেওয়ার বিষয়ে আলাপ করতে যাই। এ সময় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ডিম নিক্ষেপ করে। মারামারি বা ডিম নিক্ষেপের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।’এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেল জানান, ‘এ ঘটনায় ছাত্রদলের কেউ জড়িত নয়।’
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘জুমার নামাজ শেষ করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের সন্ত্রাসী বাহিনী হামলা চালায়। হামলায় জেলা পরিষদের প্রশাসক ও ঝিনাইদহ জেলা বিএনপি’র সভাপতি এড. এম এ মজিদ এবং নব্য বিএনপি কর্মী রাশেদ খাঁনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের নেতৃত্বে হকিস্টিকসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার ওপর হামলা করা হয়।’ 
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, ‘আমাদের জায়গা থেকে আমরা শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখেছি। হামলার সময় আমাদের অনেক সহকর্মীর ফোন ও মানিব্যাগ ছিনতাই করে নিয়ে যায় তারা। এমনকি আমাদের ওপর ডিমও নিক্ষেপ করা হয়।’
ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, ‘আইনমন্ত্রীর এলাকায় যদি আইনশৃঙ্খলার এমন অবনতি হয়, তাহলে আমরা মনে করি, আইনমন্ত্রী তাঁর জায়গায় থাকতে পারেন না। আইনমন্ত্রীকে দ্রুত পদত্যাগ করিয়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা উচিত।’ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি এই ঘটনার বিচার না করেন তাহলে আমরা ঢাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করব।’
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী থানায় এসেছেন। 
ওসি আরও জানান, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ