খুলনা | রবিবার | ২৪ মে ২০২৬ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

এবার রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধে গিয়ে মাদারীপুরের যুবক নিহত, এলাকায় শোকের ছায়া

খবর প্রতিবেদন |
০১:৩৫ এ.এম | ২৩ মে ২০২৬


রাশিয়ার সেনাবাহিনীর হয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গিয়েছিলেন মাদারীপুরের সুরুজ কাজী (৩৪) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এদিকে নিহতের মৃত্যুর খবরে বাড়িতে স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শুক্রবার সকালে মাদারীপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ খাগড়াছড়া এলাকার সুরুজের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে চলছে শোকের মাতম। গত সোমবার রাশিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হয়েছেন তিনি। বিষয়টি গতকাল বৃহস্পতিবার স্বজনরা জেনেছেন বলেও জানান তার পরিবার।
নিহত সুরুজ মাদারীপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ খাগড়াছড়া এলাকার শাহাবুদ্দিন কাজীর ছেলে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে সুরুজ ছিলেন সবার বড়।
নিহত ব্যক্তির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উন্নত জীবনের আশায় বাংলাদেশি এক দালালের মাধ্যমে ইউরোপ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সুরুজ। অনেক চেষ্টার পরও ইউরোপের ভিসা না পেয়ে এক এজেন্সির মাধ্যমে তিনি রাশিয়ায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আট মাস আগে তিনি বাংলাদেশ থেকে রাশিয়ায় যান। সেখানে স্বাভাবিক কাজে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশি দালালের খপ্পরে পড়ে তিনি রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। সম্প্রতি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে নিহত হন সুরুজ। প্রথমে তার মৃত্যুর বিষয়টি গোপন রাখা হলেও রাশিয়ায় অবস্থানরত দুই বাংলাদেশি প্রবাসী যুবক মুঠোফোনে সুরুজের পরিবারকে বিষয়টি জানান গণকাল।
এদিকে সুরুজের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই তার বাড়িতে স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীর ভিড় বাড়তে থাকে। পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে বাড়ির চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
এদিকে উপার্জনকারী ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বাবা শাহাবুদ্দিন কোনো।
কান্না জড়িত কণ্ঠে এ সময় তিনি বলেন, আমার কোনো বড় ছেলে নাই। এই পোলাই আমার সব। তারে নিয়া অনেক স্বপ্ন ছিল। এভাবে যে আমার পোলাটা চইলা যাইবে এ আমি কল্পনা করি নাই। সরকারের কাছে দাবি, আমার ছেলের লাশটা যেন দেশে এনে দেয় এবং আমাদের পরিবারের জন্য সাহায্য-সহযোগিতা করেন।
তিন মাস আগে সুরুজের দুই বছর বয়সী ছেলে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। প্রথমে একমাত্র সন্তান ও পরে স্বামীকে হারিয়ে পাগলপ্রায় স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার (২২)। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেল। আর কোনো স্মৃতি রইল না। আমি কারে আলগায় বাঁচমু।’
নিহত সুরজের বন্ধু রুবেল মুন্সী ও আরিফ হাসান সাইফুল ইসলাম রাহান বলেন, সুরজ ছোটবেলা থেকেই অনেক পরিশ্রমী ছিল। তার এমন মৃত্যু আমরা কোনো ভাবেই মানতে পারছি না। আমরা তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানাই।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে মাদারীপুরের এক যুবকের মৃত্যুর খবর স্বজনদের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি। এ ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করলে আমরা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।
মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে লাশ দেশে আনার জন্য সহযোগিণা করা হবে। এ ছাড়া শোকাহত পরিবারটির পাশে উপজেলা প্রশাসন সব সময় থাকবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ