খুলনা | রবিবার | ২৪ মে ২০২৬ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ছেলের গ্রেফতার আতঙ্কে ঘুম হারাম ‘সিজেপি’ প্রতিষ্ঠাতার মা-বাবার

খবর প্রতিবেদন |
০১:৪৬ এ.এম | ২৩ মে ২০২৬


ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তোলা ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নিয়ে এবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের মা-বাবা। তাদের আশঙ্কা, রাজনীতি ও ব্যঙ্গাত্মক কর্মকান্ডের কারণে ছেলে আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন, এমনকি গ্রেফতারও হতে পারেন। মাত্র এক সপ্তাহ আগে গঠিত এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এরই মধ্যে ইনস্টাগ্রামে ১ কোটি ৯০ লাখের বেশি অনুসারী পেয়েছে। বোস্টন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী অভিজিৎ দিপক আগে ভারতের আম আদমি পার্টির (এএপি) সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে বসবাসকারী তার বাবা ভগবান দিপক ও মা অনিতা দিপক বৃহস্পতিবার (২১ মে) একটি মারাঠি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তারা কখনোই চাননি তাদের ছেলে রাজনীতিতে জড়াক। ছেলের সাম্প্রতিক কর্মকান্ড জানার পর থেকে তারা দুশ্চিন্তায় ঘুমাতে পারছেন না বলেও জানান।
কীভাবে জন্ম ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র? : অভিজিৎ দিপকের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতের প্রধান বিচারপতি (সিজেআই) সূর্য কান্ত এক আইনজীবীকে তিরস্কার করার সময় ‘পরজীবী’ ও ‘তেলাপোকা’ শব্দ ব্যবহার করেছিলেন-সেই বিতর্ক থেকেই ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র জন্ম।
যদিও পরে প্রধান বিচারপতি ব্যাখ্যা দেন যে, তাকে ভুলভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে ও তার মন্তব্য মূলত ভুয়া ডিগ্রি নিয়ে আইন পেশায় আসা ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে ছিল। তবুও তেলাপোকাকে প্রতীক বানিয়ে তৈরি হওয়া এই ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
‘ছেলেকে গ্রেফতার করা হতে পারে’ : অভিজিৎ দিপকের বাবা ভগবান দিপক বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভয় পাওয়াটা স্বাভাবিক। তার ভাষায়, এখনকার রাজনীতি দেখলে ভয় লাগেই। অনুসারী যতই থাকুক, ভয় তো থাকবেই। এক সাক্ষাৎকারে সে নিজেও বলেছে, ভারতে ফিরলে তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে। আমরা তো পত্রিকায় এমন ঘটনা পড়ি।
তিনি আরও বলেন, আমি খুব দুশ্চিন্তায় আছি। সে এখন বিখ্যাত হয়ে গেছে। আর বিখ্যাত মানুষদের গ্রেফতার করা হয়। গত দুই রাত আমি ঘুমাতে পারিনি। রাজনীতি আমি ঘৃণা করি, এতে আমার কোনো আগ্রহ নেই।
‘রাজনীতি না করে চাকরি করুক’ : অভিজিতের মা অনিতা দিপক বলেন, তিনি চান তার ছেলে রাজনীতি থেকে দূরে থাকুক ও চাকরিতে মনোযোগ দিক। তিনি বলেন, আমরা শুধু চাই সে নিরাপদে বাড়ি ফিরুক। এরপর রাজনীতি করবে কি না, সেটা তার সিদ্ধান্ত। কিন্তু আমরা চাই না সে এই পথে এগোক। সে আমাদের কথা শুনবে কি না জানি না। আমি এতে তাকে সমর্থন করব না। আমি তাকে নিয়ে খুব চিন্তিত।
মা আরও জানান, অভিজিৎ প্রথমে ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে পড়াশোনা করেন, পরে উচ্চশিক্ষার জন্য পুনেতে যান। তিনি বলেন, ইঞ্জিনিয়ারিং তার জন্য কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। তাই পরে সে গণমাধ্যমের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
অভিজিতের বাবা জানান, তার মেয়ে আগে থেকেই বিদেশে ছিলেন। সেই কারণেই ছেলে সাংবাদিকতা পড়তে বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি বলেন, আমি চেয়েছিলাম সে পুনে বা দিল্লিতে একটা চাকরি করুক।
অভিজিতের মা বলেন, তারা প্রথম ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র কথা জানতে পারেন এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে। তার ভাষায়, পরে আমার এক নাতি আমাকে বলে, দেশের অনেক বড় ব্যক্তির চেয়েও তার সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি ফলোয়ার হয়েছে। এর আগেও অভিজিৎ আম আদমি পার্টির সঙ্গে কাজ করেছে। তখনো আমি তাকে বলেছিলাম, আমরা রাজনীতির মানুষ নই, ওর চাকরি করা উচিত।
ব্যঙ্গ, মিম ও তরুণদের ক্ষোভ : মিম, ব্যঙ্গ ও রাজনৈতিক কটাক্ষ ব্যবহার করে খুব দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’। তাদের বেশির ভাগ কনটেন্টে উঠে আসছে তরুণদের বেকারত্ব, প্রশ্নফাঁস, শিক্ষা সংকটসহ বিভিন্ন ইস্যু। গ্রাফিক্স, অ্যানিমেশন, ইশতেহার ও চার্টারধর্মী দাবির মাধ্যমে এসব বিষয় উপস্থাপন করা হচ্ছে।
ভারতে বন্ধ করা হয়েছে ‘সিজেপি’র এক্স এ্যাকাউন্ট : বৃহস্পতিবার (২২ মে ২০২৬) ভারতে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র এক্স (সাবেক টুইটার) এ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন একটি এ্যাকাউন্ট চালু হয়-‘ক্রকরোচ ইজ ব্যাক’। এর স্লোগান ছিল, ‘তেলাপোকা কখনো মরে না’।
নতুন এই এ্যাকাউন্ট দ্রুত অনুসারী বাড়াতে থাকে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত পর্যন্ত সেখানে ৯১ হাজারের বেশি অনুসারী যোগ হয়। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে, অর্থাৎ চালুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ্যাকাউন্টটিতে ৩৯ হাজারের বেশি অনুসারী হয়েছিল।
নতুন এ্যাকাউন্ট থেকেও ২০২৬ সালের নিট ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা হয়। 
সূত্র: দ্য হিন্দু।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ