খুলনা | রবিবার | ২৪ মে ২০২৬ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শিশুদের ওপর বর্বরতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে: ইউনিসেফ

খবর প্রতিবেদন |
০৪:৪৩ পি.এম | ২৩ মে ২০২৬

 

সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে নারী ও শিশুদের ওপর নৃশংস যৌন সহিংসতার ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত ও স্তম্ভিত বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ। শিশুদের ওপর বর্বরতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে বলে দাবি জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (২২ মে) বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্সের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে এই কথা বলা হয়।

এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে শিশুদের ওপর সাম্প্রতিক নৃশংস সহিংসতার ঘটনায় ইউনিসেফ গভীরভাবে মর্মাহত ও স্তম্ভিত। নিরাপদ পরিবেশে ছেলে ও মেয়েদের ধর্ষণ এবং হত্যার মতো ঘটনাও এর অন্তর্ভুক্ত। ইউনিসেফ ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছে।

২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে নৃশংস ও যৌন সহিংসতার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায়, দেশব্যাপী শিশু ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণের জরুরি প্রয়োজন স্পষ্ট হয়েছে।

অপরাধীদের দায়মুক্তির সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে হবে এবং প্রতিরোধ, অভিযোগ দায়ের, প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা, শিশুবান্ধব পুলিশ ও বিচারব্যবস্থা, সামাজিক সুরক্ষা, সমাজসেবার ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঘাটতিগুলো পূরণ করতে হবে। এ ছাড়া নারী ও শিশুদের জন্য মনস্তাত্ত্বিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে। স্কুল, মাদ্রাসা, কর্মক্ষেত্র, পাড়া-মহল্লা ও পরিচর্যা কেন্দ্রগুলোতে আরও কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

ইউনিসেফ বাংলাদেশ আরও বলেছে, সম্প্রদায় নীরব থাকলে সহিংসতা ছড়ায়। ইউনিসেফ শিশু, নারী, পরিবার এবং সম্প্রদায়ের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, তারা যেন উপলব্ধ সুরক্ষা পরিষেবাগুলোর মাধ্যমে সহিংসতা, নির্যাতন বা শোষণের বিষয়ে জানান। এর মধ্যে রয়েছে চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮। পরিষেবাটি সাহায্যপ্রার্থী শিশুদের জন্য রেফারেল সহায়তা দিয়ে থাকে।

নির্যাতনকারীর হাতে নির্যাতিত শিশু ও নারীদের মর্যাদা রক্ষার অধিকার রয়েছে। ছবি, ভিডিও বা পরিচয় প্রকাশ করা তাদের প্রত্যেকের ওপর আরও এক ধরনের নির্যাতন। যারা এগুলো শেয়ার ও পুনঃশেয়ার করে, তারা ভুক্তভোগীদের মানসিক যন্ত্রণা, তাদের পরিবারের মানসিক যন্ত্রণা এবং নির্যাতিতার প্রতি অসম্মানকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

ইউনিসেফ জনসাধারণ, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি আবেদন জানায়, তারা যেন ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকারকে সম্মান করেন। এ ধরনের কোনো কিছু শেয়ার করা থেকে বিরত থাকেন। এর পরিবর্তে, সুরক্ষা ব্যবস্থা ও অপরাধীদের বিচারহীনতার অবসানের দাবিতে সোচ্চার হোন।

সমাজ, বিদ্যালয়, বাড়ি, এমনকি জনপরিসরে প্রতিটি শিশুর গল্প ও ছবির উপস্থাপনার ক্ষেত্রেও তাদের সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে বলে বিবৃতে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ