খুলনা | রবিবার | ২৪ মে ২০২৬ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

খবর প্রতিবেদন |
০৫:০৪ পি.এম | ২৩ মে ২০২৬

 

দেশে যারা অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে চায় তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ শনিবার (২৩ মে) দুপুরে ময়মনসিংহের ত্রিশালে খাল পুনঃখননের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্যকালে এই আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আইনের শাসন নিশ্চিত করতে চাই। কিন্তু যেকোনো কাজ করতে গেলে কিছু নিয়ম-কানুন আছে। যেকোনো অন্যায়কারীর বিচার করতে হলে, তাকে শাস্তি দিতে হলে সরকারের কিছু নিয়ম-কানুন আছে।

তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে কিছু সংখ্যক মানুষ একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে চাচ্ছে, রাস্তা-ঘাট বন্ধ করে দিচ্ছে, যান চলাচল বন্ধ করে দিচ্ছে, এই কাজগুলো যারা করে প্রথমেই তারা আইনের শাসনকে বাধাগ্রস্ত করছে। আইনকে আইনের মতো চলতে দিতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকার যখন ক্ষমতায় ছিল সেই সময়েও দেশে কয়েকটি অন্যায় ঘটেছে, সেই সময় আমি নিজে ভুক্তভোগীদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। আমাদের দলের চিকিৎসকরা গিয়ে চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছিল, আইনজীবীরা আইনি সহায়তা দিয়েছিল। কিন্তু আজকে যারা হৈচৈ করছে, রাস্তা অবরোধ করছে, বড় বড় কথা বলছে সেদিন কিন্তু তাদের আমরা মাঠে দেখিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যারা একটি ঘোলাটে পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে চাচ্ছে, তারা দেশের মানুষের কর্মসংস্থান নিয়ে কথা বলে না। কৃষকের খাল খনন কর্মসূচি-কৃষক কার্ড নিয়ে কথা বলে না। তারা যদি অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে তাহলে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, কৃষক কার্ড বিতরণসহ সব ক্ষেত্রে জনগণ, বিশেষ করে গ্রামে বসবাসকারী মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তারেক রহমান বলেন, পত্র-পত্রিকা, সোশ্যাল মিডিয়ায় খোঁজ নিয়ে দেখেন- ৫ আগস্টে দেশের মানুষ যাদের এই দেশ থেকে বিতাড়িত করেছিল, এখন যারা অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের সঙ্গে এরা তলে তলে খাতির শুরু করেছে। যেভাবে ’৮৬-’৯৬ সালে আঁতাত করেছিল। দেশের জনগণ রাজপথে নেমে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। যে স্বৈরাচার মানুষের ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার, খেটে খাওয়া মানুষের সব ধরনের উন্নয়ন বন্ধ করে দিয়েছিল। সেই স্বৈরাচারকে ছাত্র-জনতা এক হয়ে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। এখন দেশের মানুষ তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন চায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা জনগণের সাথে থাকবে, জনগণের পাশে থাকবে, জনগণের জন্য কাজ করবে- বাংলাদেশের জনগণ তাদেরকেই সাথে নিয়ে এই দেশকে রক্ষা করবে যেকোনো ষড়যন্ত্রের হাত থেকে।

তিনি বলেন, এই দেশ আমাদেরকেই গড়ে তুলতে হবে, জনগণকে সাথে নিয়ে করতে হবে। নিজের ক্ষেত-খামার, নিজের ঘরবাড়ি যেভাবে নিজে গড়ে তুলেছেন- দেশটাও আমাদের সকলের নিজের। এখানে আমরা যত মানুষ উপস্থিত আছি প্রত্যেকেই হচ্ছে এই দেশের অংশীদার, প্রত্যেকেই হচ্ছে এই দেশের মালিক। কাজেই আমার ঘর আমাকেই দেখতে হবে, আমাদের দেশ আমাদেরকেই দেখতে হবে। আমাদের দেশের স্বাধীনতা, আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব, আমাদের দেশের মানুষের স্বার্থ আমরাই দেখবো এবং যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করব আমরা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হলে ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে সক্রিয় করে তুলতে হবে, কাজে ব্যবহার করতে হবে। দক্ষ শ্রমিকের হাত তৈরি করতে হবে। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত দিয়ে নতুন ব্রিজ-কালভার্ট, স্কুল-কলেজ-হাসপাতাল তৈরি করতে হবে। তাহলেই আমরা এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারব।

তিনি বলেন, বিএনপি সরকার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চায়। আজকে সময় এসেছে একদিকে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের কাজগুলো সফল করা, অন্যদিকে যারা ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত করতে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তাদের ব্যাপারে সজাগ থাকার। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে ময়মনসিংহের ত্রিশালের ধরার খাল খনন করেছিলেন। বাবার খনন করা খালটি ৪৭ বছর পর পুনঃখননের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুপুর ২টা ২১ মিনিটে এসে পৌঁছান। গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে খালপাড়ে এসে পথমেই খাল কাটার উদ্বোধন করেন।

এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রাশেদুজ্জামান মিল্লাত, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ, স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান, সদর আসনের এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, মুক্তাগাছা আসনের এমপি মোহাম্মদ জাকির হোসেন, গফরগাঁও আসনের এমপি মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান প্রমুখ।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ