খুলনা | রবিবার | ২৪ মে ২০২৬ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কোরবানি নিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহর ৫ মাসয়ালা

খবর প্রতিবেদন |
০৬:০৬ পি.এম | ২৩ মে ২০২৬


কোরবানি অর্থ নৈকট্য ও সান্নিধ্য। জিলহজের ১০ তারিখ বা ঈদুল আজহার দিন আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে শরিয়ত পদ্ধতিতে যে পশু জবাই করা হয়, তাই কোরবানি। ঈদের পুরো দিন ও পরের দুই দিন কোরবানি করা যায়।

কোরবানি করতে হয় একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। শুধু পশু জবাই করা বা গোশত খাওয়ার জন্য কোরবানি করা যাবে না। আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য কোনো নিয়তে কোরবানি করলে তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের কোরবানির পশুর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না। আল্লাহর কাছে পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া বা আল্লাহভীতি।’ (সুরা হজ, আয়াত: ৩৭)

সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য কোরবানি করা ওয়াজিব। স্বাভাবিক জ্ঞানসম্পন্ন, প্রাপ্তবয়সস্ক মুসলিম যদি কোরবানি ঈদের তিন দিন (১০ জিলহজ সকাল থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগপর্যন্ত) জাকাত পরিমাণ সম্পদের মালিক (সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ ভরি রুপা অথবা এর যে কোনো একটির মূল্যের সমপরিমাণ নগদ অর্থ ব্যবসার পণ্যের মালিক) থাকেন বা হন, তার জন্য কোরবানি ওয়াজিব।

কোরবানি যেহেতু ওয়াজিব ইবাদত, এটি পালনে আছে সুস্পষ্ট মাসয়ালা ও নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন। তাই কোরবানির মাসয়ালাগুলো জেনে নেওয়া প্রয়োজন। কেননা, ভুলভ্রান্তির কারণে কখনও কোরবানির সওয়াব থেকে বঞ্চিত হতে হয়। কোনো কোনো ভুলে আবার কোরবানিই হয় না। আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ইউটিউবে কোরবানির গুরুত্বপূর্ণ মাসয়ালা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এখানে পাঁচটি মাসয়ালা তুরে ধরা হলো—

কোরবানির গোশত দিয়ে বিয়ে বা অলিমার আয়োজন করা
অনেকেই আছেন, কোরবানি ঈদের পর পর বিয়ের অনুষ্ঠান রাখেন। তাদের উদ্দেশ্য থাকে, কোরবানির গোশত দিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা। বিয়ের অনুষ্ঠানে খাওয়ানোর নিয়ত বা ইচ্ছায় যদি কোরবানি করা হয়, তাহলে কোরবানি হবে না। এর মাধ্যমে কোরবানির সওয়াব পাওয়া যাবে না। কারণ, সেখানে আল্লাহর সন্তুষ্টি মূল্য লক্ষ্য থাকে না। লক্ষ্য থাকে কোরবানি করে গোশত আহরণ করা। কোরবানি একটা মাধ্যম মাত্র।

আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে কোরবানি করার পর ওই গোশত দিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান করা যাবে। বিয়েতে খাওয়ানো যাবে।

মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোরবানি
মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোরবানি করা যাবে। জীবিতরা মৃতের পক্ষ থেকে কোরবানি করতে পারবেন। মৃত ব্যক্তি যদি মৃত্যুর আগে তার পক্ষ থেকে কোরবানি করার জন্য ওসিয়ত করে যান, তাহলে তার ওসিয়ত পূরণ করা ওয়াজিব। তার সম্পত্তির তিন ভাগের এক ভাগ দিয়ে যদি কোরবানি করা সম্ভব হয়, তাহলে কোরবানি করতে হবে। ওই কোরবানির গোশত গরিব-দুঃখীদের মধ্যে দান বা সদকা করে দিতে হবে। নিজেরা খেতে পারবেন না।

ওসিয়ত ছাড়া এমনিই মৃতের পক্ষ থেকে কোরবানি করা হলে গোশত নিজে খাওয়া যাবে। দান করা যাবে। আত্মীয়-স্বজনকে দেওয়া যাবে।

কোরবানির গোশত কত দিন ফ্রিজে রেখে খাওয়া যাবে
কোরবানির গোশত ফ্রিজে রেখে খাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ বা নির্ধারিত সময়সীমা নেই। যত দিন ইচ্ছা রাখা যাবে। যত দিন খাওয়ার উপযুক্ত থাকে, তত দিন খাওয়া যাবে।

কোরবানি করা হয় মূলত আল্লাহর জন্য। এটা কেনা গোশতের মতো নয়। যেটুকু পাওয়া যায়, তাতেই খুশি হতে হবে। কোরবানির গোশত বেশির ভাগই দান করে দেওয়া উচিত। তিন ভাগের এক ভাগ নিজের জন্য রেখে বাকি দুই ভাগ আত্মীয়স্বজন ও গরিবদের দিয়ে দেওয়া মুস্তাহাব। বেশি রাখলেও অসুবিধে নেই।

ঋণ করে কোরবানি দেওয়ার বিধান
ইসলামি বিধান মতে, যে কোনো আর্থিক ইবাদত ঋণ করে করা যায়। হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর সাহাবিরা ঋণ করে দান করেছেন।

ঋণ করে কোরবানি দেওয়া যাবে। তবে ঋণ পরিশোধের প্রবল ইচ্ছা ব্যক্তির মধ্যে থাকতে হবে। ইবাদতের মানসিকতা থেকে ঋণ করা খুবই ভালো কাজ। লোক দেখানো বা চক্ষু লজ্জা থেকে বাঁচার জন্য ঋণ করে কোরবানি করা যাবে না।

কোন কোন পশু দিয়ে কোরবানি করা যাবে
উটের বয়স পাঁচ বছর হলে কোরবানি করা যাবে। গরু ও মহিষ দিয়ে করা যাবে, এ ক্ষেত্রে দুই বছর হতে হবে। ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা দিয়ে কোরবানি করা যাবে, যদি এগুলোর বয়স এক বছর হয়। অন্যান্য বন্য জন্তু বা হাস-মুরগির মতো হালাল প্রাণী দিয়ে কোরবানি করা যাবে না।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ