খুলনা | রবিবার | ২৪ মে ২০২৬ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

খুলনা আইনজীবী সমিতিতে ঢুকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিলো আ’লীগ নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০১:৪৭ এ.এম | ২৪ মে ২০২৬


খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির হলরুমে ঢুকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ৫নং তেরখাদা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোল্লা অহিদুজ্জামান ফরিদের বিরুদ্ধে। আদালতের ভেতরে এমন প্রকাশ্য হুমকির ঘটনায় আইনজীবী ও আদালত প্রাঙ্গণে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। অপর দিকে এ ঘটনায় নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে খুলনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন আড়ংঘাটা এলাকার বাসিন্দা মোঃ রবিউল ইসলাম মঞ্জু।
জিডি সূত্রে জানা গেছে, মোঃ রবিউল ইসলাম মঞ্জু সংশ্লিষ্ট একটি মামলায় আদালত থেকে অন্তর্বতীকালীন জামিনে রয়েছেন। আদালতের নির্দেশানুযায়ী, গত ১৪ মে, বৃহস্পতিবার বিকেল আনুমানিক ২টা ৩৫ মিনিটে খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির ১ নম্বর হলরুমে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে একটি আপস-মিমাংসা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠক চলাকালীন এক পর্যায়ে বাদী মোসাঃ নাজমা সুলতানা, তার স্বামী ৫নং তেরখাদা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোল্লা অহিদুজ্জামান ফরিদ এবং তাদের পুত্র এম এম নাহিদুজ্জামান মুন্না ও মোঃ লাবিব হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩০-৩৫ জন ব্যক্তি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তারা বাদীপক্ষের আইনজীবীর উপস্থিতিতেই আসামিপক্ষের সিনিয়র আইনজীবী এড. আব্দুল মালেকের ওপর চড়াও হন। 
জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, উত্তেজিত বাদীপক্ষ একযোগে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। একপর্যায়ে মোঃ রবিউল ইসলাম মঞ্জুকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেন মোল্লা অহিদুজ্জামান ফরিদ। এরপর তারা অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে হলরুম ত্যাগ করে। এই ঘটনার পর আসামিপক্ষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ সময় উপস্থিত সিনিয়র আইনজীবী এড. মোমিনুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন আইনজীবী এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান।
অনাকাক্সিক্ষত এই ঘটনার পরপরই উভয় পক্ষের আইনজীবীরা মিমাংসার প্রক্রিয়া স্থগিত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে নিরাপত্তাজনিত কারণে রবিউল ইসলাম মঞ্জু খুলনা সদর থানায় এই ঘটনা উল্লেখ করে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন (নং-১১১১, তারিখ: ১৪/০৫/২০২৬)।এই বিষয়ে আইনজীবী এড. মোমিনুল হক বলেন, এর আগে কখনোই আইনজীবী সমিতির বারের ভেতরে ঢুকে কেউ এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর সাহস পায়নি। বিএনপির এই শাসনআমলে আওয়ামী লীগের একজন নেতা কীভাবে কোর্টের ভেতর ঢুকে প্রকাশ্যে এমন হুমকি দেওয়ার সাহস পান, তা আমার বোধগম্য নয়। 
তিনি আরও বলেন, ওই সময় পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, আমার মনে হচ্ছিল আমি এবং আমার সহকর্মীদের এই লোক ও তার দলবল তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করবে। ওটা সত্যিই একটি থমথমে ও কঠিন পরিস্থিতি ছিল। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে আমি ইতোমধ্যেই আইনজীবী সমিতিতে লিখিত দরখাস্ত জমা দিয়েছি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ