খুলনা | মঙ্গলবার | ২৬ মে ২০২৬ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

জাল সনদে চাকরি : স্কুল-কলেজের ৮৫ শিক্ষকের এমপিও বাতিল ও মামলার নির্দেশ

খবর প্রতিবেদন |
০২:৩৬ এ.এম | ২৫ মে ২০২৬


বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) যাচাইয়ে সনদ জাল প্রমাণিত হওয়ায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোট ৮৫ জন শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও বাতিলসহ তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের কঠোর নির্দেশ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে তাদের নেওয়া সমস্ত সরকারি অনুদান ও বেতন-ভাতা বাবদ সহায়তার অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত আদায়ের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। রোববার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) বেসরকারি কলেজ শাখা-৩ থেকে প্রকাশিত কয়েকটি দাপ্তরিক চিঠিতে এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপের কথা জানানো হয়।
মাউশির সহকারী পরিচালক মোঃ মাঈন উদ্দিন সই এই চিঠিতে জানানো হয়, অভিযুক্ত ৮৫ জনের মধ্যে কলেজ পর্যায়ের ২৪ জন এবং স্কুল পর্যায়ের ৬১ জন শিক্ষক রয়েছেন।
মাউশি প্রকাশিত তালিকায় সাতক্ষীরার ঝাউডাঙ্গা কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক মোঃ মাহমুদ হোসেন, রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার লস্করপুর ডিগ্রী মহাবিদ্যানিকেতনের বাংলার প্রভাষক চন্দনা রানী সরকার, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার মাঝিপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞানের প্রভাষক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান এবং ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ উপজেলার সরকারি মাহতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের ইতিহাসের প্রভাষক ফাতেমা খাতুনসহ মোট ২৪ জন কলেজ পর্যায়ের শিক্ষকের নাম ও তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
মাউশির প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ এর ১৮.১(ঙ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষকদের এমপিও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, তাদের নিয়োগ প্রদানকারী গভর্নিংবডি বা ম্যানেজিং কমিটিকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নিয়োগ বাতিল করতে বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে নীতিমালার নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষক হিসেবে বহাল থাকাকালীন সময়ে তারা সরকার থেকে যে পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করেছেন, তা দ্রুত সরকারি কোষাগারে ফেরত আনা এবং তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দ্রুত ফৌজদারি মামলা দায়েরের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এছাড়া, জাতীয়করণ হওয়া প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও বিধি মোতাবেক একই রকম আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ