খুলনা | মঙ্গলবার | ২৬ মে ২০২৬ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সাতক্ষীরা জজ কোর্টের পিপি আব্দুল লতিফের কারাবন্দি অবস্থায় মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০২:৩৬ পি.এম | ২৫ মে ২০২৬

 

সাতক্ষীরা জেলা জজকোর্টের সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ মারা গেছেন। একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে সাতক্ষীরা জেলা কারাগারে থাকা অবস্থায় বুকে ব্যথা নিয়ে সোমবার (২৫ মে) ভোর রাত ৩টা ৫ মিনিটে সদর হাসপাতালে ভর্তির পর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর ৪ টা ১০ মিনিটে তিনি মারা যান।

অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ (৬৭) সাতক্ষীরার সদর উপজেলার কামারবাইশা গ্রামের মো. মুনসুর আলী সরদারের ছেলে। তিনি সাতক্ষীরা শহরের রসুলপুর এলাকার পুলিশ লাইনের পাশে নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বুকে ব্যথা নিয়ে অ্যাডঃ আব্দুল লতিফ সোমবার ভোর রাত ৩ টা ৫ মিনিটের সময় সদর হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর রাত ৪টা ১০ মিনিটে তিনি মারা যান।

সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার ত্রিদেব দেবনাথ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাঃ মাসুদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সাতক্ষীরা জেলা কারাগারের জেলার মনির হোসেন আব্দুল লতিফের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। কারাগারে আব্দুল লতিফের মৃত্যুর বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে পরবর্তী আইনি ও চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর খুলনার বয়রা এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে আব্দুল লতিফ ও তার ছেলে রাসেলকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আব্দুল লতিফ জেলা জজ আদালতের পিপি নিযুক্ত হন। গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সাবেক এই পিপির বিরুদ্ধে আটটি হত্যা ও নাশকতা মামলা এবং তার ছেলে রাসেলের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করা হয়। মামলার পর থেকেই তারা গ্রেপ্তার এড়াতে খুলনায় আত্মগোপনে ছিলেন।

পারিবারিকভাবে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামারবায়সা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল লতিফ দীর্ঘদিন ধরে শহরের রসুলপুর এলাকায় বসবাস করতেন। সেখানে তার একটি পাঁচতলা ভবন রয়েছে। অর্থ সংকটের কারণে তিনি ওই ভবনটি ফ্লাট আকারে বিক্রি করা শুরু করেন। আইনগত জটিলতা এড়াতে উকিল কমিশনের মাধ্যমে ভবনের কয়েকটি ফ্ল্যাট বিক্রি করেন।

অবশিষ্ট ফ্ল্যাটগুলো রেজিস্ট্রি করার জন্য তিনি সাতক্ষীরায় আসতে পারছিলেন না। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর সকালে সাব-রেজিস্ট্রার ও দলিল লেখক খুলনার বয়রায় পৌঁছালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাতক্ষীরা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানকালে অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ ও তার ছেলে রাসেলকে গ্রেপ্তার করে সাতক্ষীরা ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়।

গ্রেপ্তারের পর সাতক্ষীরা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক মো. নিজামউদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, সুনির্দিষ্ট মামলার ভিত্তিতে সাবেক পিপি ও তার ছেলেকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ