খুলনা | মঙ্গলবার | ২৬ মে ২০২৬ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

১৮০০ টাকা বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল ৯ যুবকের

খবর প্রতিবেদন |
০৩:৫৩ পি.এম | ২৫ মে ২০২৬


ঈদ উদযাপনের আনন্দ মুহূর্তেই রূপ নিলো বিষাদে। বাসের অতিরিক্ত ১৮০০ টাকা ভাড়া বাঁচাতে গিয়ে ট্রাকে বাড়ি ফিরছিলেন একদল শ্রমজীবী মানুষ। কিন্তু পথিমধ্যে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল ১৫টি তাজা প্রাণ, যার মধ্যে ৯ জনই নওগাঁর মান্দা উপজেলার বাসিন্দা।

সোমবার (২৫ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে টাঙ্গাইলের যমুনা সেতুর পূর্ব পাড়ে রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে গিয়ে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। এই মৃত্যুর খবরে পুরো মান্দা উপজেলা জুড়ে নেমে এসেছে স্তব্ধতা ও শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে গ্রামের পরিবেশ।

হাইওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা একটি রডবোঝাই ট্রাক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক হয়ে উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। ট্রাকটি যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তে পৌঁছালে চালক হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এতে রডবোঝাই ভারী ট্রাকটি মহাসড়কের ওপর উল্টে যায়। ট্রাকের ওপরে থাকা যাত্রীরা ভারী রডের নিচে চাপা পড়েন। ঘটনাস্থলে এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোট ১৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহতরা হলেন- রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের বাসিন্দা হলেন মো. সুলতানের ছেলে মোহাম্মদ তারেক, মো. আব্দুর রশিদের ছেলে মো. আব্দুল বারেক, মো. আব্দুর রহিমের ছেলে মোহাম্মদ বাদশা, একাব্বরের ছেলে মো. সোহাগ, মো. শহিদুলের ছেলে মোহাম্মদ রবিউল এবং মোহাম্মদ সাকিমের ছেলে মোহাম্মদ সাগর। এছাড়া মুর্শিদপুর গ্রামের মৃত জাফর আলীর ছেলে মোহাম্মদ মইনুর ইসলাম এবং পাকুড়িয়া গ্রামের আব্দুর রশিদের দুই ছেলে মোহাম্মদ মাইনুল ও মোহাম্মদ গিয়াসও এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।

নিহত তারেকের বাবা সুলতান হোসেন জানান, এই যুবকেরা নোয়াখালী ও ফেনী অঞ্চলে ফেরি করে ভাঙা মোবাইল, প্লাস্টিকের খেলনা বিক্রি এবং ফেলে দেওয়া চুল সংগ্রহের কাজ করতেন। ঈদ উপলক্ষে সবাই একসঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘বাসওয়ালারা জনপ্রতি ১৮০০ টাকা করে বেশি ভাড়া চাচ্ছিল। সেই অতিরিক্ত টাকাটা বাঁচানোর জন্যই ওরা ফেনী থেকে রডবাহী ট্রাকে উঠেছিল। কিন্তু সামান্য কয়েকটা টাকার জন্য যে ওদের জীবনটাই চলে যাবে, তা কে জানতো!’

একই ইউনিয়নের ৯ জন উপার্জনক্ষম যুবকের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারগুলো সম্পূর্ণ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। সন্তান ও স্বজনদের হারিয়ে মা-বাবা ও আত্মীয়দের কান্নায় ওই অঞ্চলের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসীর সহায়তায় নিহতদের মরদেহ নিজ নিজ গ্রামে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ