খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৮ মে ২০২৬ | ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

খুলনায় প্রধান জামাত সকাল ৭টায় সার্কিট হাউজ ময়দানে

পবিত্র ঈদ-উল আযহা বৃহস্পতিবার

খবর প্রতিবেদন |
০১:৩১ এ.এম | ২৬ মে ২০২৬


মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহা বৃহস্পতিবার। যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সারাদেশে ঈদুল আযহা উদ্যাপন করবেন মুসলিম স¤প্রদায়। মহান আল্লাহর অপার অনুগ্রহ লাভের আশায় ঈদের জামাত শেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সামর্থ অনুয়ায়ী পশু কোরবানি করবেন।  
নামাজ শেষে মুসল্লিদের অনেকেই যাবেন কবরস্থানে। চির বিদায় নেয়া স্বজনদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে অশ্র“সজল চোখে এই আনন্দের দিনে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে আল্লাহর দরবারে আকুতি জানাবেন।
ঈদুল আযহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলমানদের আন্তরিক অভিনন্দন ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন। অপর দিকে নগরবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু ।
এদিকে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে পৃথকভাবে দেশবাসীসহ সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ।
পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে দীর্ঘ ছুটির কবলে পড়েছে দেশ। সোমবার থেকে শুরু হয়েছে ছুটি, চলবে ৩১ মে পর্যন্ত। যথারীতি ১ জুন রোববার সরকারি-আধা-সরকারিসহ বিভিন্ন দপ্তরে কর্মকান্ড শুরু হবে। তাছাড়া সংবাদপত্রেও ছুটি শুরু হচ্ছে আজ, চলবে আগামী শনিবার পর্যš রোববার থেকে যথারীতি কাজ শুরু হবে। এ ছুটি ঘোষণা করেছে নিউজ পেপার ওনার্স এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)।
উল্লেখ্য, প্রায় চার হাজার বছর আগে আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি লাভের জন্য হযরত ইব্রাহিম (আঃ) নিজ পুত্র হযরত ইসমাইল (আঃ)’ কে কোরবানি করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু পরম করুণাময়ের অপার কুদরতে হযরত ইসমাইল (আঃ)-এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়। হজরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর ত্যাগের মহিমার কথা স্মরণ করে বিশ্বব্যাপী মুসলিম স¤প্রদায় জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আল্লাহ পাকের অনুগ্রহ লাভের আশায় পশু কোরবানি করে থাকে।
আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান মুসলিমের জন্য আল্লাহ কোরবানি ফরজ করে দিয়েছেন। এ জন্য ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কোরবানি করাই এ দিনের উত্তম ইবাদত। সেই ত্যাগ ও আনুগত্যের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সারাদেশের মুসলিম স¤প্রদায় রোববার দিনের শুরুতেই মসজিদে সমবেত হবেন এবং ঈদুল আযহার দু’রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করবেন। নামাজের খুতবায় খতিব তুলে ধরবেন কোরবানির তাৎপর্য। 
জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আযহা উদ্যাপিত হলেও পরের দুই দিনও পশু কোরবানি করার বিধান রয়েছে। সামর্থবান মুসলমানদের জন্য কোরবানি ফরজ হলেও ঈদের আনন্দ থেকে দরিদ্র দুস্থরাও বঞ্চিত হবেন না। কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রির সমুদয় অর্থ এবং কোরবানি দেয়া পশুর মাংসের তিন ভাগের এক ভাগ তাদের মধ্যে বন্টন করে দেয়া হবে।
মুসলিম স¤প্রদায়ের ধর্মীয় এই উৎসব উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দও দেশবাসীকে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। 
খুলনা : খুলনায় পবিত্র ঈদ-উল-আযহা ভাবগাম্ভীর্যের সাথে উদ্যাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদ-উল-আযহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টায় খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে সকাল ৭টায় প্রথম জামাত, ৮টায় দ্বিতীয় এবং ৯টায় তৃতীয় জামাত খুলনা টাউন জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া সকাল সাড়ে সাতটায় খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন মডেল মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। মহিলাদের জন্য পর্দা সহকারে খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে ঈদের জামাতের আয়োজন করা হবে। 
খুলনা সিটি কর্পোরেশন :  নগরীর বায়তুন নূর জামে মসজিদ কমপ্লেক্স-এ পবিত্র ঈদ-উল-আযহার দু’টি জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৭টায় এবং দ্বিতীয় জামায়াত সকাল সাড়ে ৮টায়। প্রথম জামায়াতে ইমামতি করবেন মসজিদের খতিব মুফতি ইমরান উল্লাহ এবং দ্বিতীয় জামায়াতে ইমামতি করবেন মসজিদের ইমাম হাফেজ জাকির  হোসেন। কেসিসির ব্যবস্থাপনায় ও ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তত্ত¡াবধানে নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে পৃথক ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য মসজিদ ও ঈদগাহ সমূহে পরিচালনা কমিটি জামাতের সময় নির্ধারণ করবে। 
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় : কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদ-উল-আযহার নামাজের জামাত সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। ঈদের জামাত শেষে বৃহত্তর মুসলিম উম্মাহ, দেশ ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করা হবে। ঈদের জামাতে অংশ নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীসহ এলাকার মুসল্লিদের আহŸান জানানো হয়েছে।
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়:  পবিত্র ঈদ-উল-আযহার জামাত বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে। ঈদের জামাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দসহ স্থানীয় মুসল্লিগণ অংশগ্রহণ করবেন।
কর্মসূচি : ঈদের দিন সকল সরকারি, আধা-সরকারি,   বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ভবনে যথাযথভাবে সঠিক রঙ ও মাপের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা এবং সূর্যাস্তের পূর্বে নামানো হবে। নগরীর প্রধান প্রধান সড়কসমূহ ও গুরুত্বপূর্ণ চত্বর, সড়কদ্বীপ ও সার্কিট হাউস ময়দান জাতীয় পতাকা ও ঈদ মোবারক (বাংলা ও আরবি) খচিত ব্যানার দিয়ে সজ্জিত করা হবে। বিভিন্ন হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, ছোটমনি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, আশ্রয় কেন্দ্র, সেফ হোমস, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রে এ উপলক্ষে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে। ঈদ-উল-আযহার গুরুত্ব সম্পর্কে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সুবিধাজনক সময়ে সেমিনার ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। 
ঈদে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মহানগর ও মহানগরের বাইরের বিভিন্ন স্পটে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ঈদুল আযহার সময় আতশবাজি ও পটকা ফোটানো, রাস্তা বন্ধ করে স্টল তৈরি, উচ্চস্বরে মাইক/ ড্রাম বাজানো, রঙিন পানি ছিটানো এবং বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালানো যাবে না। ঈদের সময় রাতে নদীতে সকল প্রকার পণ্যবাহী/মালবাহী জাহাজ, বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধ রাখতে হবে। রাতের বেলায় স্পীডবোট চলাচল বন্ধ থাকবে। এছাড়া নৌপথে ২৭ মে থেকে ৬ জুন পর্যন্ত বালুবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে। সড়কে খোলা পিকআপ/ট্রাকে উচ্চ শব্দে মাইক বাজিয়ে কেউ যেন উচ্ছৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি না করতে পারে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নৌপথে ডাকাতি, চাঁদাবাজি, শ্রমিক, যাত্রীদের হয়রানি ও ভীতিমূলক প্রতিরোধে পুলিশি টহল জোরদার করা হবে। ইভটিজার ও বখাটের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঈদের ছুটিতে বসতবাড়ি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাংকের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে।
খুলনা মহানগর ও জেলায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে পশুর হাট স্থাপন করা যাবে না। অননুমোদিত পশুর হাট বন্ধ করাসহ এ আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া কোন লঞ্চ টার্মিনাল, মহাসড়ক, রাস্তার পাশে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এলাকায় গরুর হাট স্থাপন করা যাবে না। ঈদে দূর-দূরান্ত থেকে ট্রাকে পশু নিয়ে আসার সময় যাতে দুষ্কৃতকারী রাস্তায় ও হাটে চাঁদাবাজি করতে না পারে এবং নির্ধারিত হারের অতিরিক্ত টোল আদায়, ছিনতাই, পকেটমারের উপদ্রপরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ঈদের দিন পশু জবাই করে পর্যাপ্ত পানি ও ব্লিচিং পাউডার দিয়ে দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে এবং কোথাও জলাবদ্ধতা তৈরি করা যাবে না। পরিবেশ দূষণরোধে নির্দিষ্ট স্থানে সকল পশু জবাই করতে হবে। পশুর চামড়া নির্ধারিত মূল্যে ক্রয়-বিক্রয় করতে হবে। এতিমখানা, মাদ্রাসাসহ অন্যান্যরা যাতে পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য পায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কোরবানির পশুর চামড়া ভালোভাবে ছাড়ানো, রক্ষণাবেক্ষণ চামড়ার বাজারকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে সতর্ক থাকতে হবে।
ঈদ উপলক্ষে রাস্তায় যত্রতত্র গেট নির্মাণ, প্যানা বা ব্যানার টাঙালে রাস্তা সংকুচিত হয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে এবং শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হয়। এজন্য গেট নির্মাণ, প্যানা বা ব্যানার টাঙানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নিরুৎসাহিত করতে হবে। ঈদের সময় অজ্ঞান ও মলম পার্টি, ছিনতাইকারী ও পকেটমারদের তৎপরতা বন্ধে টার্মিনাল সংযোগ সড়ক, রেলস্টেশন, বাস ও নৌযান টার্মিনালসমূহে সাদা পোশাকধারী পুলিশ মোতায়েন থাকবে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। এছাড়া জাল টাকার বিস্তাররোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ঈদের ছুটিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান/বাজার/মার্কেট/অফিস/শপিংমলের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে সকল প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালনের জন্য নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করবে। সকল প্রকার যানবাহন বিশেষ করে বাস/মিনিবাসে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা যাবে না। দৌলতপুর খেয়াঘাট, জেলখানা ঘাট ও রূপসাঘাটসহ সকল লঞ্চ, খেয়া ও ফেরী ঘাটে অতিরিক্ত টোল/ভাড়া আদায় করা যাবে না এবং লঞ্চ/নৌকা/ট্রলারে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা যাবে না। এসকল ঘাটে ভিজিলেন্স টিম ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠানের সময় মুসল্লিদের গাড়ি পার্কিং এর জন্য খুলনা জেলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন আউটার স্টেডিয়াম সংরক্ষিত থাকবে। মুসল্লিদের অযুর জন্য পানির ব্যবস্থা রাখা হবে। বাস, লঞ্চ, স্টিমারে যাতে অতিরিক্ত যাত্রী উঠতে না পারে এবং বেপরোয়াভাবে যান চলাচল করতে না পারে তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা নিয়োজিত থাকবে। জেলার শান্তিশৃঙ্খলা বিঘেœর কোন সংবাদ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কন্ট্রোল রুমের মোবাইল নম্বর ০১৭৭৭৭১০৬৯৯-এ জানানো যাবে। 
ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার খুলনা কেন্দ্র বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার ও স্থানীয় সংবাদপত্রসমূহ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করবে। উপজেলা সমূহেও স্থানীয়ভাবে অনুরূপ কর্মসূচি পালিত হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ