খুলনা | বুধবার | ২৭ মে ২০২৬ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সন্ত্রাসীদের কোনো অভয়ারণ্য থাকতে দেওয়া হবে না, নির্মূল করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

খবর প্রতিবেদন |
০৩:১৯ পি.এম | ২৬ মে ২০২৬

 

সন্ত্রাসীদের কোনো অভয়ারণ্য থাকতে দেওয়া হবে না, নির্মূল করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরসহ অন্যান্য জায়গায় র‍্যাব ও পুলিশের ওপর যে হামলা হয়েছে, সেটা আমরা খুব গভীরভাবে দেখেছি। এ বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। সেটা খুব শিগগিরই দৃশ্যমান হবে।

মন্ত্রী বলেন, তারা খুবই উদ্ধত আচরণ করেছে, দুঃসাহস দেখিয়েছে, সেটা খুব কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করবো।

পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরের এনসিকম ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সম্প্রতি চট্টগ্রামে পুলিশ ও র‍্যাবের ওপর হামলার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জঙ্গল সলিমপুরসহ অন্যান্য জায়গায় র‍্যাব ও পুলিশের ওপর যে হামলা হয়েছে, সেটা আমরা খুব গভীরভাবে দেখেছি। এ বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। সেটা খুব শিগগিরই দৃশ্যমান হবে।

তিনি বলেন, এটা অনুমান করতে পারি, দীর্ঘ ১৭ বছর দেশে আইনের শাসন ছিল না। দুর্বৃত্তায়নের একটা মহামারি ছিল। জঙ্গল সলিমপুরকে আমরা রাষ্ট্রের ভেতরে রাষ্ট্র হতে দেখেছি। সেটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছে।

তিনি আরো বলেন, সেখানে যখন যৌথ অভিযান হয়েছে, অনেক অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে, দাগী আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। সেখানে পুলিশ একাডেমি, র‍্যাবের একাডেমি, ক্রীড়া কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থাপনার পরিকল্পনা আছে। চট্টগ্রাম জেলা কারাগার হওয়ার কথা আগে থেকেই। সেই জায়গায় সন্ত্রাসীরা তাদের পুরোনো অবস্থান ধরে রাখতে চাইছে। তবে তারা যে উদ্ধত আচরণ করেছে, দুঃসাহস দেখিয়েছে, সেটা খুব কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমি এখনই পুরো পরিকল্পনা প্রকাশ করতে চাই না। তবে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে। সন্ত্রাসীদের কোনো অভয়ারণ্য থাকতে দেওয়া হবে না। নির্মূল করা হবে। আশা করি সবাই সহযোগিতা করবেন। দেশে মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ— কারও জায়গা হবে না। এ বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছি।

সীমান্তে গোলাগুলির পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে কোনো সমস্যা হলে ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে আলোচনা করে সমাধান করা হয়। দুই-একটা ঘটনা নজরে এসেছে। বিজিবির মহাপরিচালক তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো দেখেছেন। কিছু জায়গায় পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। পরে ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে সমাধান হয়। তবে জাতীয়ভাবে উত্তেজনা তৈরির মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।

লোকনাথ ব্রহ্মচারীর তিরোধান উৎসব নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। সব ধর্মাবলম্বীর ধর্মচর্চার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

সাভারে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসার অভিযোগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনারা রিপোর্ট এবং তথ্যটা দেন, আমরা এখনই ব্যবস্থা নেব। তথ্যটা দেন, আমরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেব। গত তিন মাসে যেসব জঘন্য অপরাধ হয়েছে, সেগুলোতে আমরা সময়মতো ব্যবস্থা নিয়েছি। এটাও করা হবে, ইনশাআল্লাহ।

টোল প্লাজায় দীর্ঘ যানজট নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই সমস্যার সমাধানে উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা প্রয়োজন। এখন ম্যানুয়ালি টোল আদায় করা হচ্ছে। টিকিট নিতে গিয়ে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। অনেক দেশে এটা স্বয়ংক্রিয় করা হয়েছে। গাড়িতে একটি কার্ড থাকবে, ডিজিটাল ব্যবস্থায় সেখান থেকে টাকা কেটে নেওয়া হবে। তখন আর অপেক্ষা করতে হবে না। বিষয়টি নিয়ে সরকার চিন্তা করছে। সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়কে আমি পরামর্শ দেব।

জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ-র‍্যাবের ক্যাম্পে হামলার প্রসঙ্গে পুলিশের এলিট ফোর্স র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ বলেন, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। আমরা হয়ত তাদের সেই লেভেলের মনিটরিংটা করতে পারিনি। তবে আমাদেরকে ওভার পাওয়ার করার মতো শক্তি তাদের নেই। এটা তারা নিশ্চিতভাবে জানে।

মঙ্গলবার দেশের জাতীয় এবং অন্যান্য ঈদগাহে ঈদুল আজহার নামাজের নিরাপত্তা দেওয়া এবং দেশবাসীর নির্বিঘ্নে ঈদ উৎসব উদযাপনে র‍্যাবের নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে ব্রিফিংকালে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাবের ক্যাম্পে হামলা হয়েছে। র‍্যাব কী ওই রাতে অপ্রস্তুত ছিল? ইয়াসিন বাহিনী কী এতই শক্তিশালী হয়ে গেল যে সেখানে র‍্যাবের ক্যাম্পে হামলা করলো? তার হওয়া গ্রেপ্তার দেখলাম না। আপনাদের কেউ হতাহত হয়েছে কিনা? পুরো বিষয়টা যদি একটু ব্যাখ্যা করতেন। এ সম্পর্কে র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন, র‍্যাব এবং পুলিশের দুটি বিশেষ ক্যাম্প সেখানে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এবং তারা ঠিকঠাকভাবে দায়িত্ব পালন করছে। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। হামলাটা আসলে র‍্যাব ক্যাম্পে হয়নি। আমাদের একটা নতুন বিশেষ ক্যাম্প তৈরি করে আমরা সেটা সেটল করার জন্য যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। সেই সময় সেখানে তারা হামলা করেছে।

তিনি বলেন, ইয়াসিন বাহিনী আমাদের চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে, এটা ভাবার কোনো সুযোগ নেই। তারা অতর্কিত কাজটা করেছে এবং আমার মনে হয় আমাদের কিছুটা দুর্বলতা ছিল। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। আমরা হয়ত তাদের সেই লেভেলের মনিটরিংটা করতে পারিনি। তবে আমাদেরকে ওভার পাওয়ার করার মতো শক্তি তাদের নেই। এটা তারা নিশ্চিতভাবে জানে।

র‍্যাব ডিজি বলেন, যে ঘটনাটা ঘটেছে, এটা আমাদের কিছু অসাবধানতাবশত ঘটেছে। তবে তারা এখানে আসতে পারবে না। তাদের সে শক্তি নেই। তারা যেখানেই থাকুক, যেভাবেই থাকুক, তাদেরকে আমরা উচ্ছেদ করবো। এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন, তারা কোনোভাবেই সেখানে ঢুকতে পারবে না। আমরা তাদেরকে তাড়িয়ে দিয়েছি। তারা তাড়ানো অবস্থায় থাকবে, ঢোকার কোনো সুযোগ পাবে না।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ