খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৮ মে ২০২৬ | ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইরানে হামলার কারণ হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন নিক্ষেপ : যুক্তরাষ্ট্র

খবর প্রতিবেদন |
০২:১০ পি.এম | ২৮ মে ২০২৬

 

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো লক্ষ্য করে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর ড্রোন নিক্ষেপের কারণে দেশটির বন্দরশহর বন্দর আব্বাসে হামলা চালিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেছেন, গতকাল বুধবার রাতে ইরানের চারটি সামরিক ড্রোন মার্কিন নৌবাহিনী ভূপাতিত করেছে এবং হরমুজ প্রণালির তীরে অবস্থিত বন্দর শহর বন্দর আব্বাসে হামলা চালিয়েছে।

বন্দর আব্বাসে ড্রোন নিক্ষেপের জন্য বন্দর আব্বাসে বিশেষ গ্রাউন্ড স্টেশন তৈরি করেছিল ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী। রয়টার্সকে ওই মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, “মার্কিন বাহিনী যখন হামলা করে, সে সময় পঞ্চম ড্রোন নিক্ষেপের প্রস্তুতি চলছিল সেই স্টেশনটিতে। আমাদের পদক্ষেপ ছিল পরিমিত, নিয়ন্ত্রিত, সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক এবং যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার উদ্দেশে গৃহীত।”

এদিকে ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ দেশটির সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গতকাল বুধবার রাতে হরমুজ প্রণালিতে চলতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী একটি ট্যাংকার জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এই ড্রোন নিক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল জাহাজটিকে পিছু হটতে বাধ্য করা।

তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বুধবার মার্কিন ট্যাংকার জাহাজটি হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের আগে আরও ৪টি জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছিল, তবে সেগুলোকে লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক ফায়ার করার পর পিছু হটেছিল জাহাজগুলো।

উল্লেখ্য, ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য জলপথগুলোর মধ্যে একটি। বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের এক পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ‍যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার পর বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় আইআরজিসি। সে সময় পর পর বেশ কয়েকটি বিদেশি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করে রেভল্যুশনারি গার্ড সদস্যরা এবং এসব হামলায় বেশ কয়েক জন বিদেশি নাবিক নিহতও হয়েছেন।

গত ৭ এপ্রিল ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির পর ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জারি করে যুক্তরাষ্ট্র।

সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বিদেশি জাহাজগুলো থেকে টোল আদায় করতে আইন করেছে ইরানের পার্লামেন্ট, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ এই আইনের তীব্র বিরোধী। মার্কিন প্রশাসন ও ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের দাবি, যে কোনো বৈশ্বিক জলপথে কোনো একক দেশের নিয়ন্ত্রণ আরোপ আন্তর্জাতিক সমুদ্র ও জাহাজ চলাচল আইনের বিরোধী।
সূত্র : রয়টার্স

প্রিন্ট

আরও সংবাদ