খুলনা | শুক্রবার | ২৯ মে ২০২৬ | ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইরানের সঙ্গে ৬০ দিনের চুক্তিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, অপেক্ষা ট্রাম্পের সইয়ের

খবর প্রতিবেদন |
১২:২১ পি.এম | ২৯ মে ২০২৬

 

ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতে বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। কাতারে মার্কিন ও ইরানি আলোচনাকারীরা ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর একটি কাঠামো বা ফ্রেমওয়ার্ক নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। তবে এটি কার্যকর হতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন।

প্রাথমিক খবরে বলা হয়েছে, এই সমঝোতার আওতায় রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত, হরমুজ প্রণালি আবার চালু করা, ইরানের মাইন অপসারণ, তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির অঙ্গীকার, এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও জব্দকৃত ইরানি সম্পদ ছাড়ের আলোচনা।

মার্কিন প্রশাসনের সূত্র অনুযায়ী, দুই পক্ষের মধ্যে একটি ‘মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ (এমওইউ) হয়েছে, যার মাধ্যমে ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো এবং চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে হোয়াইট হাউস বলছে, এই চুক্তি কার্যকর হয়নি। কারণ ট্রাম্প এখনো এতে সই করেননি বা অনুমোদন দেননি।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা
চুক্তির অন্যতম কেন্দ্রীয় বিষয় হলো কৌশলগত হরমুজ প্রণালি। মার্কিন দাবি অনুযায়ী, সমঝোতা হলে প্রণালিটি আবার খুলে দেওয়া হবে। তবে ইরান এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ বা সার্বভৌমত্ব ছাড়তে নারাজ অবস্থানে আছে। ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, প্রণালিটি ‘নতুন ব্যবস্থাপনায়’ চালু হতে পারে, তবে সিদ্ধান্ত থাকবে তেহরান ও ওমানের যৌথ অবস্থানে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করেছে, হরমুজে টোল আরোপ বা নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সামরিক উত্তেজনা চলছেই
কূটনৈতিক অগ্রগতির খবরে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত মিললেও বাস্তবে সংঘাত থামেনি। আল জাজিরার খবর অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নতুন করে প্রাণহানি ঘটেছে। ইরানের বুশেহর অঞ্চলে ‘শত্রু ড্রোন’ ধ্বংস করার দাবি করেছে তেহরান। আর হরমুজ প্রণালির কাছে একাধিক জাহাজকে সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানি বাহিনী। এছাড়া ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।

ট্রাম্পের অবস্থান ও অনিশ্চয়তা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। বিশ্লেষকদের মতে, তিনি একটি চুক্তি চান, তবে শর্তগুলো নিয়ে কঠোর অবস্থানে আছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ সময় ধরে এই সামরিক উপস্থিতি ও নৌ অবরোধ চালিয়ে যেতে পারবে না, ফলে একটি সমঝোতার দিকে চাপ তৈরি হচ্ছে। তবে শেষ সিদ্ধান্ত এখনো রাজনৈতিকভাবে ঝুলে আছে।

জাতিসংঘের পক্ষ থেকে দুই পক্ষকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন হরমুজ অঞ্চলে নৌ নিরাপত্তা জোরদার করার পরিকল্পনা করছে।

অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে সংঘাত আরও না বাড়ে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ