খুলনা | রবিবার | ৩১ মে ২০২৬ | ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কেসিসিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকী পালিত

খবর বিজ্ঞপ্তি |
০৬:০৮ পি.এম | ৩০ মে ২০২৬


শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এঁর ৪৫তম শাহাদৎ বার্ষিকী পালন উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল আজ শনিবার (৩০ মে) সকালে নগর ভবনের নিচতলায় অনুষ্ঠিত হয়। কেসিসি’র কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্তৃক আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রশাসক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রূহের মাগফেরাত কামনা করে বলেন, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের জনমানুষের কাছে আস্থার প্রতীক। দেশের রাজনীতিতে তিনি এমন একটি অবস্থান তৈরী করে গেছেন যা তাকে যুগ যুগ ধরে দেশের রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক করে রাখবে এবং কল্যাণমুখী রাজনীতিতে অনুপ্রাণিত করবে। জীবদ্দশায় তিনি দেখিয়ে গেছেন মানুষের কল্যাণে কিভাবে রাজনীতি করতে হয় এবং সততা, নিষ্ঠা এবং দেশপ্রেমের মাধ্যমে একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হয়। তার এ সকল গুণাবলি ধারণ করে রাজনীতি করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান।

জিয়াউর রহমানের খুলনায় আগমনের স্মৃতিচারণ করে তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মেধাবীদের হাতে রাজনীতি তুলে দিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমানে তাদের বড় সন্তান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনমানুষের কল্যাণে একটি আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ শুরু করছেন। সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই অগ্রযাত্রায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ঈদ উপহার প্রদানের প্রশসংসা করে তিনি বলেন, তাঁর উপহারে অনুপ্রাণিত হয়ে ঈদ-উল-আজহা পরবর্তী বর্জ্য অপসারণে পরিচ্ছন্নতাকর্মীগণ প্রশংসনীয় ভ‚মিকা রেখেছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবনীর ওপর আলোচনা করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশন সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তৃতা করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মাজহারুল হান্নান এবং বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তৃতা করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আব্দুল মান্নান।

বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালের এপ্রিল মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন, যুগান্তকারী অর্থনৈতিক সংস্কার ও কৃষি বিপ্লব এবং নিজস্ব বৈদেশিক নীতি গ্রহণের মাধ্যমে দেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। এছাড়া তিনি সংবিধান সংশোধন করে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্রের জায়গায় ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ অন্তর্ভুক্তকরণ, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার লক্ষ্যে একটি আঞ্চলিক জোট সার্ক গঠন, খাদ্যের উৎপাদন বাড়াতে খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণের পাশাপাশি সেচ ব্যবস্থার স¤প্রসারণ এবং উচ্চফলনশীল ধানের বীজ ও সারের ব্যবহার জনপ্রিয় করে অর্থনৈতিক ও কৃষি বিপ্লবের সূচনা করেন। বৈদেশিক নির্ভরতা কমিয়ে দেশকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে স্বনির্ভর গ্রাম সরকার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন, রফতানিমুখী অর্থনীতিকে জোরদার করতে ব্যক্তিখাতে শিল্প স্থাপনে প্রণোদনা প্রদান এবং অনেক রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা বেসরকারি খাতে প্রদান, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক সুদৃঢ়করণ, বিশ্বের বিভিন্ন পরাশক্তির বলয় থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশের জন্য একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ, নারীদের ক্ষমতায়ন এবং বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করায় বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক গভীর ও স্থায়ী প্রভাব ফেলে গেছেন যা তাঁকে বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ফলশ্রæতিতে তার গঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল স্বল্প সময়ে দেশের সর্ববৃহৎ ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসেবে জনমানুষের মনে স্থান করে নিয়েছে বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

কেসিসি’র সচিব মো: রেজা রশীদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে খুলনা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো: তরিকুল ইসলাম, কেসিসি কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি উজ্জ্বল কুমার সাহা, এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল হক প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কেসিসি’র প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশীদ এবং দোয়া পরিচালনা করেন কেসিসি শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাওলানা নাসির উদ্দিন কাশেমী। কেসিসি’র সাবেক কাউন্সিলর মো: মাহবুব কায়সার, মো: শমসের আলী মিন্টু, এইচ এম আবু সালেক, মো: গিয়াস উদ্দিন বনি, মাজেদা খাতুন, বিএনপি নেতা মীর কায়ছেদ আলী, শেখ মোশারফ হোসেন, জাফরুল্লাহ খান সাচ্চু, এ্যাড. ফজলে হালিম লিটন, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, আরিফুজ্জামান অপু, নজরুল ইসলাম বাবু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, ইকবাল হোসেন খোকন, আনোয়ার হোসেন, এ্যাড. গোলাম মওলা, নিজাম উর রহমান বাবলু, সাদিকুর রহমান সবুজ, ইউসুফ হারুন মজনু, শফিকুল ইসলাম শফি, শফিকুল ইসলাম শুকুরসহ থানা ও ওয়ার্ড বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, কেসিসি’র ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ