খুলনা | রবিবার | ৩১ মে ২০২৬ | ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

খুলনায় দুই নাতি ও নানীর মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক |
১০:২০ পি.এম | ৩০ মে ২০২৬


খুলনার সোনাডাঙ্গা কাঁচা বাজারের পাশে ভাড়া বাসা থেকে নানী ও দুই নাতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার (৩০ মে ) সোনাডাঙ্গা এলাকার দারুল আমান মহল্লার ভাড়া বাসার তালা ভেঙে ভেতর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন বেবি (৫৫), মুস্তাকিম (৪), শামিম (১৩)। নিহত দুই সন্তানের মা ফাতেমা বেগম মেরী ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল শুক্রবার (২৯ মে) থেকে  তিনজনই নিখোঁজ ছিল বলে জানা যায়। এলাকাবাসীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী নিহত দুই শিশুর মা মেরি বেগম নিজের মা বেবি বেগম ও দুই সন্তান শুক্রবার থেকে নিখোঁজ ছিল। ঘর তালাবদ্ধ থাকায় তাদের সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দেয়া হয়।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় তালা ভেঙ্গে খাটের নিচ থেকে ফাতেমার মা বেবী বেগম, ট্রাঙ্ক থেকে প্রথম স্বামীর সন্তান শামীম ও ওয়্যারড্রব থেকে মুস্তাকিমের মরদেহ উদ্ধার করে। এলাকাবাসীর ধারনা মেরী বেগমের দ্বিতীয় স্বামী ট্রাক ড্রাইভার রফিক এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

এদিকে খবর পেয়ে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ, ডিবি এবং সিআইডির বিশেষ টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্রাইম সিন থেকে আলামত নিয়েছে। মরদেহ তিনজনের সুরতহাল শেষ করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়না তদন্তের জন্য নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

উল্লেখ, চার বছর পূর্বে ফাতেমা বেগমের প্রথম স্বামী মাসুম বেপারী (৪৫)। তিনি নগরীর লবণচরা থানার কৃষ্ণনগর গ্রামের কাশেম বেপারীর ছেলে। মাসুম বেপারীর সাথে ফাতেমা বেগমের ডিভোর্স হয়। মাসুম ব্যাপারীর সাথে ফাতেমার ডিভোর্সের পর তাদের সন্তান শামীম এবং মুস্তাকিম তার মা ফাতেমা বেগমের সাথে বসবাস করতে থাকেন। এর ভিতরে আন্তঃজেলা ট্রাক ড্রাইভার রফিকুলের সাথে বিয়ে হলে সেও প্রায় ফাতেমা বেগমের মায়ের বাসায় এসে থাকতো।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, নগরীর সোনাডাঙ্গা থানা এলাকার দারুল আমান মহল্লায় শরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির ভাড়া বাসায় তিনটি মরদেহ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুটি শিশু মুস্তাকিম(৪) ও শামিম (১৩) এবং তাদের নানি বেবী বেগম-এর মরদেহ রয়েছে। এ ঘটনায় নিহত শিশুসন্তান দুটির মা ফাতেমা বেগম( ৩৫) কে হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যমতে তার দ্বিতীয় স্বামী রফিকুল-এর সাথে জাড়িত। এ ঘটনায় পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। রফিকুল খুলনা নগরীর মহেশ্বরপাশা এলাকার আলমগীর হোসেনের ছেলে। আলমগীরকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ