খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০৪ জুন ২০২৬ | ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শুরু হচ্ছে রামিসা হত্যার বিচার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক

|
০১:০১ এ.এম | ০১ জুন ২০২৬


শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার চার্জশিট বা অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। আজ ১ জুন থেকে মামলার বিচারকাজ শুরু হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পাঁচ থেকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ হবে। নৃশংস এই ঘটনায় মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় চার্জশিট প্রদান করা হয়-এটি একটি দৃষ্টান্ত।
রাজধানীর পল­বীতে ১৯ মে পাশের ফ্ল্যাটে অবর্ণনীয় নৃশংসতার শিকার হয় সাত বছরের শিশু রামিসা। এ ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজ রাস্তায় নামে। গত রোববারও একটি সংগঠন রামিসাসহ শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ ১০ দফা দাবি জানিয়েছে। সবার উদ্বেগ একটিই, কন্যাশিশুর নিরাপত্তা কোথায়? ২১ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রামিসার বাসায় যান এবং দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেন। গত রোববার আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। দেখা যাচ্ছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সক্রিয় হলে তদন্তপ্রক্রিয়া কাক্সিক্ষত গতি পায়।
এ ঘটনার মাত্র সাত ঘণ্টার মাথায় প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে সহযোগী রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও দ্রুত গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া ডিএনএ ও ফরেনসিক রিপোর্ট পেতে যেখানে কয়েক মাস লেগে যায়, সেখানে এই মামলায় মাত্র তিন দিনের মধ্যে ডিএনএ ও ফরেনসিক রিপোর্ট হস্তান্তর করা হয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা পরিচালনার জন্য আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (স্পেশাল পিপি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এ ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিচারক অবকাশকালীন ছুটিও পাচ্ছেন না। তবে পরিতাপের বিষয়, যেসব ঘটনা আলোচিত হয়, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়; শুধু সেসব মামলার কার্যক্রম এক ধরনের গতি পায়। বাকি ঘটনাগুলো আদালতের চার দেয়ালের মধ্যে বছরের পর বছর ঘুরপাক খেতে থাকে। রামিসার পর কলাবাগানেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। সারা দেশে আরো বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। আমরা আশা করি, শিশু নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনায়ই বিচারিক কার্যক্রম কাক্সিক্ষত গতি পাবে।
দেশে সামগ্রিকভাবেই আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি দ্রুত বাড়ছে। সাধারণ মানুষের জীবনে রীতিমতো নাভিশ্বাস উঠে গেছে। অপরাধীরা ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তারা এমনকি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ওপরও হামলা করছে। কাজেই জনজীবনে স্বস্তি ফেরাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা চাই, অপরাধের প্রতিটি ঘটনাই কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হোক। বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুততর করা হোক। রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। পাশাপাশি শিশু নির্যাতনের অপরাপর ঘটনায়ও অপরাধীদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ