খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০৪ জুন ২০২৬ | ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিশ্বকাপে যেসব নতুন নিয়ম দেখবেন দর্শকরা

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
০৩:১০ পি.এম | ০১ জুন ২০২৬

 

মাত্র ১০ দিন পর শুরু হওয়া ফুটবল বিশ্বকাপে শুধু দলসংখ্যাই বাড়ছে না, বদল আসছে ফুটবলের নিয়মেও। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপ হবে নতুন কয়েকটি আইন প্রয়োগের প্রথম বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চ।

ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড, সংক্ষেপে ইফাব, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন অনুমোদন করেছে। ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কলিনা জানিয়েছেন, এই পরিবর্তনের লক্ষ্য বৈষম্যমূলক আচরণ ঠেকানো, সময় নষ্ট কমানো, ম্যাচের গতি বাড়ানো এবং খেলোয়াড় ও দর্শকদের অভিজ্ঞতা আরও ভালো করা। এশিয়া পোস্টের পাঠকদের জন্য বিশ্বকাপের নতুন নিয়মগুলো দেওয়া হলো:

মুখ ঢেকে কথা বললেই বিপদ
নতুন নিয়মে মাঠে উত্তেজনাপূর্ণ বা মুখোমুখি পরিস্থিতিতে কোনো খেলোয়াড় হাত, বাহু বা জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে কথা বললে সরাসরি লাল কার্ড দেখতে পারেন।

এই নিয়ম আনার পেছনে সাম্প্রতিক একটি বিতর্ক বড় ভূমিকা রেখেছে। বেনফিকার জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ান্নির বিরুদ্ধে রিয়ালের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের উদ্দেশে মুখ ঢেকে বৈষম্যমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছিল। পরে উয়েফা তাকে ছয় ম্যাচ নিষিদ্ধ করে এবং সেই নিষেধাজ্ঞা বিশ্বব্যাপী কার্যকর করা হয়।

তবে বন্ধুত্বপূর্ণ আলাপচারিতায় মুখ ঢেকে কথা বললেই শাস্তি হবে না। যেমন ক্লাব সতীর্থরা জাতীয় দলে প্রতিপক্ষ হয়ে খেললেও বন্ধুত্বপূর্ণ কথোপকথনের সময় মুখ ঢাকলে তা অপরাধ হিসেবে দেখা হবে না।

প্রতিবাদে মাঠ ছাড়লে লাল কার্ড
রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কোনো খেলোয়াড় মাঠ ছেড়ে গেলে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হবে। শুধু খেলোয়াড় নয়, কোনো টিম অফিশিয়াল যদি খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়তে প্ররোচিত করেন, তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমনকি কোনো দল যদি নিজেদের আচরণের কারণে ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করে, তাহলে সেই দল ম্যাচ হারবে। বড় ম্যাচে দলীয় প্রতিবাদ ও মাঠ ছাড়ার প্রবণতা ঠেকাতেই এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

থ্রো-ইন ও গোল-কিকে পাঁচ সেকেন্ডের হিসাব
সময় নষ্ট ঠেকাতে থ্রো-ইন ও গোল-কিকে আসছে দৃশ্যমান পাঁচ সেকেন্ডের কাউন্টডাউন। রেফারি হাত তুলে এই কাউন্টডাউন শুরু করবেন।

কাউন্টডাউন শেষ হওয়ার পরও থ্রো-ইন না নিলে বল চলে যাবে প্রতিপক্ষের কাছে। আর গোল-কিক নেওয়া না হলে প্রতিপক্ষ কর্নার পাবে। অর্থাৎ ডিফেন্ডার বা গোলরক্ষকদের সময় নষ্ট করার সুযোগ অনেকটাই কমে যাবে।

বদলির সময় মাত্র ১০ সেকেন্ড
বদলির ক্ষেত্রেও সময় নষ্ট বন্ধে কঠোর নিয়ম আসছে। বদলির বোর্ড দেখানোর পর মাঠ ছাড়তে খেলোয়াড়ের হাতে থাকবে ১০ সেকেন্ড। তাকে সবচেয়ে কাছের বাউন্ডারি লাইন দিয়ে মাঠ ছাড়তে হবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খেলোয়াড় মাঠ না ছাড়লে বদলি খেলোয়াড় সঙ্গে সঙ্গে নামতে পারবেন না। খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর এক মিনিট পার হয়ে প্রথম বিরতিতে রেফারির সংকেত পেলে তবেই তিনি মাঠে ঢুকতে পারবেন। তবে চোট বা নিরাপত্তাজনিত কারণে ব্যতিক্রম থাকবে।

চিকিৎসা নিলে এক মিনিট বাইরে
মাঠে মেডিকেল স্টাফ ঢুকে কোনো আউটফিল্ড খেলোয়াড়কে চিকিৎসা দিলে সেই খেলোয়াড়কে খেলা শুরু হওয়ার পর এক মিনিট মাঠের বাইরে থাকতে হবে।

তবে কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। গোলরক্ষকের চোট, গোলরক্ষক ও আউটফিল্ড খেলোয়াড়ের সংঘর্ষ, সতীর্থদের সংঘর্ষ, মাথায় আঘাত বা কনকাশনের মতো গুরুতর পরিস্থিতি এবং আহত খেলোয়াড় পেনাল্টি নিতে প্রস্তুত থাকলে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।

ভিএআর ব্যবহারে নতুন ক্ষেত্র
ভিএআর প্রোটোকলেও পরিবর্তন আসছে। কলিনা বলেছেন, ২০১৭ সালে ফিফা প্রতিযোগিতায় ভিএআর চালু হওয়ার সময় অভিজ্ঞতা ছিল সীমিত। এখন সেই প্রোটোকল নতুনভাবে ভাবার সময় এসেছে।

নতুন নিয়মে কয়েকটি অতিরিক্ত ক্ষেত্রে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারবে। যেমন ভুলভাবে হলুদ কার্ড দেখিয়ে আসলে লাল কার্ডের অপরাধ এড়িয়ে গেলে, ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেখালে, ভুল কর্নার সিদ্ধান্ত সঙ্গে সঙ্গে সংশোধনযোগ্য হলে এবং সেট-পিস নেওয়ার আগে কোনো ফাউল হলে ভিএআর রেফারিকে অন-ফিল্ড রিভিউয়ের পরামর্শ দিতে পারবে।

যদি রেফারি দেখেন বল খেলার আগে ফাউল হয়েছে, তাহলে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে কর্নার বা ফ্রি-কিক আবার নেওয়া হবে।

প্রতিটি অর্ধে পানির বিরতি
২০২৬ বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচে দুই অর্ধেই তিন মিনিটের হাইড্রেশন ব্রেক থাকবে। সাধারণত অর্ধের মাঝামাঝি, অর্থাৎ ২২ মিনিটের দিকে এই বিরতি দেওয়া হবে।

তবে রেফারির হাতে কিছুটা নমনীয়তা থাকবে। যেমন ২০ মিনিটের সময় কোনো খেলোয়াড় চোট পেয়ে চিকিৎসা নিলে তখনই পানির বিরতি ঘোষণা করা যেতে পারে।

গোলরক্ষকের চোটে ‘টাইমআউট’ নয়
গোলরক্ষক মাঠে চিকিৎসা নিলে দুই দলের খেলোয়াড়রা মাঠ ছেড়ে কোচের সঙ্গে আলাদা করে আলোচনা করতে পারবেন না। অর্থাৎ গোলরক্ষকের চোটকে ব্যবহার করে দলীয় ‘টাইমআউট’ নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করা হচ্ছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ