খুলনা | শনিবার | ০৬ জুন ২০২৬ | ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ময়নাতদন্ত ছাড়াই বাগেরহাট মাজারের পাশে কুমিরের আক্রমনে নিহত ফাতেমার দাফন

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট |
০৬:০২ পি.এম | ০২ জুন ২০২৬


বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহঃ) এর মাজার সংলগ্ন দিঘীতে কুমিরের আক্রমনে নিহত শিশু ফাতেমার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ময়নাতদন্ত ছাড়াই মঙ্গলবার দুপুরে মাজারের পাশেই ফাতেমার জানাজা সম্পন্ন হয়। পরে মাজার লংলগ্ন এলাকায় থাকা গণকরবস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে খানজাহান আলী (রহঃ) এর মাজার সংলগ্ন দীঘির পূর্ব পাশে নারীদের ঘাটে গোসল করতে নামলে শিশু ফাতেমা আক্তার (৭) কে মাজারে থাকা একমাত্র কুমিরটি টেনে নিয়ে যায়। চারদিকে চিৎকার চেচামেচি শুরু হয়। স্থানীয়রা মাজারের মধ্যে নৌকা নামিয়ে শুরু করে উদ্ধার অভিযান। পরে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, জেলা প্রশাসন অংশনেয় উদ্ধার অভিযানে। রাতভর উদ্ধার অভিযান শেষে মঙ্গলবার মঙ্গলবার ভোরে মহিলা ঘাটের পাশ থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে খাদেম ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
নিহত ফাতেমা আক্তার মাজারে ভবঘুরে হিসেবে থাকা এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর মেয়ে। ফাতেমার মূল ঠিকানা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষ। খানজাহান আলী (রহঃ) এর মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তরিকুল ইসলাম বলেন, শিশুটি এই এলাকায়ই ঘুরে বেড়াত। তার মৃত্যুতে আমরা সবাই শোকাহত। জেলা প্রশাসনসহ সকলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাজারের পাশেই তার জানাজা হয়েছে। স্থানীয় গণকবরে তার দাফন করা হয়েছে। ফাতেমার মা মানসিকভাবে অসুস্থ। সেও যাতে ভালভাবে বেঁচে থাকতে পারে, তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন বলেন, শিশুটিকে উদ্ধারের পরে ধর্মীয় নিয়মকানুন মেনে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। আর ভবিষ্যতে যাতে এ ধরণের কোন ঘটনা না ঘটে সেজন্য আপতত কুমিরটিকে অন্য কোথাও স্থানান্তর করা হবে। খাঁচা বা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করে আবার কুমির আনা হবে। মাজারে স্থায়ীভাবে টুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানান তিনি।
বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ বলেন, মাজারে এ ধরণের ঘটনা মাজারের ঐতিহ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। মাজারের ঐতিহ্য ঠিক রেখে, এই ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেজন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে ঘাটে ফেন্সিং করা হবে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য এর আগে গত ৮ এপ্রিল দিঘির ঘাট থেকে কুমিরটি একটি কুকুরকে টেনে নিয়ে যায়। টেনে নিয়ে যাওয়ার ভিওি ক্লিপস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনায় আসে। তখন মাজারে কুমিরের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে। তবে মাজারের শুরু থেকে কুমির থাকলেও, বর্তমানে মাজারে থাকা কুমিরটি খানজাহানের অবমুক্ত করা কুমিরের বংশধর না।
জানা যায়, খানজাহান আলী (রহঃ) এই দিঘি খনন করে এক জোড়া কুমির ছেড়েছিলেন। পরে তাদের মধ্যে পুরুষটার নাম রাখেন কালা পাহাড় ও স্ত্রী কুমিরটার নাম ধলা পাহাড়। এরপর তাদের বংশধর কুমিরদের মধ্যে পুরুষকে ‘কালা পাহাড়’ আর স্ত্রী কুমিরকে ‘ধলা পাহাড়’ ডাকা হতো। তাদের সর্বশেষ বংশধরের মৃত্যু হয় ২০১৫ সালের ফেব্র“য়ারিতে। এর আগে ২০০৫ সালে ভারত থেকে কয়েকটা কুমির এনে দিঘিতে ছাড়া হয়; কিন্তু এর কয়েকটা মারা যায়। সর্বশেষ যে দু’টো ছিল, তার একটা ২০২৩ সালের অক্টোবরে মারা যায়। এর পর থেকে একটা কুমিরই দিঘিতে আছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ