খুলনা | শনিবার | ১৩ জুন ২০২৬ | ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সেতু ভেঙে ১১ মাস দুর্ভোগে ঝিনাইদহের দুই ইউনিয়নের হাজারো মানুষ

খাইরুল ইসলাম নিরব, ঝিনাইদহ |
১২:০২ এ.এম | ০৩ জুন ২০২৬


ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া ও মহারাজপুর দুই  ইউনিয়নের মানুষের জন্য একমাত্র সহজ যোগাযোগের মাধ্যম ছিল খালের ওপর নির্মিত  ৪৫ বছরের পুরনো একটি সেতু। এই গুরুত্বপূর্ণ সেতু ভেঙে যাওয়ার পর যান চলাচল বন্ধ হয়ে প্রায় ১১ মাস ধরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের তৈরি অস্থায়ী সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন পারাপার হচ্ছেন স্কুলগামী শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন ও জরুরি সেবায় মারাত্মক বিঘœ সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া ও মহারাজপুর ইউনিয়নের একমাত্র ব্যবহারযোগ্য ও সংযোগস্থাপনকারী সড়ক ‘বিষয়খালী জিসি-নগরবাথান জিসি ভায়া ডেফলবাড়ী’ সড়ক। আনুমানিক ৪৫ বছর আগে সড়কের ভবানীপুর-ডেফলবাড়ী এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ‘গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের’ খালের ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগ সেতুটি নির্মাণ করে।
স্থানীয়রা জানান, গত বছরের প্রবল বৃষ্টিপাতের সময় পানির তোড়ে সেতুর মাঝখানের বড় অংশ ধসে পড়ে। এরপর থেকে দুই ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেও সেতুটি প্রায় ১১ মাসেও নির্মাণ করা হয়নি। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী চাঁদা তুলে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেন। এতে স্থানীয় চলাচলকারী, পণ্য পরিবহনকারী ও যানবাহন চালকদের ভোগান্তি বেড়েছে। প্রতিদিন শতশত মানুষ মোটরসাইকেল কাঁধে নিয়ে কিংবা হেঁটে সাঁকো পার হচ্ছেন। বৃষ্টি হলে দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের চলাচলে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে। অসুস্থ রোগীদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে নিতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে পরিবারগুলোকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙা সেতুর দু’পাশে মানুষের দীর্ঘ ভোগান্তির চিত্র। নড়বড়ে সাঁকো পার হতে গিয়ে ছোট শিশু ও বৃদ্ধদের বেশ বেগ পোহাতে হচ্ছে। সামান্য অসাবধানতায় যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
স্থানীয় আবদুল খালেক বলেন, সেতু ভেঙে যাওয়ায় কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত কয়েক কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে পরিবহন খরচ ও সময়। অনেক সময় ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা লিখন হোসেন জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। এছাড়া কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্যও এটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 
সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর এখন গন্তব্যে পৌঁছাতে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার ঘুরপথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে সময়, ভোগান্তি ও পরিবহন ব্যয়।  এছাড়া রোগী নিয়ে ঝিনাইদহ হাসপাতালে যেতে খুব সমস্যা হয়। রাতে জরুরি রোগী হলে বড় বিপদে পড়তে হয়। একটি সেতুর জন্য মানুষের এত কষ্ট হলেও দেখার যেন কেউ নেই।
এলাকাবাসী আরও জানান, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করলেও এখনো নতুন সেতু নির্মাণের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। দ্রুত একটি টেকসই সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ভেঙে যাওয়া সেতুটি পুনঃনির্মাণের জন্য একাধিক প্রকল্প প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, সামনে বর্ষা মৌসুমের কারণে  নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে জনসাধারণের মধ্যে। তাদের আশঙ্কা,ভারি বৃষ্টি ও পানি বৃদ্ধি পেলে অস্থায়ী সাঁকোটিও ভেঙে যেতে পারে। তখন পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ