খুলনা | শনিবার | ০৬ জুন ২০২৬ | ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বন্ধু’র স্ত্রীকে ভাগিয়ে বিয়ে করার জের

নগরীতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০১:২৫ এ.এম | ০৩ জুন ২০২৬


মহানগরীর লবণচরা থানা এলাকায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কাজী রাশিদুল ইসলাম নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্কুলভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানায়, চলতি বছরের ১৯ মার্চ সকালে বাড়িতে কাজী রাশিদুলের বাড়িতে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে সন্ত্রাসীরা। সেদিন রাশেদ বাড়িতে না থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। সন্ত্রাসীদের গুলিতে রাশেদের মা রঞ্জুয়ারা বেগম, বাবা কাজী আনিসুর রহমান, বড় ভাই রাইসুল ইসলাম ও স্ত্রী ফাহিমা গুলিবিদ্ধ হন। পরে রঞ্জুয়ারা বেগম ও ফাহিমাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গুলি বের করা হয়েছিল।
নিহতের ভাই কাজী রাইসুল ইসলাম জানান, সকালে রাশেদ বাড়িতে ছিলেন। বেলা সোয়া ১১টার দিকে তার দুই বন্ধু এসে রাশেদকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তারা জানতে পারেন স্কুলভিটার সামনে রাশেদকে কুপিয়ে ফেলে রাখা হয়েছে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের মর্গে সামনে বিলাপরত অবস্থায় রাশের বাবা কাজী আনিসুর রহমান বলেন, আগের বার ফাহিমার প্রথম স্বামী ইমরান বাড়িতে রাশেদকে মারতে এসেছিল। ওকে না পেয়ে আমাদের গুলি করে। ওই ঘটনার বিচার হলে আমার ভাইকে লাশ হতে হতো না।
নগরীর লবণচরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ মোশাররফ হোসেন বলেন, হত্যাকারীরা রাশেদের পূর্ব পরিচিত। তারা বাড়িতে এসে ডেকে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সাচিবুনিয়া এলাকায় নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। 
তিনি আরো জানান, একটি মাদক মামলায় দীর্ঘদিন কারাগারে ছিল রাশেদ। সেখানে সন্ত্রাসী গ্র“প বি- কোম্পানির সদস্য ইমরানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে ইমরানের স্ত্রীকে বিয়ে করে রাশেদ। এই ক্ষোভে রাশেদের বাড়িতে ঢুকে ১৯ মার্চ গুলি করে ইমরান। ওই সময় রাশেদের বাবা কাজী আনিসুর রহমান, মা রঞ্জুয়ারা বেগম, বড় ভাই রাইসুল ইসলাম ও  স্ত্রী ফাহিমা গুলিবিদ্ধ হন। আজকের এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে আগের হামলার যোগসূত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান ওসি।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রায় তিন বছর আগে রাশেদ একটি মাদক মামলায় কারাবন্দি হয়েছিলেন। কারাগারে তার সঙ্গে একই ধরনের মামলায় বন্দি ইমরানের সাথে পরিচয় হয় এবং ধীরে ধীরে তাদের সম্পর্ক বন্ধুত্বে পরিণত হয়। ইমরানের আগে রাশেদ জেল থেকে ছাড়া পাওয়ায় ইমরান তাকে পরিবারের খোঁজখবর রাখতে বলে।
ফলে ইমরানের বাড়িতে রাশেদের যাতায়াত শুরু করেন। ছয়-সাত মাস আগে ইমরান আবারও এক মামলায় কারাগারে গেলে ইমরানের স্ত্রী ফাহিমার সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে রাশেদ। এটি জানাজানি হলে রাশেদ ও ফহিমা বিয়ে করেন। ধারণা করা হচ্ছে, এর জেরে ওই হামলা হয়েছিল। এবং মঙ্গলবার রাশেদকে হত্যা করা হয়েছে। 
রাশেদের বাবা কাজী আনিসুর রহমান বলেন, আগেরবার ফাহিমার প্রথম স্বামী ইমরান বাড়িতে রাশেদকে মারতে এসেছিল। ওকে না পেয়ে আমাদের গুলি করে। ওই ঘটনার বিচার হলে আমার ছেলেকে খুন হতে হতো না।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের প্রথম ৫ মাসে খুলনায় ১৭টি হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ