খুলনা | শনিবার | ০৬ জুন ২০২৬ | ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বাদ দেয়া সদস্য আবারো কমিটিতে

কেসিসি’র তেল চোরকে ধরতে চার দফা কমিটি!

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০১:২৮ এ.এম | ০৩ জুন ২০২৬


খুলনা সিটি কর্পোরেশন-কেসিসি’র তেল চোর চক্রকে ধরতে চার দফা কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ গত ২৪ মে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কেসিসি সচিব রেজা রশীদ এ কমিটি অনুমোদন দেন। কমিটির আহবায়ক হচ্ছেন কেসিসি ভেটেরিনারি অফিসার ড. পেরু গোপাল বিশ্বাস, সদস্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোহাম্মদ সেলিমুল আজাদ ও এষ্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিন। 
এর আগে গত ৪ মে তৃতীয় দফায় নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোহাম্মদ আনিচুজ্জামানকে আহবায়ক, কেসিসির কনজারভেন্সি অফিসার মোঃ আনিসুর রহমান ও উপসহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোহাম্মদ সেলিমুল আজাদকে সদস্য করে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু স¤প্রতি নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মুহাম্মদ আনিচুজ্জামান রংপুর সিটি কর্পোরেশনে বদলি হয়েছেন এবং কনজারভেন্সি অফিসার মোঃ আনিসুর রহমান এই ঘটনার বাদী। এ কারণে সেই কমিটিও বাতিল করা হয়। 
পত্রে উল্লেখ করা হয়, গত ১৯ মার্চ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খালিশপুর বি-অঞ্চলের এসটিএস’র সুপারভাইজার নুরুজ্জামান সুমন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে মুঠোফোনে জানান, খালিশপুর নিউমার্কেট এসটিএস’র ভিতর এসটিএস’র একটি ব্যাক হুইল লোডার জ্বালানি ট্যাংকির মুখ খুলে জ্বালানি তেল চুরি হচ্ছে। প্রশাসকের নির্দেশনায় দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি জ্বালানি তেলের ক্যানে কয়েক লিটার তেলসহ ক্যানটি জব্দ করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে ওই ব্যাক হুইল লোডার চালক এনায়েত হোসেন বাবলুকে গাড়ি চালানো হতে বিরত রাখা হয়। এ ঘটনায় তদন্তের জন্য উল্লেখিত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি বিষয়টি তদন্ত করে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। তদন্ত কমিটির প্রধান কেসিসির ভেটেরিনারি অফিসার ড. পেরু গোপাল বিশ্বাস বলেন, তদন্তের নথিপত্র পেয়েছি। তদন্তের কাজ শিগগিরই শুরু করা হবে। তবে বিধির বাইরে কোন আবদার তিনি মেনে নিবেন না বলে সাব জানিয়েছেন।
এদিকে, ঘটনার পরপরই প্রথম দফা তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির একজন সদস্যকে নিয়ে আপত্তি থাকায় প্রশাসকের নির্দেশনায় ওই সদস্যকে কমিটি থেকে বাদ দিয়ে পুনরায় নতুন করে কমিটি গঠন করা হয়। বাদ দেওয়া সদস্যদের নাম হল কেসিসির এস্ট্রেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিন। কিন্তু আবারো তাকে চলমান কমিটিতে নাম অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। বিতর্ক ভূমিকার কারণে যার নাম প্রশাসক নিজে বাদ দিয়েছেন তার নাম পুনরায় কমিটিতে কিভাবে কার স্বার্থে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তা নিয়ে নগরভবনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সচেতন কর্মচারিরা।
দ্বিতীয় দফায় গঠিত কমিটির প্রধান করা হয় কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোঃ আনিচুজ্জামানকে। ওই কমিটির একজন সদস্য কেসিসির কনজারভেন্সি অফিসার ক অঞ্চল মোঃ অহেদুজ্জামান ব্যক্তিগত অজুহাত খাড়া করে কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন। ওই কমিটির তদন্তের মেয়াদ দেয়া হয়েছিল পাঁচ কর্মদিবস। তদন্ত চলাকালীন সময়ে একজন সদস্য পদত্যাগ করায় তৃতীয় দফায় পুণরায় কমিটি গঠন করা হয়। উল্লেখ্য, সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের সময় দু’ ড্রাম চোরাই তেলসহ দু’জনকে আটক করে কেসিসি কর্তৃপক্ষ। ওই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও তদন্ত প্রতিবেদন এখনো আলোর মুখ দেখেনি। ওই তদন্ত রিপোর্ট আবারো খতিয়ে দেখলে কেসিসির চোরাই চক্রটির মুখোশ উন্মোচন হবে বলে সাধারণ চালকরা ধারণা করছেন।
কেসিসি’র এক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চালক বাবলু গাড়ি থেকে তেল চুরি করে আসছিল। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় কর্মচারী নুরুজ্জামান সুমন তার ওপর নজরদারি রাখেন। এর ধারাবাহিকতায় নগরীর খালিশপুরে এসটিএসের (সেকেন্ডারি ট্যান্সফার স্টেশন) গাড়ি থেকে তেল চুরির সময় তাকে হাতেনাতে আটক করেন নুরুজ্জামান সুমন। আটকের পর চালক বাবলু আলামত নষ্ট করতে চুরিকৃত ড্রাম ভর্তি তেল ময়লার মধ্যে ঢেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন নুরুজ্জামান সুমন সেই তেল রক্ষা করতে গেলে বাবলু ও চালকের সহকারী সুরুজ দু’জনে মিলেই তাকে মারধর করেন। এঘটনায় চার দফা তদন্ত কমিটি গঠন হলেও সমস্যা সমাধান হয়নি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ