খুলনা | রবিবার | ১৪ জুন ২০২৬ | ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পাইকারিতে প্রায় ২০, খুচরায় ১৫-২০ শতাংশ বাড়লো বিদ্যুতের দাম

খবর প্রতিবেদন |
০৩:২২ পি.এম | ০৩ জুন ২০২৬

গ্রাহক ও পাইকারি—উভয় পর্যায়ে বাড়লো বিদ্যুতের দাম। গণশুনানির বিশ্লেষণ শেষে খুচরা বা গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৫ থেকে ১৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন এই মূল্যহার চলতি জুন মাসের বিল থেকেই কার্যকর হবে।

আজ বুধবার (০৩ জুন) বিইআরসির সচিব মো. নজরুল ইসলাম সরকার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিদ্যুতের নতুন এ মূল্যহার ঘোষণার কথা জানানো হয়।

খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে যত বাড়লো
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন গ্রাহকশ্রেণির বিদ্যমান খুচরা বিদ্যুতের দাম ভারিত গড় (ওয়েইটেড অ্যাভারেজ) প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, একক ক্রেতা হিসেবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) বিদ্যুৎ উৎপাদন, ক্রয় ও আমদানি ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে পাইকারি (বাল্ক) মূল্যহার ভারিত গড় প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা ৭ টাকা থেকে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা করা হয়েছে। পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়লেও বিউবোর অবশিষ্ট ঘাটতি পূরণে সরকারকে বছরে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

সঞ্চালন মূল্যহারও বৃদ্ধি, ডিমান্ড চার্জ অপরিবর্তিত
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবিপিএলসি)-এর সঞ্চালন ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যুতের বিদ্যমান সঞ্চালন মূল্যহার বা হুইলিং চার্জ ভারিত গড় প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা ০ দশমিক ৩১৩৫ টাকা থেকে ০ দশমিক ০৭৫১ টাকা বাড়িয়ে ০ দশমিক ৩৮৮৬ টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন গ্রাহকশ্রেণির বিদ্যমান ডিমান্ড চার্জ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

মে মাসে প্রস্তাব, জুনেই কার্যকর
এর আগে, মে মাসের শুরুতে বিদ্যুতের পাইকারি, সঞ্চালন এবং খুচরা মূল্যহার পরিবর্তনের জন্য বিউবো, পিজিসিবিপিএলসি, নেসকো, ডেসকো, ওজোপাডিকো, বাপবিবো ও ডিপিডিসি কমিশনে আলাদা আলাদা প্রস্তাব দাখিল করে। এসব প্রস্তাব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ২০ ও ২১ মে গণশুনানি গ্রহণ করে বিইআরসি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সব পক্ষের আবেদন, দলিলাদি এবং গণশুনানি শেষে বিশদ পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণপূর্বক বিদ্যুতের উৎপাদন, ক্রয়, আমদানি, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যয় এবং সরকারের ভর্তুকির সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে ‘বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩’ এর ২২(ঘ) ও ৩৪ ধারা মোতাবেক এ মূল্যহার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এই আদেশ পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

গ্রাহক ও পাইকারি উভয় পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির একনজরে চিত্র

মূল্যহারের স্তরবৃদ্ধির শতকরা হারপূর্বের দাম (প্রতি ইউনিট)বর্তমান দাম (প্রতি ইউনিট)পার্থক্য/বৃদ্ধি
খুচরা / গ্রাহক পর্যায়১৫% থেকে ১৯.৯৪%৯.১১ টাকা১০.৬৩ টাকা+ ১.৫২ টাকা
পাইকারি (বাল্ক) পর্যায়১৯.৮৫%৭.০০ টাকা৮.৩৯ টাকা+ ১.৩৯ টাকা
সঞ্চালন মূল্যহার (হুইলিং চার্জ)বিশ্লেষণ সাপেক্ষ০.৩১৩৫ টাকা০.৩৮৮৬ টাকা+ ০.০৭৫১ টাকা
ডিমান্ড চার্জ ** অপরিবর্তিত রয়েছে**
কার্যকরের সময়কাল চলতি জুন মাসের বিল থেকেই কার্যকর হবে।
সরকারি বার্ষিক ভর্তুকি পাইকারি দাম বাড়ার পরও বিউবোর ঘাটতি পূরণে সরকারকে বছরে প্রায় **৪১,০০০ কোটি টাকা** ভর্তুকি দিতে হবে।

 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ