খুলনা | শনিবার | ১৩ জুন ২০২৬ | ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ডুমুরিয়ার অধিকাংশ খাল-বিল কচুরিপানায় ভরা দুর্ভোগে কৃষক ও নৌকা ব্যবহারকারীরা

এফ এম মনির, ডুমুরিয়া |
১১:৪৯ পি.এম | ০৩ জুন ২০২৬


ডুমুরিয়া উপজেলার অধিকাংশ খাল-বিল, নদী-নালা বর্তমানে কচুরিপানায় কানায় কানায় পরিপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে এসব নদী খালগুলো কচুরিপানার দখলে থাকায় নৌ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে কৃষকরা স্বাভাবিকভাবে তাদের কৃষিকর্ম ও মৎস্যজীবি যারা খাল বিলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে দরিদ্র শ্রেণির এই মানুষগুলো রয়েছে মারাত্মক দুর্ভোগে। 
সরেজমিন জানা যায়,উপজেলার বিল সিঙ্গা, মাধবকাটি-থুকড়া, আমভিটা, শলুয়া, রংপুর, বিল মধুগ্রাম, শাহপুর, রুদাঘরা (তাওয়ালিয়া), সাহস, মির্জাপুর, গুটটদিয়ালতা, বরুনা, টোলনা, হাসানপুর (খেয়াঘাট) ব্রিজ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ জলাশয় কচুরিপানায় আচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে। এ কারণে কৃষকরা নৌকায় সহজে যাতায়াত করতে পারছেন না। অনেক স্থানে খাল ও বিলের পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কৃষি উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। 
সিঙ্গার বিলপাড়ের বাসিন্দা আব্দুল রাজ্জাক, থুকড়া গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ শেখ ও মোঃ মহাতাফ বিশ্বাস  বলেন, “ডাকাতিয়া বিল, মাধবকাটি বিল, বিল পাটিয়ালাসহ বিভিন্ন খাল-বিল ও নদী প্রায় দুই বছর ধরে কচুরিপানায় ভরে আছে। ফলে এগুলো কার্যত ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিষ্কার করে নিয়মিত জোয়ার-ভাটার প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে এ সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে।
ডুমুরিয়া খাল-বিল রক্ষা কমিটির সদস্য অধ্যাপক জিএম আমানুল­াহ বলেন, সমাধানের জন্য সরকারিভাবে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কৃষকের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। তিনি বলেন নৌপথ ব্যবহার করে জমিতে যাতায়াত ও কৃষিপণ্য পরিবহনে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা হচ্ছে। আমরা কচুরিপানা অপসারণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছেও বিষয়টি তুলোদন বৃদ্ধি পাবে, নৌ চলাচল স্বাভাবিক হবে ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমে আসবে। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণ পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রæত পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন ডুমুরিয়ার লাখো কৃষক।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ