খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০৪ জুন ২০২৬ | ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

খানজাহান আলী মাজারের মানুষ খেকো কুমির এখন খুলনার বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন কেন্দ্রে

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০১:১৪ এ.এম | ০৪ জুন ২০২৬


বাগেরহাটের হযরত খানজাহান আলী (রাঃ) মাজার সংলগ্ন দিঘি থেকে উদ্ধার করা মানুষ খেকো সেই কুমিরটিকে খুলনা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে কুমিরটিকে স্থানান্তর করা হয়।
খুলনা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) নির্মল কুমার পাল বলেন, পর্যবেক্ষণের জন্য দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে কুমিরটিকে খুলনা পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বন অধিদপ্তর, বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র এবং করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের একটি যৌথ দল বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের সহায়তায় দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনায় পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, খুলনা পুনর্বাসন কেন্দ্রে ৪ থেকে ৭ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর কুমিরটিকে কোথায় রাখা হবে সে বিষয়ে সরকারি ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। হস্তান্তরকালে খুলনার বন সংরক্ষক ইমরান খান, বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, বাগেরহাট জেলা প্রশাসনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। 
পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের ডিএফও রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বন কর্মকর্তা, কর্মচারী ও স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল বুধবার সকালে কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনা বন্যপ্রাণী উদ্ধার কেন্দ্রে পাঠিয়েছে।
দলটি কুমিরটির আচরণ ও অবস্থান পর্যবেক্ষণ করবে এবং এটিকে ধরার কৌশল, স্থানান্তরের সময় ও প্রয়োজনীয় কারিগরি বিষয়গুলো নির্ধারণ করবে বলে জানান এ কর্মকর্তা। 
এর আগে, বাগেরহাট জেলা প্রশাসন বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রাঃ) মাজার সংলগ্ন পুকুরের কুমিরটিকে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেয়। তীর্থস্থানে আগত দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী ও ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে অনুষ্ঠিত এক জরুরি  বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।  রাত ১০টায় বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন। 
সভা শেষে জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন বলেন, সা¤প্রতিক মর্মান্তিক ঘটনার পর মাজার এলাকার দর্শনার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পুকুর থেকে কুমিরটিকে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসাথে, মাজার এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, সোমবার রাত ৮টার দিকে মাজার সংলগ্ন পুকুরে গোসল করার সময় ৮ বছর বয়সি শিশু ফাতেমা আক্তার কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়। 
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কুমিরটি শিশুটির পা ধরে তাকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। পরে মঙ্গলবার ভোরে মন্দির সংলগ্ন পুকুরের মহিলা ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। 
এর আগে, গত ১০ এপ্রিল একই দীঘির প্রধান ঘাটে কুমিরের আক্রমণে একটি কুকুর মারা যায়। এসব ঘটনায় কুমিটিকে নিয়ে নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। 
উল্লেখ্য, বাগেরহাটের খানজাহান (রহঃ) মাজার দীঘির কুমিরকে ঘিরে রয়েছে দীর্ঘদিনের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও লোককথা। ঐতিহাসিকদের মতে, প্রায় সাড়ে ৬০০ বছর আগে হযরত খানজাহান (রহঃ) মাজার শলীফের সামনে প্রায় ৫৫ একর জায়গা জুড়ে দীঘি খননের পর দীঘির সুপেয় মিঠা পানি রক্ষার জন্য সেখানে এক জোড়া মিঠাপানি প্রজাতির কুমির ছেড়ে ছিলেন। পুরুষ কুমিরটির নাম রাখে ‘কালা পাহাড়’ ও স্ত্রী কুমিরটির নাম রাখে ‘ধলা পাহাড়’। পরবর্তী সময়ে তাদের বংশধরদেরও একই নামে ডাকা হতো। তবে ওই সময়ের সর্বশেষ বংশধর কুমিরটির মৃত্যু হয় ২০১৫ সালের ফেব্র“য়ারিতে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ