খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০৪ জুন ২০২৬ | ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিট গড় মূল্য ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ

জ্বালানীর পর বাড়লো বিদ্যুতের দাম, চলতি মাসেই কার্যকর

খবর প্রতিবেদন |
০১:১৭ এ.এম | ০৪ জুন ২০২৬


জ্বালনীর পর বাড়লো বিদ্যুতের দাম। গ্রাহক পর্যায়ে ১৫  থেকে ১৯.৯৪ শতাংশ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি  রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। অন্যদিকে পাইকারিতে বেড়েছে ১৯.৮৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬.৬৮ শতাংশ। এছাড়া সঞ্চালন চার্জ বাড়ানো হয়েছে ২৩.৯৬ শতাংশ। 
বুধবার রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নতুন ট্যারিফ ঘোষণা করেন বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ।
গত ৩ থেকে ৬ মের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদক, সঞ্চালক ও বিতরণকারী সংস্থা-কোম্পানিগুলো বিইআরসিতে বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা দাম এবং সঞ্চালন মাশুল বাড়ানোর আবেদন করে।
ঘোষণা অনুযায়ী, গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় মূল্য ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং খুচরা পর্যায়ে ১৫ থেকে ১৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া সঞ্চালন চার্জও ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
নতুন খুচরা মূল্যহার অনুযায়ী, আবাসিক গ্রাহকদের লাইফলাইন বা ০ থেকে ৫০ ইউনিটের দাম ইউনিট প্রতি ৫ টাকা ৩২ পয়সা করা হয়েছে।
আবাসিক গ্রাহকদের প্রথম ধাপে ০ থেকে ৭৫ ইউনিটের দাম ৬ টাকা ১৮ পয়সা, দ্বিতীয় ধাপে ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিটে ৮ টাকা ৫০ পয়সা, তৃতীয় ধাপে ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিটে ৯ টাকা ১০ পয়সা, চতুর্থ ধাপে ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিটে ৯ টাকা ৬২ পয়সা, পঞ্চম ধাপে ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিটে ১৫ টাকা ১ পয়সা এবং ষষ্ঠ ধাপে ৬০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারে ১৭ টাকা ৩৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সেচ ও কৃষি কাজে ব্যবহৃত পাম্পের জন্য নিম্নচাপে ইউনিটপ্রতি দাম ৬ টাকা ৪ পয়সা করা হয়েছে।
বাণিজ্যিক ও অফিস গ্রাহকদের নিম্নচাপে ফ্ল্যাট রেট ইউনিটপ্রতি ১৫ টাকা ৩৬ পয়সা, অফ পিকে ১৩ টাকা ৮২ পয়সা এবং পিকে ১৮ টাকা ৪৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে গত ৩ থেকে ৬ মে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা মূল্যহার এবং সঞ্চালন মাশুল বৃদ্ধির আবেদন করে বিইআরসির কাছে।
পরে ২০ ও ২১ মে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে রাজনৈতিক নেতা, ভোক্তা অধিকারকর্মী, ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। তাদের দাবি ছিল, খাতটির দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও ভুল পরিকল্পনার দায় সাধারণ গ্রাহকদের ওপর চাপানো উচিত নয়।
প্রস্তাব অনুযায়ী, পিডিবি প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা, আরইবি ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ডিপিডিসি ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ডেসকো ১ টাকা ৯৮ পয়সা, ওজোপাডিকো ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং নেসকো ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির আবেদন করেছিলো।
বিইআরসির কারিগরি কমিটি সুপারিশ করেছে, বিতরণ কোম্পানিগুলোর বিদ্যুতের দাম গড়ে প্রতি ইউনিট ১ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ানো যেতে পারে।
এর আগে সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্র“য়ারিতে নির্বাহী আদেশে পাইকারি বিদ্যুতের গড় দাম ইউনিট প্রতি ৬ টাকা ৭০ থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা করা হয়েছিল।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ