খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০৪ জুন ২০২৬ | ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সাতক্ষীরার বসস্তপুর সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে দুই বাংলাদেশি আহত : বিজিবির অস্বীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক সাতক্ষীরা, কালিগঞ্জ প্রতিনিধি |
০১:২৮ এ.এম | ০৪ জুন ২০২৬


অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আসার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর  গুলিতে দুই বাংলাদেশি নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার ভোর রাত ২টার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলার বসন্তপুর সীমান্ত সংলগ্ন বাঁশঝাড়িয়া এলাকা দিয়ে কালিন্দী নদী সাঁতরে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে দুইজন গুলিবিদ্ধ হন।
আহত বাংলাদেশি নাগরিকরা হলেন, কালিগঞ্জের মথুরেশপুর ইউনিয়নের শীতলপুর গ্রামের মোঃ গোলাম রব্বানীর ছেলে মোঃ মহিউদ্দিন (৪০) ও একই গ্রামের মৃত ফজের আলী সরদারের ছেলে মোঃ শাহিন (২৮)।
স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, মহিউদ্দিন ও শাহিন প্রায় এক বছর আগে অবৈধপথে বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করে কলকাতা হয়ে তামিলনাড়ু রাজ্যে গিয়েছিলেন। তারা সেখানে রাজমিস্ত্রির শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। সেখান থেকে দেশে ফিরে আসার পথে বুধবার  রাত ২টার দিকে বাঁশঝাড়িয়া এলাকায় কালিন্দী নদী অতিক্রম করার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তারা দু’জন গুলিবিদ্ধ হন।  পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাদের দু’জনকে উদ্ধার করে ভোর রাত পৌনে ৬ টার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। কিন্তু সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের রেফার্ড করেন। 
কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ সুজায়েত হোসেন জানান, ভোররাত পৌনে ছয়টার দিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দু’জনকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। 
কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)  জুয়েল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসার সময় তারা বিএসএফ’র গুলির শিকার হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আহত দুইজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে সাতক্ষীরায় পাঠানো হয়েছে।
সাতক্ষীরার নিলডুমুরস্থ বিজিবি ১৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল শাহরিয়ার রাজিব সীমান্তে গুলি বর্ষণের ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, গত মঙ্গলবার রাতে উপ-অধিনায়ককে সঙ্গে নিয়ে তিনি নিজেই বাঁশঝাড়িয়া ও শুইলপুরসহ সীমান্ত এলাকায় ছিলেন। তার ব্যাটালিয়ানের আওতাধীন কোন সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি বলে জানান তিনি।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ