খুলনা | শুক্রবার | ০৫ জুন ২০২৬ | ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইসরায়েলি ষড়যন্ত্র রুখতে ইরানিদের ঐক্যের ডাক মোজতবা খামেনির

খবর প্রতিবেদন |
০৬:২৯ পি.এম | ০৪ জুন ২০২৬

 

ইরানের ইসলামি বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম রুহুল্লাহ খোমেনির ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী ও প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নেতৃত্বের সূচনাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) একটি বিশেষ বার্তা দিয়েছেন বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।

বার্তায় তিনি সতর্ক করে বলেন, রণক্ষেত্রে পরাজিত হয়ে ইসরায়েল ও তার দোসররা এখন পথভ্রষ্ট হয়ে ভিন্ন পথ ধরেছে। তারা মূলত সাধারণ মানুষের প্রতিরোধ ভেঙে দিতে এবং ইরানি কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত বা হিসাব-নিকাশ ওলটপালট করে দিতে নানামুখী ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।

দেশের জনগণকে সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, সমাজে সন্দেহ, ভয়, হতাশা, অবিশ্বাস এবং বিভেদ ছড়ানোই এখন শত্রুপক্ষের প্রধান হাতিয়ার। ইরানের জনগণকে ঐক্য, সতর্কতা, পারস্পারিক আস্থা ও জাতীয় সংহতির মাধ্যমে শত্রুপক্ষের অপচেষ্টা মোকাবিলা করার আহ্বান জানান মোজতবা খামেনি।

বর্তমান সুপ্রিম লিডার জোর দিয়ে বলেন, জনগণের আস্থা শক্তিশালী করা ও হতাশা বা সামাজিক অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে এমন কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। প্রতিরোধ অক্ষশক্তির পাশাপাশি ইরানি জাতি বিশ্বজুড়ে স্বাধীনতাকামী দেশগুলোর জন্য গর্বের উৎস হয়ে উঠেছে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম রুহুল্লাহ খোমেনির সমাধিসৌধে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তার লেখা ও ভাষণকে জাতির ভবিষ্যতের জন্য অমূল্য পথপ্রদর্শক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ইরানের প্রভাবশালী ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হোজ্জাতোলেসলাম মোহাম্মদ জাভেদ হাজ আলী আকবারি এই বিশেষ বার্তাটি পাঠ করেন। বার্তায় ইমাম খোমেনি ও সম্প্রতি শহীদ হওয়া নেতাদের আদর্শ ও দিকনির্দেশনা ধরে রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মোজতবা খামেনি তার লিখিত বার্তায় বলেন, ইমাম খোমেনির চিন্তাধারা আল্লাহর জন্য জেগে ওঠার নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল, যা ইসলামী বিপ্লব এবং জাতির প্রধান অর্জনগুলোর পেছনের চালিকাশক্তি ছিল। ইমাম খোমেনি ও শহীদ আলী খামেনি উভয়েই ইরানি জনগণের সক্ষমতা জাগিয়ে তুলতে এবং গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলোতে গণ-অংশগ্রহণে অনুপ্রাণিত করতে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেছেন।

সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর উল্লেখ করে তিনি বলেন, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাহাদাতের পর ইরানি জাতি আবারও তাদের দৃঢ়সংকল্প ও অঙ্গীকার প্রদর্শন করেছে। লাখ লাখ ইরানি ইসলামী ব্যবস্থা রক্ষায়, শহীদদের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে এবং বিপ্লবের আদর্শ অনুসরণে অবিচল রয়েছে।

জনসাধারণ ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্বিশেষে সকলকে ঐক্য, সতর্কতা, পারস্পরিক আস্থা এবং জাতীয় সংহতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে জোর দিয়ে বলেছেন, জনগণের অসন্তোষ সৃষ্টিকারী যে কোনো পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত ইরানের শত্রুদের স্বার্থ রক্ষা করবে।

আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি তার বক্তব্য শেষে তরুণ, বুদ্ধিজীবী এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের ইমাম খোমেনির আদর্শ ও ইসলামী বিপ্লবকে এগিয়ে নিতে, ইরানের ভবিষ্যত উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে অবদান রাখতে আহ্বান জানান।
সূত্র: আইআরএনএ, আনাদোলু

প্রিন্ট

আরও সংবাদ