খুলনা | শুক্রবার | ০৫ জুন ২০২৬ | ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

দেশের ৮ জেলায় বজ্রপাতে ১৪ জনের মৃত্যু

খবর প্রতিবেদন |
১১:২৮ পি.এম | ০৪ জুন ২০২৬


বজ্রপাতে আট জেলায় ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিন উপজেলায় ৬ জন, ময়মনসিংহের দুই উপজেলায় ২ জন, নীলফামারীতে একজন, নাটোরে একজন, পঞ্চগড়ে একজন, চুয়াডাঙ্গায় একজন, বগুড়ায় একজন ও শেরপুরে একজন রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়ে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জেলার তিন উপজেলায় বজ্রপাতে তিন নারীসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ বিকেলে বৃষ্টির সময় পৃথক ঘটনায় তাঁদের মৃত্যু হয়।

বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তিরা হলেন সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আতাহার এলাকার মো. রাব্বিলের ছেলে আব্দুল­াহ, শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের চকনরেন্দ্র গ্রামের আব্দুর রবের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার, রানীবাড়ী চাঁদপুর এলাকার আবুল কাশেমের মেয়ে সাদিয়া খাতুন, মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর দক্ষিণপাড়ার ফিটু আলীর ছেলে মেসবাউল, নাচোল উপজেলার ফতেপুর লাহাবাড়ি গ্রামের সুমিয়ারা বেগম ও নিজামপুরের হাসান আলী।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান জানান, শিবগঞ্জে নিহত তিনজন বাড়ির পাশের আমবাগানে আম কুড়াতে গিয়ে বজ্রপাতের শিকার হন। ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি একরামুল হোসাইন জানান, সদর উপজেলার আতাহার এলাকায় বৃষ্টির মধ্যে মাঠ থেকে গরু আনতে গেলে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন আব্দুল­াহ। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে নাচোল উপজেলার লাহাবাড়ি এলাকায় মাঠে ঘাস কাটার পর বৃষ্টির মধ্যে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে মারা যান সুমিয়ারা বেগম। এ ছাড়া একই সময়ে নাচোল উপজেলা নিজামপুর এলাকায় আম কুড়াতে গিয়ে হাসান আলী নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাচোল থানার ওসি সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ।

চুয়াডাঙ্গা
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার নান্দবার গ্রামে বজ্রপাতে নাফিজ আহমেদ শান্ত (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় তার চাচাতো নাহিদ (২৩) গুরুতর আহত হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিকেলে নাফিজের বাড়ির ছাদে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রæত দুজনকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাফিজ আহমেদ শান্তকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত নাফিজ আহমেদ শান্ত আলমডাঙ্গা উপজেলার গাংনী ইউনিয়নের নান্দবার গ্রামের জাহাঙ্গীরের ছেলে। আহত নাহিদ একই গ্রামের লিটনের ছেলে। সম্পর্কে তারা দুজন চাচাতো ভাই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান।

জানা যায়, সন্ধ্যার আগে থেকেই এলাকায় ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়। এ সময় নাফিজ আহমেদ শান্ত ও তার চাচাতো ভাই নাহিদ, নাফিজের বাড়ির দ্বিতীয় তলার ছাদে বসে ছিলেন। একপর্যায়ে বজ্রপাত হলে ছাদের পাশের একটি নারিকেল গাছে আগুন ধরে যায়। একই সঙ্গে বজ্রপাতের আঘাতে দুই যুবক অচেতন হয়ে পড়েন।

পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রæত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং দুজনকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নাফিজকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত নাহিদকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক রোকাইয়া বলেন, সন্ধ্যা ৭টার দিকে বজ্রপাতে আহত দুজনকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন পরিবারের সদস্যরা। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শান্তকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আহত নাহিদকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

নাটোর
জেলার সিংড়া উপজেলার লালোর ইউনিয়নের বড় বারইহাটি গ্রামে বজ্রপাতে মধু আলী (২৫) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত যুবক ওই গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে। আজ সন্ধ্যার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

সিংড়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, আজ সন্ধ্যার কিছু আগে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে স্থানীয় যুবক মধু গরু আনতে বাড়ির পাশে খোলা মাঠে যান। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে মধু গুরুতর আহত হন। এ সময় আশপাশে থাকা লোকজন তাঁকে দ্রæত উদ্ধার করে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে কর্তব্যরত চিকিৎসক মধুকে মৃত ঘোষণা করেন।

নীলফামারী
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় বজ্রপাতে আলম ইসলাম (৪০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন সেলিনা বেগম (৩০) নামের এক গৃহবধ‚। আজ সন্ধ্যায় উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের নিজপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা আহত গৃহবধ‚কে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

স্থানীয় ও পুলিশ স‚ত্রে জানা যায়, আজ সন্ধ্যায় হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় নিজপাড়া এলাকায় আকস্মিক বজ্রপাতের শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান আলম ইসলাম। এ সময় পাশে থাকা তাঁর এক প্রতিবেশী গৃহবধ‚ গুরুতর আহত হন।

ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাশেদুজ্জামান সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তির মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে। আহত গৃহবধ‚ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

পঞ্চগড়
জেলায় বজ্রপাতে শাহাদাত হোসেন (১৯) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। আজ বিকেলে সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাহাদাত ওই এলাকার কেরামত আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় স‚ত্রে জানা যায়, শাহাদাত ট্রাক্টরের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। বিকেলে তিনি ট্রাক্টরচালকের সঙ্গে জমি থেকে ভুট্টা পরিবহন করছিলেন। এ সময় ট্রাক্টরের চাকা নরম মাটিতে দেবে যায়। বাড়ি কাছাকাছি হওয়ায় ট্রাক্টর তোলার কাজে ব্যবহারের জন্য একটি বেলচা আনতে বাড়িতে যান তিনি। বেলচা নিয়ে ঘটনাস্থলে ফেরার পথে হঠাৎ বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন শাহাদাত। স্থানীয় লোকজন দ্রæত তাঁকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

অমরখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান নুরু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বগুড়া
জেলার আদমদীঘি উপজেলায় বজ্রপাতে রাব্বী হোসেন (১৫) নামের এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় তার মা মনিকা বেগম আহত হন। আজ সন্ধ্যায় উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের একটি মরিচখেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতের শিকার হয় তারা। এতে ঘটনাস্থলেই রাব্বী মারা যায়। আহত মনিকা বেগমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আদমদীঘি থানার ওসি কামরুজ্জামান মিয়া মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহে পৃথক বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন কৃষক ও আরেকজন তরুণ।

মুক্তাগাছা উপজেলার রঘুনাথপুর রৌয়ারচর এলাকায় বজ্রপাতে কলেজশিক্ষক এ এস এম খালেকুল আজাদের (৫৬) মৃত্যু হয়েছে। তিনি গাবতলী ডিগ্রি কলেজের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। দুপুরে বৃষ্টির সময় একটি আমগাছের নিচে আশ্রয় নেওয়ার পর বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। জেলার মুক্তাগাছা থানার ওসি মো. কামরুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

অন্যদিকে গফরগাঁও উপজেলার লামকাইন গ্রামে খেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে সিয়াম (১৮) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পাগলা থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শেরপুর
শেরপুরে বজ্রপাতে মো. মিজান মিয়া (২১) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বিকেলে সদর উপজেলার চরপক্ষীমারি ইউনিয়নের সাতপাকিয়া মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মিজান মিয়া ওই এলাকার কমল মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় স‚ত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে মিজান তার বন্ধুদের সঙ্গে মাঠে ফুটবল খেলতে যান। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জামালপুর জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা জানান, আবেদনের ভিত্তিতে নিহতের মরদেহ বিনা ময়নাতদন্তে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা বিনতে রফিক বলেন, বজ্রপাতে মৃত্যুর বিষয়টি আমি জেনেছি। পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদেরকে সহযোগিতার জন্য লিখিত আবেদন করতে বলা হয়েছে। আগামী রোববার আবেদন করলে সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। সাধারণত এ ধরনের ঘটনায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরিবার যদি বেশি অসচ্ছল হয়, সেক্ষেত্রে খাদ্য সহায়তাও দেওয়া হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ