খুলনা | শুক্রবার | ০৫ জুন ২০২৬ | ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

০-৫০ ইউনিট ব্যবহারকারী লাইফলাইন শ্রেণি ও প্রথম ধাপের ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত আগের দাম পুনর্বহাল

আগের দামেই ফিরল নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের বিদ্যুতের দর

খবর প্রতিবেদন |
০১:৩১ এ.এম | ০৫ জুন ২০২৬


দাম বাড়ানোর ঘোষণার একদিনের মাথায় বিদ্যুতের দামে সংশোধন করা হলো। আবাসিক খাতে প্রথম দু’টি শ্রেণির গ্রাহকেরা আগের দামেই বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করবেন। নিম্ন আয়ের মানুষদের বাড়তি দাম থেকে রেহাই দিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে বিতরণ সংস্থার ঘাটতি পূরণে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে। বৃহস্পতিবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাম সংশোধনের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আবাসিকে প্রান্তিক গ্রাহকদের ০-৫০ ইউনিট ব্যবহারকারী লাইফলাইন শ্রেণি ও প্রথম ধাপের ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীর জন্য আগের দাম পুনর্বহাল করতে বিতরণ সংস্থাগুলো আবেদন করেছে। এ আবেদন বিবেচনায় নিয়ে নতুন দাম কার্যকর না করে আগের দাম বহাল রাখা হলো। এতে বিদ্যুতের গড় দাম ১০ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে কমে ১০ টাকা ৪০ পয়সা হয়েছে।
বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বুধবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সব কোম্পানির পক্ষ হয়ে দুই শ্রেণির দাম প্রত্যাহারের আবেদন করেছে পিডিবি। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে কমিশন। এখন আলাদা করে সব কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। দ্রুতই সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
বুধবার পাইকারি ও খুচরা দুই পর্যায়েই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়। এ কারণে বাড়তি দামের চাপ পড়বে সব শ্রেণির গ্রাহকের ওপর। বাদ যাননি গ্রামের প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীরা।
পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম জুন থেকেই কার্যকর হবে।
আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে সবচেয়ে কম দাম বাড়ানো হয়েছে লাইফলাইন শ্রেণিতে। এই শ্রেণির গ্রাহকেরা মাসে সর্বোচ্চ ৫০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। তাঁরা বাসায় সাধারণত একটি ফ্যান ও একটি বা দু’টি বাতি ব্যবহার করেন। তাঁদের প্রতি ইউনিটে দাম বেড়েছে ৬৯ পয়সা। পিডিবি এই শ্রেণির দাম না বাড়ানোর প্রস্তাব কর। কিন্তু পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে দাম বাড়ানো হয়। এর ফলে নিম্ন আয়ের এসব গ্রাহকের কাছ থেকে বছরে অতিরিক্ত ৭৮১ কোটি টাকা আদায় হতে পারে।
নতুন দর অনুযায়ী, আবাসিকে প্রান্তিক গ্রাহকদের (০-৫০ ইউনিট) প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ টাকা ৩২ পয়সা, যা আগের চেয়ে ৬৯ পয়সা বেশি। এ কারণে মাসে তাঁদের বিল বাড়বে ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা।
০-৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারীদের জন্য ইউনিটপ্রতি নতুন দাম ৬ টাকা ১৮ পয়সা। এই শ্রেণিতে বেড়েছে ৯২ পয়সা। মাসে বিল বাড়বে ৬৯ টাকা। এই দুই শ্রেণির গ্রাহকেরা সাধারণত একাধিক বাতি ও একটি বা দুটি ফ্যান ব্যবহার করেন। মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের ৬৫ শতাংশ এই দুই শ্রেণির ব্যবহারকারী।
বিদ্যুতের দাম সংশোধন করা হলে আবাসিকে ‘লাইফলাইন’ শ্রেণির গ্রাহকের জন্য আগের দাম প্রতি ইউনিট ৪ টাকা ৬৩ পয়সা ও প্রথম ধাপের ৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারীর দাম হবে প্রতি ইউনিট ৫ টাকা ২৬ পয়সা।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ